প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলায় ঢাকায় গোপনে বিয়ে করার পর স্ত্রীর সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগে এক যুবকের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। স্বীকৃতি ও আশ্রয়ের দাবি করে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী স্বামীর বাড়িতে যাওয়ার পর বাড়িতে তালা ঝুলিয়ে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা আত্মগোপনে চলে গেছেন বলে অভিযোগ করেছেন ওই নারী।
অভিযোগ থেকে জানা গেছে, উপজেলার ভাঙামোড় ইউনিয়নের উত্তর রাবাইটারী এলাকার বাসিন্দা দুলাল মিয়া ঢাকায় রাজমিস্ত্রীর কাজ করার সুবাদে বরিশালের এক বিধবা নারীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। প্রায় ছয় মাস আগে ওই যুবকরা ঢাকায় গোপনে বিয়ে করেন। বিয়ের পর একসঙ্গে তারা বসবাস করতে থাকেন।
ওই নারী বর্তমানে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করছেন। তার বাড়ি বরিশালের গৌরনদী উপজেলার কান্ডবাসা ইউনিয়নে অবস্থিত।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, বিয়ের পর দুলাল মিয়া বিভিন্ন সময় তার কাছ থেকে টাকা নিয়েছিলেন। বর্তমানে তিনি চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা।
তিনি আরও দাবি করেছেন, সমস্ত কিছু জানার পর তিনি জানতে পারেন যে, দুলাল মিয়ার পূর্বে থেকেই স্ত্রী ও সন্তান রয়েছে। এই অবস্থায়, গতকাল মঙ্গলবার সকালে ফুলবাড়ীতে স্বামীর বাড়িতে যাওয়ার কথা বলেন। সেখানে পৌছানোর পর দুলাল তাকে দেখতেই পালিয়ে যান বলে অভিযোগ করেছেন।
দুলাল তাকে মিষ্টি কথায় বিশ্বাস করিয়ে বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। এখন তিনি চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা। সারাদিন বাড়ির সামনে অবস্থান করে থাকলেও স্ত্রী হিসেবে কোনো স্বীকৃতি পাননি। বাধ্য হয়ে গভীর রাতে তিনি ৯৯৯ নম্বরে ফোন করতে বাধ্য হন।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, স্বামীর পরিবারের সদস্যরাও ওই নারীকে বাড়িতে প্রবেশ করতে দেননি। মঙ্গলবার সারাদিন অপেক্ষা করার পর কোনো সমাধান না পেয়ে তিনি চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েন।
খবর পেয়ে রাত দেড়টার দিকে ফুলবাড়ী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে ওই নারীকে উদ্ধার করে। পরে স্থানীয় শতাধিক মানুষের উপস্থিতিতে তাকে একই এলাকার আমিনুল ইসলামের বাড়িতে নিরাপদে রাখার ব্যবস্থা করা হয়।
অভিযুক্ত দুলাল মিয়ার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ফুলবাড়ী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ইয়াছিন আলী বলেছেন, দুলাল মিয়াকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি। তবে আমরা ওই নারীকে উদ্ধার করে স্থানীয় একজনের জিম্মায় রেখেছি। বুধবার স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা এবং জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে বিষয়টির সমাধানের চেষ্টা করা হবে। সমাধান না হলে এবং ভুক্তভোগী নারী আইনগত ব্যবস্থা নিতে চাইলে পুলিশ তাকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে প্রস্তুত।
প্রতিবেদন লেখার সময় বুধবার রাত পর্যন্ত ঘটনার কোন চূড়ান্ত সমাধান পাওয়া যায়নি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন