প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সৌদি আরবের রিয়াদে সোফা কারখানায় আগুনে নিহত সাত বাংলাদেশির মরদেহ দেশে পৌঁছেছে।
মরদেহগুলো শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকাল ৮টা ২১ মিনিটে বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়। নিহতদের মধ্যে পাঁচজনের বাড়ি নওগাঁয় এবং বাকি দুজনের বাড়ি নাটোর জেলায়।
গত ৯ আগস্ট রিয়াদের ওই সোফা কারখানায় ভয়াবহ আগুনের ঘটনায় মোট ১৬ বাংলাদেশি কর্মী নিহত হন। তাদের মধ্যে ৯ জনের মরদেহ গত ২৭ আগস্ট দেশে পাঠানো হয়েছিল। পরিচয় নিশ্চিত না হওয়ায় বাকি সাতজনের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়। সেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ায় এবার তাদের মরদেহ দেশে ফেরত আনা হলো।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের কাউন্সেলর (শ্রম) মুহাম্মদ রেজায়ে রাব্বী জানান, ১০ অক্টোবর থেকে রিয়াদ থেকে সরাসরি ফ্লাইট বন্ধ থাকায় মরদেহগুলো সড়কপথে জেদ্দার কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকেই বিমানে করে মরদেহগুলো ঢাকায় আনা হয়েছে।
নিহত শ্রমিকদের মধ্যে রয়েছেন নওগাঁ জেলার সদর উপজেলার পার নওগাঁ গ্রামের শাহিন; আত্রাই উপজেলার দুবাই গ্রামের হাসিবুল হাসান, মধ্যবোয়ালিয়া গ্রামের মিনহাজ প্রামাণিক, মাধবপুর গ্রামের মাসিদুল সরদার এবং সাহানগর গ্রামের সাগর আলী। এছাড়া নাটোরের লালপুর উপজেলার দীঘিরপাড়া গ্রামের মোহাম্মদ শামীম ও খাজুরা গ্রামের শরিফ হোসেন রয়েছেন।
প্রিয়জনকে হারানোর বেদনার পর এবার শেষবারের মতো একনজর দেখার অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন স্বজনরা। নওগাঁ শহরের পার নওগাঁ তাজের মোড় এলাকার মৃত শাহিনের স্ত্রী পারভীন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘মানুষটাক তো হারায়েই ফেলছি। যা ক্ষতি হওয়ার হয়ে গেছে। এখন লাশটা অন্তত দেশত থাকলে ছাওয়াল-পোয়ালরা বাপের লাশটা দেখতে পাবে।’
মরদেহ বিমানবন্দর থেকে গ্রহণ করে নিজ নিজ গ্রামে নিয়ে দাফন সম্পন্ন করার সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছেন স্বজনরা।
আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মনিরুজ্জমান জানিয়েছেন, স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে এবং মরদেহ দাফন সংক্রান্ত প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সহায়তা দেওয়া হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন