প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ঝুঁকি ও সম্ভাবনা পর্যালোচনার জন্য একটি নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এই উদ্যোগের নেতৃত্বের জন্য ট্রাম্প জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক জে ক্লেটনকে নিয়োগ দিয়েছেন। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে তাকে প্রশাসনের সর্বশেষ ‘এআই সম্রাট’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
‘সুপার ইন্টেলিজেন্স ফোর্স’ নামে পরিচিত এই বিশেষ কার্যদলকে ১২০ দিনের মধ্যে হোয়াইট হাউসে একটি প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। প্রতিবেদনে দ্রুত বিকশিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সক্ষমতা পর্যালোচনা, জাতীয় নিরাপত্তা ও সাইবার নিরাপত্তার সম্ভাব্য ঝুঁকি চিহ্নিত করা এবং এসব বিষয়ে সরকারের করণীয় সম্পর্কে সুপারিশ করা হবে।
ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবর অনুযায়ী, জে ক্লেটন গত আগস্টে জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর আগে তিনি সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান ছিলেন।
ক্লেটন বলেন, "যুক্তরাষ্ট্র যাতে উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তিতে বিশ্ব নেতৃত্ব ধরে রাখতে পারে এবং একই সঙ্গে মার্কিন নাগরিকদের স্বার্থ সুরক্ষিত থাকে, সেটিই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।"
কার্যদলটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-সংক্রান্ত তথ্য ফাঁস, সাইবার হামলা ও অন্যান্য ঘটনার প্রতিবেদন করার ক্ষেত্রে সরকারের বর্তমান ব্যবস্থা পর্যালোচনা করবে। পাশাপাশি বিদ্যমান আইনি ক্ষমতা ব্যবহার করে এসব ঘটনায় সরকারের প্রতিক্রিয়া আরও কার্যকর করার উপায়ও খতিয়ে দেখা হবে।
বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নিরাপত্তা, সাইবার হামলা, কর্মসংস্থানে সম্ভাব্য প্রভাব এবং ক্রমশ শক্তিশালী হয়ে ওঠা প্রযুক্তি ব্যবস্থার ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে, এবং এই প্রেক্ষাপটে উদ্যোগটি নেওয়া হয়েছে।
ট্রাম্প কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রে তুলনামূলক কম সরকারি নিয়ন্ত্রণের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তিনি যুক্তি দিয়েছেন, অতিরিক্ত সরকারি বিধিনিষেধ চীনের সঙ্গে প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্রের সক্ষমতা দুর্বল করতে পারে। তাই তার প্রশাসন ব্যাপক বাধ্যতামূলক নিয়ন্ত্রণের বদলে উদ্ভাবন, স্বেচ্ছামূলক নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব নিয়ন্ত্রণকে গুরুত্ব দিচ্ছে।
এই উদ্যোগে চীনের সঙ্গে উন্নত প্রযুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিযোগিতার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। ট্রাম্প জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নীতিমালা তৈরির ক্ষেত্রে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সহযোগিতা করার পরিকল্পনা তার নেই। বরং এআই প্রযুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব ধরে রাখার ওপরই তিনি জোর দিচ্ছেন।
জে ক্লেটনের সঙ্গে কার্যদলের সহ-সভাপতি হিসেবে এমিল মাইকেল, স্কট কাপোর ও ফেডারেল ট্রেড কমিশনের চেয়ারম্যান অ্যান্ড্রু ফার্গুসন থাকবেন। সদস্য হিসেবে থাকবেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ, অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এবং হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ সুসি ওয়াইলস।
বিনিয়োগকারী ডেভিড স্যাকস ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী কনডোলিজা রাইসকে এই উদ্যোগে বাইরের উপদেষ্টা হিসেবে রাখা হবে বলে জানা গেছে।
ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে প্রশাসনজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নেতৃত্ব দেওয়ার এটি দ্বিতীয় উদ্যোগ। রয়টার্স জানিয়েছে, এর আগে ডেভিড স্যাকস প্রশাসনের ‘এআই সম্রাট’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ঝুঁকি মোকাবিলা করতে গিয়ে প্রযুক্তির উন্নয়ন যাতে বাধাগ্রস্ত না হয়, সেটি এখন ওয়াশিংটনের বড় চ্যালেঞ্জ। অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এআই নিয়ে মানবসভ্যতার অস্তিত্বের জন্য বড় ধরনের হুমকির কিছু সতর্কতাকে অতিরঞ্জিত বলে মন্তব্য করেছেন। তবে তিনি মনে করেন, এআইয়ের নিরাপত্তার প্রধান দায়িত্ব প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোরই নেওয়া উচিত।
আগামী ১২০ দিনের পর্যালোচনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উদ্ভাবন, জাতীয় নিরাপত্তা ও জনসুরক্ষার মধ্যে ভারসাম্য রেখে চীনের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিগত নেতৃত্ব কীভাবে ধরে রাখা যায়, সেটিই বড় পরীক্ষার বিষয় হয়ে দাঁড়াবে।
সূত্র: রয়টার্স
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন