প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
গত বছর যিনি অধিকার আদায়ের আন্দোলনে রাজপথে সক্রিয় ছিলেন, ঠিক এক বছর পর আজ ২৮ বছর বয়সি পরিবেশকর্মী হামজা এল খাররৌবি মরক্কোর সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িয়েছেন। নির্বাচনি প্রচারকালে দেশের তিতৌয়ান শহরে তরুণ এই উদ্যোক্তা আশা প্রকাশ করেন যে, এবারের নির্বাচনে আরো অনেক তরুণ মরক্কোর পার্লামেন্টে আসন জয় করতে সক্ষম হবেন।
রাজনীতিতে তরুণদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর লক্ষ্যে তিনি ‘এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি পার্টি’ নামে একটি নতুন রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠা করেছেন।
গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে মরক্কোয় শুরু হওয়া ঐতিহাসিক গণআন্দোলনই মূলত তরুণদের এই রাজনৈতিক অংশগ্রহণকে ত্বরান্বিত করেছে।
আন্দোলনের পটভূমি ও ‘জেন জি ২১২’
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে মরক্কোর দক্ষিণাঞ্চলের একটি সরকারি হাসপাতালে সিজারেস ডেলিভারির সময় আটজন প্রসূতি নারীর মর্মান্তিক মৃত্যুর পর দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের দাবিতে এই ক্ষোভ সারা দেশে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে।
‘জেন জি ২১২’ নামে কোনো নির্দিষ্ট কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ছাড়াই গড়ে ওঠা এই আন্দোলনটি মূলত ডিসকর্ড, টিকটক এবং ইনস্টাগ্রামের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওপর ভর করে সংগঠিত হয়েছিল। দুর্নীতিরোধ, সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার এবং উন্নত জনসেবার দাবিতে চলা ওই আন্দোলনে অক্টোবর মাসে অন্তত তিনজন প্রাণ হারিয়েছিলেন।
ভোটার তালিকায় তরুণদের অংশগ্রহণ ও চ্যালেঞ্জ
আসন্ন সংসদ নির্বাচনে মরক্কোর মোট ৩৯৫টি আসনের জন্য প্রায় ১ কোটি ৫৮ লাখ মানুষ ভোট দেওয়ার যোগ্য হলেও, এর মধ্যে ১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সিদের হার মাত্র চার শতাংশ।
অন্যদিকে ৬০ বা তার বেশি বয়সি ভোটারদের হার প্রায় ২৯ শতাংশ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজপথে সোচ্চার হওয়ার পরেও অনেক তরুণ এখনো প্রাতিষ্ঠানিক বা মূলধারার রাজনীতি থেকে দূরে রয়েছেন।
তরুণদের এই দূরত্বের কারণ ব্যাখ্যা করে কাসাব্লাংকার রাজনীতিক মৌবারাক তৌমি বলেন, ‘অভিভাবকরা সাধারণত তরুণদের ঝামেলা এড়াতে ও নিরাপদে থাকতে পরামর্শ দিয়ে থাকেন।’ পাশাপাশি বেকারত্বের উচ্চ হারও তরুণদের রাজনীতিবিমুখ করে তুলছে।
দেশটির সরকারি তথ্য অনুযায়ী, মরক্কোয় সামগ্রিক বেকারত্ব ১৩ শতাংশ হলেও ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সি তরুণদের মধ্যে এই হার প্রায় ৩৭.২ শতাংশ।
নির্বাচনে তরুণদের প্রত্যাশা
নির্বাচন নিয়ে তরুণ রাজনীতিক আজ-এল আরব হিলমি জানান, বর্তমান প্রজন্ম আর পুরনো গতানুগতিক রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি বা ফাঁকা বুলি শুনতে রাজি নয়। তারা শিক্ষা, সুচিকিৎসা এবং জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের মতো বাস্তব পরিবর্তন দেখতে চায়।
তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচন মানেই কোনো ফাঁকা চেক দেওয়া নয়। রাজনীতিকরা সব সমস্যার জাদুকরী সমাধান রাতারাতি দিতে না পারলেও তাদের স্বচ্ছ ও দায়িত্বশীল হতে হবে।’ মরক্কোর এই নির্বাচনে তরুণদের অংশগ্রহণ ও ব্যালটের লড়াই দেশের রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
সূত্র: আল জাজিরা
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন