প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
স্বজনদের দাবি, পরিকল্পিত হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন তিনি; জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি।
বরিশালের বাকেরগঞ্জে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে হামলার শিকার হওয়ার নয় দিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মো. আনোয়ার হোসেন হাওলাদার (৫২) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।
শনিবার (৭ নভেম্বর) ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। রবিবার সকালে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।
নিহত আনোয়ার হোসেন উপজেলার পাদ্রীশিবপুর ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামের বাসিন্দা।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, জমিজমা নিয়ে আনোয়ার হোসেনের বড় ভাই দেলোয়ার হোসেন ও ছোট ভাই মঞ্জু হাওলাদারের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। সম্প্রতি আনোয়ার হোসেন নিজের জমিতে ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করলে মঞ্জু হাওলাদারের ছেলে নাসিম হাওলাদার ও দেলোয়ার হাওলাদারের ছেলে সোহেল হাওলাদার এতে বাঁধা দেন। এ বিরোধের জের ধরেই তাঁর ওপর হামলার ঘটনা ঘটে বলে দাবি পরিবারের।
নিহতের ছেলে আসিফ হাওলাদার ও মেয়ে নুপুর আক্তার জানান, গত ২৯ অক্টোবর রাতে এশার নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বাড়ি ফিরছিলেন তাঁদের বাবা। এ সময় চাচাতো ভাই নাসিম হাওলাদারের নেতৃত্বে সোহেল হাওলাদার, সমীর হাওলাদার ও নয়ন খানসহ কয়েকজন তাঁর ওপর হামলা চালান। একপর্যায়ে তাঁকে মাথায় কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়।
চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকদের পরামর্শে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়। সেখানে নয় দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শনিবার তাঁর মৃত্যু হয়।
নিহতের ভাগ্নে মো. জহিরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, তাঁর মামা আনোয়ার হোসেনকে পরিকল্পিতভাবে হামলা করে হত্যা করা হয়েছে। হামলায় মাথার খুলি গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় চিকিৎসার প্রয়োজনে তা খুলে সংরক্ষণ করা হয়েছিল। জটিল অস্ত্রোপচারের পরও শেষ পর্যন্ত তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এমন মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী ও নিহতের স্বজনরা।
জেলা পুলিশ সুপার এজেড এম মোস্তাফিজুর রহমান জানান, আনোয়ার হোসেন নামে একজনের মৃত্যুর খবর শুনেছি। পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দিলে মামলা নেওয়া হবে। ৯ দিন আগে হামলার ঘটনায় লিখিত অভিযোগ দিলেও পুলিশ কেন ব্যবস্থা নেয়নি এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন পুলিশের কোন গাফিলতি থাকলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন