প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
আফগানিস্তানের তালেবান সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিগত দুই দশকের যুদ্ধের তিক্ততা ভুলে একটি নতুন কূটনৈতিক সম্পর্ক গড়ার চেষ্টা করছে অর্থনৈতিক সহায়তার মাধ্যমে। তারা ওয়াশিংটনকে অবকাঠামো, কৃষি, বাণিজ্য এবং বিশেষ করে খনিজ খাতে বড় ধরনের বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছে, যাতে দেশের অবহেলিত বিশাল অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো যায়। কাবুলের এই কূটনৈতিক উদ্যোগের লক্ষ্য হলো কট্টরপন্থার বাইরে এসে বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছ থেকে স্বীকৃতি অর্জন করা এবং অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা নিশ্চিত করা।
তালেবানের অন্তর্বর্তীকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, আফগানিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান সম্পর্ককে গত ২০ বছরের সামরিক সংঘাতের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা উচিত নয়। তিনি দুই দেশের সম্পর্ককে ভবিষ্যতের সহযোগিতার নতুন ভিত্তিতে মূল্যায়নের অনুরোধ জানান এবং বলেন, কাবুলের অর্থনৈতিক নীতি সবার জন্য উন্মুক্ত এবং মার্কিন বিনিয়োগকে সেখানে সানন্দে স্বাগত জানানো হবে।
কাবুলে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস এলাকাটির পুনর্গঠন করে ওয়াশিংটনকে সঙ্গে নিয়ে কূটনৈতিক উষ্ণতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে তালেবান। সেখানে নিরাপত্তা জোরদার, রাস্তা সংস্কার এবং নতুন গাছপালা রোপণ করে পরিবেশ প্রাণবন্ত করা হয়েছে, যা মার্কিন দূতাবাস পুনরায় চালু করার ইঙ্গিত দেয়। তবে আফগানিস্তানে ফেলে যাওয়া মার্কিন সামরিক সরঞ্জাম এবং বাগরাম বিমানঘাঁটির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সার্বভৌম অধিকার মেনে নিতে তালেবান অস্বীকার করে এবং এগুলোকে আফগানিস্তানের নিজস্ব জাতীয় সম্পদ হিসেবে উল্লেখ করেন।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, আফগানিস্তানের মাটির নিচে আনুমানিক ১ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের বিপুল প্রাকৃতিক খনিজ সম্পদ অলস অবস্থায় রয়েছে। এসবের মধ্যে সোনা, রুপা, প্লাটিনাম, লৌহ আকরিক, ইউরেনিয়াম, জিংক, ট্যান্টালাম, বক্সাইট এবং কয়লার মতো মূল্যবান পদার্থ রয়েছে, পাশাপাশি বিরল তামার বিশাল মজুতও রয়েছে। বিশ্বজুড়ে নতুন তামার খনির সংকট তীব্র হচ্ছে, ফলে আফগান তামার মজুত বৈশ্বিক বাজারে একটি বিশাল প্রভাব তৈরি করতে পারে। যদিও ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর প্রথম মেয়াদে এই বিপুল সম্পদে আগ্রহ দেখিয়েছিলেন, সামরিক উত্তেজনার কারণে তা বাস্তবে রূপ নেয়নি।
ক্ষমতা গ্রহণের পাঁচ বছর পার হতে চললেও, নারীদের শিক্ষা ও চলাফেরার স্বাধীনতা হরণের মতো মানবাধিকার লঙ্ঘনের কারণে তালেবান সরকার এখনও আন্তর্জাতিকভাবে কার্যত একঘরে রয়েছে। এ পর্যন্ত কেবল রাশিয়াই তালেবান সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিয়েছে। তবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিনিময়ে চীন, পাকিস্তান, ভারত ও ইরান দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বজায় রেখেছে।
তালেবানের দাবি, চীন ও ইরানসহ বিভিন্ন দেশ ইতিমধ্যে সোনা, মূল্যবান পাথর ও ক্রোমাইট খাতে প্রায় ৭ বিলিয়ন ডলারের খনি চুক্তি করেছে। কিন্তু একটি টেকসই ও বৃহত্তর অর্থনীতির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের মতো পরাশক্তির অংশগ্রহণ আফগানিস্তানের জন্য এখন জরুরি হয়ে পড়েছে। তবে এই অর্থনৈতিক আহ্বানে ওয়াশিংটন সাড়া দেবে কি না, তা তালেবানদের মানবাধিকার নীতির পরিবর্তন ও মার্কিন সরকারের কূটনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।
সূত্র: দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন