প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ : ‘বাংলাদেশ-মালদ্বীপ গ্রিন ইনিশিয়েটিভ’-এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে, যা পরিবেশগত স্থায়িত্ব, কৃষি গবেষণা ও জলবায়ু সহনশীলতায় দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদার করার লক্ষ্যে পরিচালিত হচ্ছে।
আজ রোববার মালদ্বীপের মিয়ানজ কলেজ এবং বাংলাদেশ হাইকমিশনের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে।
বাংলাদেশ হাইকমিশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এই উদ্যোগের আওতায় মিয়ানজ কলেজ স্কুল অব এগ্রিকালচারকে ৯টি নির্বাচিত প্রজাতির ২১ হাজার ৩৬০ বীজ ও ২২ হাজার ৩৬০টি পলিব্যাগ প্রদান করা হয়েছে।
মালদ্বীপের ৫০ লাখ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এসব বীজ দেশটির পরিবেশগত পরিস্থিতিতে গবেষণা, অঙ্কুরোদ্গম ও চাষাবাদের কাজে ব্যবহার করা হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রাথমিকভাবে হস্তান্তরিত বীজের মধ্যে রয়েছে ৫ হাজার পেয়ারা, ৫ হাজার গগন শিরীষ, ৫ হাজার ইপিল-ইপিল, ২ হাজার ৫০০টি আকাশমণি, ১ হাজার ৬০০টি কৃষ্ণচূড়া, ১ হাজার ২০০টি নিম, ৭০০টি বকুল, ২০০টি অর্জুন এবং ১৬০টি বহেরা গাছ।
অনুষ্ঠানে মালদ্বীপে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলাম মন্তব্য করেন, ‘এই উদ্যোগ শুধুমাত্র বীজ বা চারা বিতরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি বাংলাদেশ-মালদ্বীপ সহযোগিতার নতুন গবেষণামুখী মাত্রা। জলবায়ু পরিবর্তনের চরম ঝুঁকিতে থাকা দুই দেশ যৌথ অভিজ্ঞতার মাধ্যমে পরিবেশগত স্থায়িত্ব ও সবুজায়ন জোরদার করবে।’
তিনি আরও বলেন, ১৯৭৯ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান পবিত্র আরাফাহ ময়দানে জলবায়ু ও পরিবেশ সুরক্ষায় যে নিমগাছ রোপণের ঐতিহ্য সূচনা করেছিলেন—যা ‘জিয়া ট্রি’ নামে পরিচিতি পায়—সেই ধারাবাহিকতা থেকে উদ্বুদ্ধ হয়ে পরিবেশ কূটনীতির এই প্রয়াস গ্রহণ করা হয়েছে। সফলভাবে উৎপাদিত চারাগুলো মালদ্বীপ সরকারের কাছে হস্তান্তরের পর যৌথ প্রতীকী প্রয়াস হিসেবে তা বিবেচনা করার সম্ভাবনা উন্মোচিত হবে।
সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, মিয়ানজ কলেজ স্কুল অব এগ্রিকালচার প্রদত্ত বীজের মান, অঙ্কুরোদ্গম ও প্রবৃদ্ধি পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা করবে। সফলভাবে বেড়ে ওঠা চারাগুলো তিন মাসের মধ্যে বাংলাদেশ হাইকমিশনের কাছে হস্তান্তর করা হবে, যা পরবর্তীতে বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে মালদ্বীপ সরকার ও জনগণের উদ্দেশ্যে বন্ধুত্বের উপহার হিসেবে প্রদান করা হবে।
অনুষ্ঠানে মিয়ানজ কলেজের চেয়ারম্যান আহমেদ মোত্তাকী, পরিচালনা পর্ষদের সদস্য, শিক্ষকবৃন্দ ও হাইকমিশনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন