প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে প্রান্তিক খামারিদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও নিবন্ধনের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি তহবিলের লাখ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আব্দুল মোমিনের বিরুদ্ধে। স্থানীয় ভুক্তভোগী খামারিরা দাবি করেছেন যে, প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্প (এলডিডিপি)-এর আওতায় ভুয়া মাস্টাররোল ও ভাউচার তৈরি করে বরাদ্দের সিংহভাগ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।
অনুসন্ধান ও খামারিদের দেওয়া তথ্যে জানা যায়, এলডিডিপির আওতায় ডেইরি প্রডিউসার গ্রুপ (পিজি) শক্তিশালীকরণ ও নিবন্ধনের অংশ হিসেবে গত বছরের নভেম্বর থেকে চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত ১৪টি পিজির ৫৩৭ জন খামারির জন্য ১১ দিনের সভা ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচি নির্ধারিত ছিল। নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি মাসে প্রতিটি পিজির দুটি করে মোট আটটি সভা এবং তিনটি প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।
এ কর্মসূচির জন্য সর্বমোট ৩ লাখ ৭৯ হাজার ২০০ টাকা বরাদ্দ ছিল। নথিপত্রে হাতেগোনা কয়েকটি সভা দেখিয়ে ১ লাখ ৫৮ হাজার ৮০০ টাকা ব্যয় দেখানো হলেও খামারিদের অভিযোগ, ১১ দিনের পুরো কার্যক্রম মাত্র একদিনেই শেষ করে বরাদ্দের অর্থ তুলে নেওয়া হয়েছে।
পিজিগুলোকে সমবায় সমিতির অধীনে নিবন্ধনের উদ্যোগ ও উদ্বুদ্ধকরণ সভার জন্য আলাদাভাবে ১ লাখ ৯৬ হাজার ৭৫০ টাকা বরাদ্দ থাকলেও সেই কাজের কোনো অগ্রগতি হয়নি। সংশ্লিষ্ট দপ্তরে নিবন্ধনের কোনো ফি বা কার্যক্রম জমা না দিয়েই জুন মাসে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ করা হয়েছে। কর্মসূচিতে নিম্নমানের নাস্তা দিয়ে অর্থ বাঁচানোর অভিযোগও উঠেছে উপস্থিত খামারিদের পক্ষ থেকে।
কাগজে-কলমে ৫৩৭ জন খামারির উপস্থিতি দেখানো হলেও বাস্তবে উপস্থিত ছিলেন মাত্র ২৫৩ জন। ভুয়া মাস্টাররোল তৈরি করে অনুপস্থিত সদস্যদের জায়গায় জোরপূর্বক ও কৌশলে সই নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
কাঞ্চননগর এলাকার দুগ্ধ খামারি ও পিজি সদস্য লাকি আক্তার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "আমি মাত্র দুটি সভায় উপস্থিত ছিলাম, অথচ আমার কাছ থেকে ৬-৭টি সই নেওয়া হয়েছে। পিজির একজন সক্রিয় সদস্য হলেও আজ পর্যন্ত সরকারি কোনো সহায়তা পাইনি, উল্টো এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে খামার চালাতে হচ্ছে।"
একই সুর বখতপুর এলাকার খামারি মো. সোহেল ও ধর্মপুর ইউনিয়নের শহিদুল ইসলামের কণ্ঠে। সোহেল জানান, "একটির বেশি প্রশিক্ষণ বা সভার বিষয়ে আমাকে কিছুই জানানো হয়নি।"
অন্যদিকে শহিদুল ইসলাম বলেন, "একটি সভায় গিয়েছিলাম, কিন্তু সেটা প্রশিক্ষণ ছিল না। কিছুক্ষণ গল্পগুজব করেই পর্ব শেষ করা হয়, যা খামারিদের কোনো কাজে আসেনি।"
অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আব্দুল মোমিন বলেন, "নিয়ম মেনে যথারীতি প্রশিক্ষণ ও সভার আয়োজন করা হয়েছে। কোনো অনিয়ম হয়নি।"
ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মুহাম্মদ ইব্রাহিম জানান, "বিষয়টি খতিয়ে দেখে সত্যতা পাওয়া গেলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জানানো হবে।"
এলডিডিপির প্রকল্প পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ড. মো. মোস্তফা কামাল বলেন, "প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ বা অনিয়মের অভিযোগ থাকলে তা তদন্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন