প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি সুলতান মহিউদ্দিন, দুর্গাপূজার অনুষ্ঠানে গিয়ে মূর্তিপূজায় অংশ নেওয়া, দুর্গাদেবীর প্রশংসা করা এবং শিরকী কাজের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশকারী মুসলিম রাজনৈতিক নেতা ও জনপ্রতিনিধিদের তওবা করে ঈমান নবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি উল্লেখ করেন, ইসলামের মৌলিক আকিদা হলো, আল্লাহ তাআলা এক ও অদ্বিতীয়। একমাত্র আল্লাহ তাআলা ইবাদত ও উপাসনার উপযুক্ত। ইসলামে মূর্তিপূজা নিষিদ্ধ এবং এটি শিরক, যা গুরুতর গুনাহ। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কোনো মুসলমান যদি জেনে-বুঝে মূর্তিপূজাকে ধর্মীয় উপাসনা হিসেবে গ্রহণ করে, সমর্থন জানায় কিংবা এর সঙ্গে উপাসনাগত একাত্মতা প্রকাশ করে, তাহলে তা ঈমান ও আকিদার পরিপন্থী।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর রহমতিয়া জামে মসজিদে জুমার বয়ানে তিনি এসব কথা বলেন।
মুফতি সুলতান মহিউদ্দিন আরও বলেন, দুর্গাপূজার মন্দিরে মূর্তিকে কেন্দ্র করে যে ধর্মীয় উপাসনা অনুষ্ঠিত হয়, তার সঙ্গে মুসলমানদের আকিদার মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। অন্য ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় স্বাধীনতা, জানমালের নিরাপত্তা ও উপাসনালয়ের সুরক্ষা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তবে নিরাপত্তা ও সৌজন্য প্রদর্শনের নামে কোনো মুসলমানের মূর্তিপূজার ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া কিংবা সংশ্লিষ্ট উপাসনাগত বিশ্বাসের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করা ইসলাম সমর্থন করে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মুফতি সুলতান মহিউদ্দিন বলেন, যারা দুর্গাপূজার অনুষ্ঠানে গিয়ে মূর্তির সামনে উপাসনামূলক সম্মান প্রদর্শন করেছেন, বক্তব্যে দুর্গাদেবীর ক্ষমতার কথা বলেছেন কিংবা মূর্তিপূজার ধর্মীয় বিশ্বাসকে সমর্থন করেছেন, তাদের নিজেদের বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড শরিয়তের আলোকে পর্যালোচনা করা উচিত।
তাঁর মতে, কোনো কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ঈমানের পরিপন্থী বিশ্বাস বা শিরকের সমর্থন প্রকাশ পেয়ে থাকলে আন্তরিকভাবে তওবা করে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। পাশাপাশি যোগ্য আলেমদের পরামর্শে ঈমান নবায়নের জন্য কালেমা পাঠ করা জরুরি।
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক সুবিধা কিংবা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অজুহাতে মুসলমানদের ঈমান-আকিদার প্রশ্নে আপস করা উচিত নয়। নিজ নিজ ধর্মীয় বিশ্বাস ও সীমারেখা অক্ষুণ্ন রেখেই সম্প্রীতি বজায় রাখতে হবে। অন্য ধর্মের উপাসনার সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ না করেও অন্য ধর্মাবলম্বীদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং তাঁদের অধিকার রক্ষা করা সম্ভব।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন