প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ফরিদপুরের কোতোয়ালি থানার গেরদা ইউনিয়নের পশড়া গ্রামের নিখোঁজ যুবক মো. রনি মোল্যা (২২) ১৭ দিন পর বাড়িতে ফিরে এসেছেন। গত ১৩ আগস্ট সকালে কাজের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। রবিবার (৩০ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে রনি বাড়িতে ফিরে আসেন, যা তার পরিবারে স্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বাড়ি ফেরার পর রনি পরিবারের সদস্যদের কাছে তার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন। তিনি জানান, কাজের কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়ে ফরিদপুর শহরের আলীমুজ্জামান ব্রিজের সামনে পৌঁছালে দুই ব্যক্তি তাকে ভাঙ্গায় রডের কাজের হেলপার হিসেবে চাকরির প্রস্তাব দেন। তাদের প্রস্তাবে রাজি হয়ে রনি তাদের সাথে একটি অটোরিকশায় করে ভাঙ্গার উদ্দেশ্যে রওনা হন।
রনির ভাষ্য অনুযায়ী, তালমা এলাকায় পৌঁছানোর পর ওই ব্যক্তিরা তাকে কোমল পানীয় (স্পিড) পান করতে দেন। সেটি পান করার পর তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। যখন তার জ্ঞান ফেরে, তখন তিনি নিজেকে একটি বদ্ধ ঘরের মধ্যে দেখতে পান। রনি আরও জানান, জ্ঞান ফিরে পেলে তাকে খাবার দেওয়া হয় এবং বলা হয়, তিনি অসুস্থ হয়ে পড়ায় সেখানে রাখা হয়েছে। কাজের বিষয়ে জানতে চাইলে তাকে জানানো হয়, কাজটি একটি হাসপাতালে এবং পরদিন তাকে সেখানে নিয়ে যাওয়া হবে। এ সময় তিনি সন্দেহ করেন যে, তিনি কোনো প্রতারক চক্রের কবলে পড়েছেন।
পরে রনি সেখান থেকে পালানোর সুযোগ খুঁজতে থাকেন। একপর্যায়ে বাথরুমে যাওয়ার কথা বলে তিনি পালিয়ে বেরিয়ে আসেন। এরপর তিনি প্রায় ছয় ফুট উঁচু একটি দেয়াল টপকে দৌড়ে হাইওয়ে সড়কে পৌঁছান। রনির বর্ণনা অনুযায়ী, হাইওয়েতে একটি বাস যাত্রী ওঠানোর জন্য থামলে তিনি বাসটির পেছনের সিঁড়ি দিয়ে ছাদে উঠে পড়েন। পরে বাসটি যাত্রাবাড়ী এলাকায় পৌঁছালে বাসের হেলপার তাকে দেখতে পেয়ে জাগিয়ে তোলেন। কোথা থেকে বাসে উঠেছেন—এমন প্রশ্নের উত্তর তিনি তখন দিতে পারেননি।
এরপর রনি একটি বিরিয়ানির দোকানে গিয়ে সাহায্য চান। দোকানের মালিক তাকে আশ্রয় দেন এবং পরে ফরিদপুরে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। দুই দিন পর ওই দোকানের মালিকের সহযোগিতায় রনি বাড়িতে ফিরে আসেন।
রনির মা রওশন আরা বেগম জানান, গত ১৩ আগস্ট সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কাজের কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন তার ছেলে। এরপর তিনি আর বাড়িতে ফিরে আসেননি, ফলে আত্মীয়স্বজনসহ বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করা হয়। কোথাও সন্ধান না পেয়ে তিনি থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।
রনি বাড়ি ফিরে আসার পর পরিবারের সদস্যরা স্বস্তি পেলেও তার শারীরিক ও মানসিক অবস্থা এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। পরিবারের দাবি, নিখোঁজ থাকার সময় তাকে কোনো ধরনের ওষুধ বা মাদকজাতীয় কিছু খাওয়ানো হয়েছিল কি না, তা নিয়ে তাদের উদ্বেগ রয়েছে। রনিও বর্তমানে পুরোপুরি স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।
এদিকে, রনি মোল্যার দেওয়া বর্ণনা অনুযায়ী তিনি কীভাবে নিখোঁজ হয়েছিলেন এবং কারা তাকে নিয়ে গিয়েছিল, বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার করার দাবি জানিয়েছে পরিবার। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন