প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ একসঙ্গে জোগান দেওয়া সম্ভব নয়। তিনি উল্লেখ করেছেন, সরকারের পক্ষ থেকে হিসাব-নিকাশ ও বিকল্প উপায়ে অর্থায়নের সম্ভাব্য পথ নিয়ে কাজ চলছে।
এদিকে, সেপ্টেম্বরের শুরুতে মন্ত্রিসভায় পে স্কেলের প্রস্তাব উপস্থাপনের প্রস্তুতি চলছে। মন্ত্রিসভা অনুমোদন প্রদান করার পর, প্রস্তাবটি আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হবে। আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর, সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে নতুন পে স্কেলের গেজেট প্রকাশের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
সম্প্রতি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে, অর্থমন্ত্রী নতুন পে স্কেল ও বড় উন্নয়ন বাজেটের অর্থায়ন নিয়ে আলোচনা করেছেন।
নতুন বেতন কাঠামোর অর্থায়ন কোথা থেকে আসবে, এ বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, "একসঙ্গে পুরো অর্থ দেওয়া সরকারের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না।"
দুই ধাপে অর্থ প্রদান করার বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, "বিষয়টি নিয়ে কাজ চলছে এবং এখনো হিসাব-নিকাশ করা হচ্ছে।" তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিপুল আমদানির কারণে সরকারের রাজস্ব ব্যবস্থায় জায়গা কমে গেছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত বিশ্বের মধ্যে অন্যতম সর্বনিম্ন।
কর আদায় বাড়ানোর জন্য সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। অতীতে কর সংগ্রহে অদক্ষতা, সুশাসনের ঘাটতি ও দুর্নীতি ছিল উল্লেখ করে তিনি জানান, এসব ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনার চেষ্টা চলছে।
তার দাবি, গত অর্থবছরের চতুর্থ প্রান্তিকে কর আদায়ে ইতিবাচক অগ্রগতি দেখা গেছে। সরকারের অর্থায়ন প্রসঙ্গে আমির খসরু বলেন, "রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের বিষয়ে তারা আশাবাদী।" এনবিআরকে দুই ভাগ করার উদ্যোগসহ ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করার বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
এসব উদ্যোগের ফলে সরকারের অতিরিক্ত ঋণের প্রয়োজন কমবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
তিনি আরো বলেন, "অর্থায়নের ক্ষেত্রে বিকল্প পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে। কারণ সরকার নিয়মিত ব্যাংক খাত থেকে ঋণ নিলে বেসরকারি খাত অর্থায়ন থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।"
এদিকে চলতি বছরের জুলাই থেকে নতুন পে স্কেল কার্যকর করার যে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, সেটি বহাল থাকবে কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, "এটা নিয়ে কাজ করছি।"
নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের সময়সূচি ও অর্থায়নের বিষয়টি নিয়ে সরকারের হিসাব-নিকাশ শেষ হওয়ার পরই এ বিষয়ে আরো স্পষ্টতা পাওয়া যাবে।
প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে নতুন মূল বেতন কার্যকর করা হবে। দ্বিতীয় ধাপে বাড়িভাড়া ও অন্যান্য ভাতা কার্যকর করার কথা রয়েছে। তবে এই প্রস্তাব এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। সরকারের অনুমোদন এবং পরবর্তী প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই নতুন বেতন কাঠামোর বাস্তবায়ন নিশ্চিত হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন