প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির ডিস্টিংগুইশড অধ্যাপক আলী রীয়াজ মন্তব্য করেছেন যে, বাংলাদেশের সংকটের মূল কারণ রাষ্ট্রযন্ত্রের রাজনীতিকীকরণ। তিনি উল্লেখ করেন, ২০০৯ সালের পর রাষ্ট্রযন্ত্র সহজ ও সরলভাবে দলের যন্ত্রে পরিণত হয়েছে।
তিনি জানান, আমলারা আমলাতন্ত্র হিসেবে চলতে চান না। আলী রীয়াজ বলেন, ‘আমলারা রাজনৈতিক প্রভুদের অধীনে চলতে রাজি। আমলাতন্ত্র হিসেবে নয় রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে রাজনৈতিক প্রভুদের সেবা করতেই বেশি পছন্দ করেন। আমি জানি, আমি খুব সাধারণীকরণ করছি, তবে মোটাদাগে এটাই চিত্র।’
আজ রবিবার সকালে রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে বে অব বেঙ্গল কনভারসেশনের দ্বিতীয় দিনে ‘দ্য অথরস টেবিল’ শীর্ষক সেশনে তিনি এসব কথা বলেন। হোটেলের মেঘনা কক্ষে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ কি চক্র ভাঙতে পারবে?’ শীর্ষক সেশনে ‘এ ফ্র্যাকচারড পাথ’ বইয়ের কেন্দ্রীয় প্রশ্নগুলো নিয়ে আলোচনা হয়। এতে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের ব্যর্থতার কারণ, মূল শক্তিগুলোর ভূমিকা, কাঠামোগত প্রতিবন্ধকতা এবং চলমান উত্তরণ টেকসই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা তৈরি করতে পারবে কি না—এসব বিষয় উঠে আসে।
বাংলাদেশ ‘চক্র’ ভাঙতে পারবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে আলী রীয়াজ বলেন, এখনই এটি ভেঙে বেরিয়ে আসা যাবে না—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো খুব তাড়াহুড়ো হবে। তবে তিনি আশাবাদী বলে জানান। আলী রীয়াজ বলেন, ‘বাংলাদেশ চক্র ভাঙতে পারে, কিন্তু সব সময় একটি সতর্কতা আছে—রাজনৈতিক শক্তিগুলো কি তা করতে ইচ্ছুক?’
জনগণের আকাঙ্ক্ষার পক্ষে তিনটি ইঙ্গিতের কথাও তুলে ধরেন আলী রীয়াজ। তার মধ্যে একটি হলো, কোনো রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব ছাড়াই গণঅভ্যুত্থান হয়েছে বলে জানান তিনি। অন্য একটি ইঙ্গিত হিসেবে গণভোটের কথা উল্লেখ করেন।
উপজাতীয় রাজনীতি বা ‘ট্রাইবাল পলিটিক্স’ প্রসঙ্গে আলী রীয়াজ বলেন, ‘আমি এই শব্দবন্ধে বলব না। আমি এখনো মনে করি, দলীয় রাজনীতির প্রাতিষ্ঠানিকীকরণের অভাব আছে। তবু আমি উপজাতীয় রাজনীতির ভাষায় যাব না।’
কী কী পরিবর্তন প্রয়োজন—এমন প্রশ্নের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিচার বিভাগ স্বাধীন না হলে এবং নির্বাচন কমিশন স্বাধীন না হলে গণতান্ত্রিক উত্তরণ সম্ভব নয়।
নির্বাহী বিভাগের প্রভাব ও নিয়ন্ত্রণ বিচার বিভাগ এবং গণতান্ত্রিক উত্তরণের জন্য মৌলিক অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর অনেকাংশে অতিমাত্রায় রয়েছে। প্রজাতন্ত্রের প্রশ্নেও এসব বিষয় সমাধান করা জরুরি বলে মনে করেন তিনি।
অধ্যাপক আলী রীয়াজ ছাড়াও আলোচনায় অংশ নেন ইউরোপীয় পার্টনারশিপ ফর ডেমোক্রেসির সিনিয়র আন্তর্জাতিক উপদেষ্টা মাইকেল লিডাউয়ার এবং ভারতের ওপি জিন্দাল গ্লোবাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক শ্রীরাধা দত্ত। সেশন সঞ্চালনা করেন ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের অ্যাডজাংক্ট ফ্যাকাল্টি মোহাম্মদ সাজ্জাদুর রহমান।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন