প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রাজধানীর সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালকে আগামীতে শুধুমাত্র সিটি বাসের টার্মিনাল হিসেবে ব্যবহারের পরিকল্পনা আছে। অন্যদিকে, আন্তঃজেলা বাসগুলোকে ধাপে ধাপে কাঁচপুরে স্থানান্তর করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে, যা জানিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম।
বৃহস্পতিবার সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল পরিদর্শনের পর এবং উচ্ছেদ অভিযানের শেষে সাংবাদিকদের তিনি এই তথ্য জানিয়েছেন। এছাড়া গুলিস্তানের বাস টার্মিনালও নদীর অপর পারে স্থানান্তরের পরিকল্পনা সম্পর্কে আলোচনা করেছেন।
ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, সায়েদাবাদ টার্মিনাল একটি আধুনিক বাস টার্মিনাল হলেও, এটি দীর্ঘ সময় ধরে নির্ধারিত উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়নি। যাত্রীদের ওঠানামার কেন্দ্র হিসেবে কাজ করার পরিবর্তে এটি হয়ে গিয়েছে বাসের গ্যারেজ এবং ডাম্পিং স্টেশন। অথচ প্রকৃত পক্ষে একটি টার্মিনালের মূল উদ্দেশ্য হলো দূরপাল্লার যাত্রীদের ওঠানামার সুবিধা নিশ্চিত করা।
তিনি জানান, টার্মিনালকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও শৃঙ্খলাপূর্ণ করতে ইতোমধ্যে কাজ শুরু করা হয়েছে। আপাতত, প্রতিটি পরিবহন কোম্পানি সর্বোচ্চ একটি বা দুটি বাস টার্মিনালের ভেতরে অপেক্ষমাণ রাখতে পারবে, এবং এর উপরে আর কোনো বাস রাখা যাবে না। যান চলাচল আরও সুশৃঙ্খল করার জন্য টার্মিনালে তিনটি প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ চালু করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের অনুরোধে চলতি মাসের ১৫ জুলাই পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। এরপর নির্ধারিত টার্মিনাল ছাড়া অন্য কোথাও বাস থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা করতে দেওয়া হবে না।
আবদুস সালাম আরও বলেন, রাজধানীর পরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা ছাড়া পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগর গড়ে তোলা সম্ভব নয়। এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য পরিবহন মালিক এবং শ্রমিকদের সঙ্গে একাধিক দফা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং তারা সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেছেন।
তিনি জানিয়েছেন, টার্মিনালের বিভিন্ন সুবিধা উন্নত করা হচ্ছে, প্রয়োজনে আরও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) বাসের জন্য ভারzan স্থান নির্ধারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
টার্মিনালের অভ্যন্তরে অবৈধ দোকানপাট সরানো হবে উল্লেখ করে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, আগে সমস্ত দোকান সরিয়ে নিতে হবে। পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করে নিয়মের মধ্যে হকার বা ভেন্ডরদের জন্য নির্ধারিত স্থান বরাদ্দ দেয়া হবে।
তিনি জানান, আগ পর্যন্ত অভিযানে কাউকে জরিমানা করা হয়নি। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টার্মিনাল পুরোপুরি শৃঙ্খলার আওতায় না এলে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।
আবদুস সালাম বলেন, এবার আর অবৈধ কার্যক্রম চালানোর সুযোগ দেয়া হবে না। সায়েদাবাদ টার্মিনালকে পুরোপুরি শৃঙ্খলার আওতায় আনা হবে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, যদি সায়েদাবাদকে শুধুমাত্র সিটি বাসের টার্মিনাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়, আন্তঃজেলা বাস কাঁচপুরে স্থানান্তর এবং গুলিস্তানের বাস টার্মিনাল নদীর ওপারে সরানো হয়, তবে রাজধানীর পরিবহন ব্যবস্থায় দৃশ্যমান পরিবর্তন আসবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন