প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
"আমার ছোট্ট মেয়েটির জন্য আমি পৃথিবীর আলো-বাতাসে বেঁচে থাকতে চাই। আমার অবর্তমানে সে এতিম হয়ে যাবে। নিষ্পাপ মেয়েটির মুখের দিকে তাকালেই মনে হয়, আমাকে বাঁচতে হবে, কিন্তু উপায়ই বা কী? বাঁচতে গেলে যে চিকিৎসার জন্য অনেক ব্যয় করতে হবে, যা আমার সামর্থ্যের বাইরে।"
দুরারোগ্য কিডনি রোগে আক্রান্ত মো. সজিব মিয়া (২৮) এই কথাগুলো দুর্বল কন্ঠে ধীরে ধীরে উচ্চারণ করছিলেন। যদি অন্তত একটি কিডনি প্রতিস্থাপন করা যায়, তাহলে তিনি সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারবেন। তার নিষ্পাপ কন্যাসন্তানের বেঁচে থাকার স্বপ্ন পূর্ণ হবে এবং তিনি তার বাবা-মা, স্ত্রী-সন্তানসহ পরিবারের কাছে ফিরে যেতে পারবেন।
কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলাধীন রমনা ইউনিয়নের সরকারপাড়া এলাকার কৃষক মো. দেলোয়ার হোসেন ও গৃহিণী মোছা. মেহেনা বেগমের চার ছেলের মধ্যে সজিব মিয়া ছোট ছেলে। দীর্ঘ ৯ বছর ধরে ক্রণিক কিডনি ডিজিজের সঙ্গে লড়াই করছেন তিনি। বর্তমানে তার দুই কিডনির কার্যক্ষমতা অনেক কমে গেছে।
চিকিৎসকরা কিডনি প্রতিস্থাপনের পরামর্শ দিয়েছেন; কিন্তু দীর্ঘদিনের চিকিৎসার খরচ মেটাতে নিঃস্ব হয়ে পড়া পরিবারের পক্ষে প্রতিস্থাপনের খরচ জোগাড় করা এখন অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
চিকিৎসকের তথ্য অনুযায়ী, সজিবের ডান কিডনি ১৭.১ শতাংশ এবং বাম কিডনি ১১.৬ শতাংশ কার্যক্ষম, যা মোট ২৮.৭ শতাংশ। কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য উপযুক্ত ডোনার পাওয়া গেলে খরচ প্রায় ৭-৮ লাখ টাকা এবং ডোনার না পাওয়া গেলে খরচ হতে পারে প্রায় ৩০ লাখ টাকা।
সজিবের ৭৫ বছর বয়সি বাবা আগে কৃষিকাজ করতেন, কিন্তু বয়সের কারণে এখন আর নিয়মিত কাজ করতে পারেন না। স্থানীয় একটি মসজিদে খাদেমের দায়িত্ব পালন করে যা আয় করেন, তা দিয়ে সংসার চালানোই কঠিন। তিনি ছেলেকে নিজের একটি কিডনি দিতে চেয়েছিলেন, কিন্তু বয়স ও শারীরিক জটিলতার কারণে চিকিৎসকরা তাকে ডোনার হিসেবে উপযুক্ত মনে করেননি।
সজিব জানান, ২০১৭ সালের ৯ অক্টোবর হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় তার কিডনি ক্রিয়েটিনিন ১৫ ধরা পড়ে। এরপর রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং দুইবার ভারতের চেন্নাই অ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যান। চিকিৎসার জন্য তার দরিদ্র বাবা-মা তাদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে অন্তত ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা ব্যয় করেছেন।
অসুস্থ হওয়ার আগে গাজীপুর ও ঢাকায় তৈরি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন সজিব মিয়া। নিজের আয়ে বাবা-মায়ের সংসারেও সহযোগিতা করতেন তিনি। বর্তমানে অসুস্থতার কারণে শারীরিকভাবে অক্ষম হয়ে পড়ায় স্ত্রী ও আড়াই বছর বয়সের সন্তানকে নিয়ে সংসার চালানোর পাশাপাশি নিজের চিকিৎসার খরচ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।
আড়াই বছর বয়সের ফুটফুটে সোনামণির ভবিষ্যতের কথা ভেবে পৃথিবীর আলো-বাতাসে বেঁচে থাকতে চান সজিব মিয়া। এজন্য তিনি বিত্তশালীদের সহযোগিতা কামনা করেছেন। যোগাযোগ মো. সজিব মিয়া ০১৯৯৮-৪৫০৪৭০ (নগদ ও বিকাশ)। সোনালী ব্যাংক, চিলমারী শাখার হিসাব নং-৫২০৪৩০১০২৪৩২২।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন