প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে ভারত সরকারের নতুন দল ককরোচ জনতা পাটি-সিজেপি অনেক দিন ধরে আন্দোলন করে আসছে। তারা দিল্লির যন্তর-মন্তরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে এক মাসের বেশি সময় ধরে।
২৮ জুন থেকে যন্তর-মন্তরে আমরণ অনশন শুরু করেছেন অ্যাক্টিভিস্ট সোনম ওয়াংচুক।
গত শনিবার পুলিশ তাকে তুলে নিয়ে সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি করেছে। সোমবার ভারতের সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশন শুরু হয়েছে। প্রথম দিনেই ককরোচ জনতা পাটি ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচির ঘোষণা দেয়।
তবে পুলিশ এই কর্মসূচির অনুমতি দেয়নি। বরঞ্চ লাঠিপেটা করে ছাত্রদের সমাবেশ পণ্ড করে দেয়।
ছাত্রদের শান্তিপূর্ণ সমাবেশে পুলিশি হামলার প্রতিবাদে ভারতের সেলিব্রেটিরা সরব হয়েছেন। অনেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের সমর্থন জানিয়েছেন। কেউ কেউ সরাসরি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করেছেন।
তারা পুলিশি হামলার নিন্দা জানিয়ে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, ছাত্রদের কথা শোনা ও তাদের সঙ্গে আলোচনার জন্য।
মঙ্গলবার ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচির আগের দিন, অভিনেত্রী শাবানা আজমি এবং অভিনেতা-পরিচালক প্রকাশ রাজ আন্দোলনকারীদের সঙ্গে যোগ দিয়েছিলেন। আন্দোলন যে শান্তিপূর্ণ এবং সাংবিধানিক মূল্যবোধের ওপর ভিত্তি করে তৈরি, তা উল্লেখ করে শাবানা আজমি বলেন, ‘আমরা যারা এখানে এসেছি, তারা সবাই একটি শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে অংশ নিতে এসেছি, যা আমাদের দেশের সংবিধান আমাদের অধিকার দিয়েছে। মহাত্মা গান্ধী আমাদের শিখিয়েছেন কীভাবে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করতে হয়, আমরা সেই ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়েই এখানে এসেছি। আমাদের কোনো সহিংসতা ছড়ানোর উদ্দেশ্য নেই এবং আমরা সেই দৃঢ় আশা নিয়েই এখানে দাঁড়িয়ে আছি।’
তবে তার আশা পূরণ হয়নি। পুলিশ হামলা চালিয়ে পরিস্থিতি অশান্ত করে তোলে। পাঞ্জাবের প্রতিবাদী কণ্ঠ অভিনেতা ও গায়ক দিলজিৎ দোসাঞ্জ ইনস্টাগ্রামে লিখেছেন, ‘যা ঘটেছে তা অত্যন্ত দুঃখজনক। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এমন আচরণ করা উচিত নয়।’
জনগণের কণ্ঠস্বরকে ঈশ্বরের কণ্ঠস্বর আখ্যা দিয়ে তিনি কর্তৃপক্ষকে শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ ও অভিযোগ শোনার অনুরোধ জানান। কৃষকদের আন্দোলনের সময় কথা বলায় তাকে কীভাবে ’দেশদ্রোহী’ তকমা দেওয়া হয়েছিল, সেই স্মৃতি মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, তখন তাকে অনেক ভুগতে হয়েছিল এবং এবারও হয়তো তাকে দেশদ্রোহী বলা হবে। তারকা দম্পতি রিতেশ দেশমুখ এবং জেনেলিয়া ডি'সুজা বিক্ষোভকারীদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে তাদের কথা শোনার দাবি জানিয়েছেন।
এক্স-এ (টুইটার) তারা লিখেছেন, ‘আমরা দেশের যুবসমাজের পাশে আছি। কোনো ভয় ছাড়াই তাদের কণ্ঠস্বর জোরালো ও স্পষ্টভাবে শোনার সুযোগ পাওয়া উচিত। তারা আমাদের গণতন্ত্রের স্পন্দন এবং দেশের ভবিষ্যৎ রূপকার। আসুন আমরা তাদের কথা শুনি, সমর্থন করি এবং তাদের ক্ষমতায়ন করি। আমাদের তরুণদের শক্তি, সাহস ও স্বপ্নই সেই ভারত গড়ে তুলবে, যা আমরা দেখতে চাই।’
অভিনেত্রী হুমা কুরেশি বলেন, আন্দোলনের এই দৃশ্যগুলো তার মনে দীর্ঘদিন থেকে যাবে। শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর এমন নিষ্ঠুর বলপ্রয়োগ এবং লাঠিচার্জ দেখে তিনি গভীরভাবে মর্মাহত বলে লিখেছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।
চিত্রনাট্যকার সুতপা সিকদার লিখেছেন, আন্দোলনকারীদের অনেকেই শিক্ষার্থী, যারা পকেটে মাত্র ২০ টাকা এবং বুকে অনেক আশা নিয়ে জবাবদিহিতার খোঁজে এসেছিলেন। তিনি আরো যোগ করেন, ‘তারা কেউ ধনী প্রভাবশালী বাবার সন্তান নন, তাই তাদের বাঁচাতে কেউ এগিয়ে আসেনি।’
তিনি বলেন, ‘তারা তাদের অবস্থানে অনড় ছিলেন, যেমনটা হয়তো তারা সারাজীবন লড়াই করেছেন, বাস, ট্রেন, ভর্তি পরীক্ষা এবং প্রশ্ন ফাঁসের জন্য অপেক্ষা করার মধ্য দিয়ে।’
অভিনেত্রী ও নির্মাতা নন্দিতা দাস বলেন, ‘যারা বিশ্বাস করেন মানুষের জমায়েত হওয়া, কথা বলা, শোনা এবং শুনানির সুযোগ পাওয়ার মাধ্যমে গণতন্ত্র শক্তিশালী হয়; তিনি তাদের পাশে আছেন। গঠনমূলক ভিন্নমতই গণতন্ত্রকে বাঁচিয়ে রাখে।’
নন্দিতা দাস আরো লেখেন, ‘দিল্লিতে যারা শান্তিপূর্ণভাবে আমাদের বিশ্বাসের ভারতের জন্য লড়াই করছেন, আমি মনে-প্রাণে তাদের সঙ্গে আছি।’
অবশেষে ইনস্টাগ্রামে অভিনেত্রী ভূমি পেদনেকর বলেন, সহিংসতা কখনো সমাধান হতে পারে না। তিনি শিক্ষা ব্যবস্থার ত্রুটির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের প্রতি নজর দেওয়ার আহ্বান জানান।
সোনি রাজদান, জিনাত আমান, অভয় দেওল, নাসিরুদ্দিন শাহ, রত্না পাঠক শাহ, ওমি বৈদ্য এবং সোনাক্ষী সিনহাসহ আরো অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজেদের ক্ষোভের কথা লিখেছেন। সোনাক্ষী সিনহা তরুণদের দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি উল্লেখ করে লিখেছেন, ‘নানা কষ্ট ও চ্যালেঞ্জের মুখেও বিক্ষোভকারীরা তাদের বিশ্বাসে অবিচল আছেন।’
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন