প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত স্বল্প আয়ের মানুষের স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচি মেডিকেইডের সুবিধাভোগীদের জন্য নতুন নিয়ম কার্যকর করতে বাধা দিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের দ্বারা প্রণীত এই নিয়ম অনুযায়ী, দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থ ব্যক্তিদের কর্মসংক্রান্ত শর্ত থেকে ছাড় পেতে নিজেদের ‘চিকিৎসাগতভাবে দুর্বল’ প্রমাণ করতে হতো।
বৃহস্পতিবার ফেডারেল বিচারক রিচার্ড স্টিয়ার্নস একটি আদেশের মাধ্যমে এ নিয়ম কার্যকর করা আটকে দিয়েছেন। ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের এই বিচারক ২৫টি অঙ্গরাজ্য এবং রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসির পক্ষে রায় প্রদান করেছেন। গত জুনে এসব অঙ্গরাজ্য ও ওয়াশিংটন ডিসি ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছিল। তাদের অভিযোগ ছিল, নতুন নিয়মের ফলে গুরুতর শারীরিক ও মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের কর্মসংক্রান্ত শর্ত থেকে ছাড় পাওয়ার সুযোগ বেআইনিভাবে সীমিত করা হয়েছে।
আইনের আওতায় ‘চিকিৎসাগতভাবে দুর্বল’ ব্যক্তির সংজ্ঞায় কয়েকটি শ্রেণির মানুষ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী, শারীরিক প্রতিবন্ধী, মাদকাসক্তিজনিত সমস্যায় আক্রান্ত এবং কর্মক্ষমতা ব্যাহত করে এমন মানসিক রোগে ভোগা ব্যক্তিরা রয়েছেন। এছাড়া, কিছু প্রতিবন্ধিতা রয়েছে, যা দৈনন্দিন কাজকর্মে বড় ধরনের বাধা সৃষ্টি করে। গুরুতর বা জটিল রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরাও এই সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত।
তবে, ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন নিয়মে এসব শ্রেণির মানুষকে আরো একটি শর্ত পূরণ করতে হতো। তাদের প্রমাণ করতে হতো, শারীরিক বা মানসিক সমস্যার কারণে কর্মসংক্রান্ত আইনি শর্ত মেনে চলার সক্ষমতা ‘উল্লেখযোগ্যভাবে ব্যাহত’ হয়েছে।
মামলাকারী অঙ্গরাজ্যগুলোর যুক্তি ছিল, নতুন নিয়মের কারণে চিকিৎসাগত ছাড় পাওয়ার যোগ্য অনেক মার্কিন নাগরিক প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। তারা আরও দাবি করেছেন যে, এই নিয়মটি আইনের মূল বক্তব্যের পরিপন্থি।
বিচারক স্টিয়ার্নস ১৬ পৃষ্ঠার রায়ে উল্লেখ করেন, ‘আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিয়ে পূরণ করা সম্ভব নয়—এমন অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়ার বিষয়টি অঙ্গরাজ্যগুলো প্রমাণ করতে পেরেছে। যোগ্যতা যাচাইয়ের ব্যবস্থায় ব্যয়বহুল ও ব্যাপক পরিবর্তন আনার চাপ তাদের ওপর পড়বে।’
নতুন নিয়মটি গ্রহণ করেছিল যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের অধীন মেডিকেয়ার ও মেডিকেইড পরিষেবা কেন্দ্র (সিএমএস)। তবে এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি সংস্থাটি। মেডিকেইড হলো স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচি, যা অঙ্গরাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকার যৌথভাবে অর্থায়ন করে।
কর্মসংক্রান্ত শর্ত বহাল
২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে মেডিকেইডের সম্প্রসারিত সুবিধাভোগী ১৯ থেকে ৬৪ বছর বয়সিদের প্রতি মাসে অন্তত ৮০ ঘণ্টা কাজ করতে হবে অথবা সামাজিক সেবামূলক কাজে যুক্ত থাকতে হবে। বিকল্প হিসেবে তাদের অন্তত অর্ধেক সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করতে হবে। তবে চিকিৎসাগতভাবে দুর্বল হিসেবে বিবেচিত ব্যক্তি এবং আসক্তির চিকিৎসা কর্মসূচিতে থাকা ব্যক্তিসহ কয়েকটি শ্রেণির জন্য এ শর্তে ছাড় রয়েছে।
বিচারক স্টিয়ার্নসের আদেশের ফলে নির্দিষ্ট চিকিৎসাগত সমস্যায় আক্রান্ত কিছু সুবিধাভোগীর জন্য কর্মসংক্রান্ত শর্ত থেকে ছাড় পাওয়া সহজ হবে। তবে তিনি কর্মসংক্রান্ত শর্তগুলোকে বেআইনি ঘোষণা করেননি, ফলে ওই শর্তগুলো বহাল থাকছে।
বিচারক স্টিয়ার্নস ম্যাসাচুসেটসের ফেডারেল আদালতে দায়িত্ব পালন করছেন। সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন তাঁকে নিয়োগ দিয়েছিলেন। নতুন রায়ে অঙ্গরাজ্যগুলো ও ওয়াশিংটন ডিসির আপত্তি সত্ত্বেও চিকিৎসাগতভাবে দুর্বল ব্যক্তিদের যোগ্যতা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকারের আরোপ করা আরো দুটি বিধিনিষেধ তিনি বহাল রেখেছেন।
এএম
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন