প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ময়মনসিংহে চাঁদা না দেয়ার কারণে এবং নির্মাণাধীন ভবনের মালামাল স্থানীয়দের কাছ থেকে না কেনার কারণে এক ব্যাংক কর্মকর্তা ও তার স্ত্রীসহ মোট চারজন মারধরের শিকার হয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে সিসিটিভি ফুটেজ। ঘটনার পর সোমবার (১৫ জুন) দুপুরে থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শেরপুর জেলার বাসিন্দা নজরুল ইসলাম ময়মনসিংহ নগরের চরপাড়া জনতা ব্যাংকে কর্মরত। ২০২৩ সালে তিনি নগরের ময়নার মোড় এলাকায় চার শতক জমি ক্রয় করে ৬-৭ মাস আগে পাঁচতলা ফাউন্ডেশনের একটি বাড়ি নির্মাণের কাজ শুরু করেন। এরপর স্থানীয় সাইফুল ইসলাম (৪০) নামে এক ব্যক্তি ও তার একটি দল নজরুল ইসলামকে চাঁদা দিতে এবং নির্মাণ কাজে ব্যবহৃত মালামাল তাদের কাছ থেকে কেনার জন্য দাবি জানায়।
তবে নজরুল ইসলাম এতে রাজি না হয়ে নিজের পছন্দমতো মালামাল কিনে বাড়ি নির্মাণ চালিয়ে যান। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে সাইফুল ইসলাম ও তার সহযোগীরা বিভিন্ন সময় তাদের কাছে মালামাল না কিনলে নির্মাণ কাজ করতে দেয়া হবে বলে একাধিকবার হুমকি দেয়। গত রোববার বিকেলে আবারও বাড়িতে গিয়ে মালামাল কিনতে চাপ দেওয়া হয়। নজরুল ইসলাম সেদিন রাজি না হলে সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটের দিকে হামলা চালানো হয়।
এ ঘটনায় নজরুল ইসলাম, তার স্ত্রী মাসুমা হায়াত, তার ভাই আজিজুল ইসলাম এবং প্রতিবেশী ব্যাংক কর্মকর্তা সাকিম আহম্মেদ আহত হন। হামলাকারীরা সুইচ গিয়ার চাকু দিয়ে সাকিম আহম্মেদের মাথায় আঘাত করে এবং অন্যান্যদের মারধর করে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, প্রথমে তিনজন ব্যক্তি হঠাৎ করে দাঁড়িয়ে থাকা তিনজনের ওপর হামলা চালায়। এরপর আরও কয়েকজন যোগ দেয় এবং এলোপাতাড়া মারধর শুরু করে। এক পর্যায়ে চাকু নিয়ে আরও কয়েকজন হামলায় অংশ নেয়। এ সময় ব্যাংক কর্মকর্তার স্ত্রী এগিয়ে গেলে তাকেও মারধর করা হয়।
নজরুল ইসলামের স্ত্রী মাসুমা হায়াত বলেন, ‘আমি একাই বাসায় থাকি। কয়েকদিন পরপর কয়েকজন এসে হুমকি দিয়ে যেত।’ তিনি আরও বলেন, ‘গতকাল ময়নার মোড়ের দিক থেকে কয়েকজন এসে হঠাৎ করে আমাদের ওপর হামলা চালায়। আমি প্রতিবাদ করতে গেলে আমাকে মারধর করা হয়। আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।’
ব্যাংক কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি ব্যাংক ঋণ নিয়ে বাড়ি করছি। তারা এসে বলছে চাঁদা দিতে হবে, নাহলে তাদের কাছ থেকেই মালামাল নিতে হবে।’ তিনি জানান, ‘আমি ভেবেছিলাম হুমকি পর্যন্তই থাকবে। কিন্তু এভাবে হামলার শিকার হব; একজন অফিসার হিসেবে এটা আমি কল্পনাও করিনি। আমি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’
আহত সাকিম আহম্মেদ জানান, ‘আমরা তিনজন দাঁড়িয়ে কথা বলছিলাম। হঠাৎ ৫-৭ জন দৌড়ে এসে আমাদের ওপর হামলা করে। এক পর্যায়ে একজন আমার মাথায় চাকু দিয়ে আঘাত করে।’
ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত সাইফুল ইসলাম আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানা গেছে এবং তার মোবাইল ফোনও বন্ধ থাকায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। মো. সাইফুল ইসলাম নগরের বলাশপুর কলমিস্ত্রি মোড় এলাকার বাসিন্দা।
এ ঘটনায় সোমবার দুপুরে নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে সাইফুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে চাঁদা না দেয়ার কারণে হামলার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম বলেন, ‘বাড়ি নির্মাণ নিয়ে বিরোধের জেরে হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। এ ঘটনায় একটি অভিযোগ পেয়েছি। জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।’
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন