প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মাটির গঠনশৈলীতে তৈরি হচ্ছে দেবী দুর্গার মূর্তি। একের পর এক দিয়াশলাই কাঠি মাটির শরীরে বসানো হচ্ছে। মোট দেড় লক্ষাধিক কাঠি ব্যবহার করা হচ্ছে। এর সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে ১০ কেজিরও বেশি রেশমি সুতা। প্রতিটি কাঠি নিখুঁত মাপে বসানো হচ্ছে। শিল্পীর দক্ষ হাতে গড়া হচ্ছে এই মূর্তি।
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সাতক্ষীরা সদরের ব্রহ্মরাজপুর সর্বজনীন দুর্গা মন্দির কমিটি এই বিশেষ আয়োজন করেছে।
রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মন্দির প্রাঙ্গণে গিয়ে দেখা যায়, দর্শনার্থীরা মাটির অবয়বে তৈরি দিয়াশলাই কাঠির দুর্গা মূর্তি দেখার জন্য ভিড় করেছেন। মন্দির পরিচালনা কমিটির উপদেষ্টা কাকাই লাল সাহা জানান, সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) থেকে মূর্তিতে রঙের কাজ শুরু হবে।
প্রতিমা শিল্পী নবদ্বীপ সরকার জানান, ২০২৩ সালে কলকাতায় গিয়ে তিনি এ ধরনের কাজ দেখেছিলেন। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এবার সাতক্ষীরায় দিয়াশলাই কাঠি ও রেশমি সুতা দিয়ে একটি ব্যতিক্রমী প্রতিমা গড়ার উদ্যোগ নিয়েছেন। চারজন শিল্পী দিন-রাত পরিশ্রম করে কাজ করছেন। মাঝে মাঝে রাত ২টা থেকে ৩টা পর্যন্ত কাজ করতে হচ্ছে।
নবদ্বীপ সরকার আরও জানান, শুধু সাতক্ষীরায় নয়, কুষ্টিয়াসহ চারটি স্থানে দুর্গা প্রতিমা গড়ার দায়িত্বও পেয়েছেন তিনি। দিয়াশলাই কাঠির মাথায় থাকা বারুদের তেজস্ক্রিয়তা নষ্ট করতে বিশেষ ধরনের আঠা ব্যবহার করা হয়েছে।
ব্রহ্মবাজপুর সর্বজনীন শ্রীশ্রী দুর্গা মন্দির পরিচালনা কমিটির সহকারী কোষাধ্যক্ষ অমিত কুমার ঘোষ জানান, প্রতিমা গড়ার কাজে ১ লাখ ৫০ হাজারের বেশি দিয়াশলাই কাঠি ব্যবহার করা হচ্ছে। এর সঙ্গে ১০ কেজিরও বেশি রেশমি সুতা লাগছে। শিল্পীদের পারিশ্রমিক নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে এবারের পূজার আয়োজনে তাদের ব্যয় প্রায় ৫ লাখ টাকা।
অমিত কুমার আরও জানান, এ অঞ্চলে দুর্গা পূজার ইতিহাস ২০০ বছরেরও বেশি, যা শুরু করেছিলেন জমিদার পশুপতি মিত্র।
ব্রহ্মরাজপুরে ব্যতিক্রমী প্রতিমা তৈরির এই আয়োজন নতুন নয়। গত বছর ১০০ কেজি চিনিগুঁড়া ধান দিয়ে তৈরি প্রতিমা দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে দর্শনার্থীরা এসেছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় এবার নতুন কিছু করার পরিকল্পনা নিয়েছে পূজা উদযাপন কমিটি। তবে দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে।
ব্রহ্মরাজপুর সর্বজনীন শ্রীশ্রী দুর্গা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি অ্যাড. গৌতম কুমার বিশ্বাস বলেন, প্রতিমাটির দাহ্যতা নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, সে বিষয়ে গত ১৬ সেপ্টেম্বর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অর্ণব কুমার দত্ত, সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মাহামুদুর রহমান এবং ফায়ার সিভিল ডিফেন্সের এক কর্মকর্তা বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করেছেন।
প্রতিমা শিল্পী ও কমিটির সদস্যদের উপস্থিতিতে এর ট্রায়ালও করা হয়েছে।
শুধু দর্শনার্থীদের আকর্ষণ নয়, পূজা ঘিরে সম্প্রীতির পরিবেশ বজায় রাখার ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এবারের উৎসব আয়োজনের প্রস্তুতি গ্রামের মানুষ, পূজা কমিটি ও প্রশাসনের সমন্বয়ে নিরাপদ পরিবেশে চলছে।
এদিকে, সাতক্ষীরা জেলায় আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ সাতক্ষীরা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক বিশ্বনাথ ঘোষ জানান, গত বছর জেলায় ৫৮৭টি মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এবার ৫৯০টি মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হবে।
বিশ্বনাথ বলেন, এবার মা আসছেন ঘোড়ায় এবং যাবেন নৌকায়। আগামী ১০ অক্টোবর শুভ মহালয়ার মধ্য দিয়ে দেবীর মর্ত্যে আগমনের শুভ সূচনা হবে। ১৭ অক্টোবর মহাষষ্ঠী এবং ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে শারদীয়া দুর্গোৎসব শেষ হবে।
এছাড়া, মন্দির ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মন্দির চত্বর সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। মন্দির এলাকা পরিদর্শন করেছেন উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও ফায়ার সিভিল ডিফেন্সের কর্মকর্তারা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন