প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার মন্তব্য করেছেন যে, সরকার মেজরিটির ভূতে আক্রান্ত হয়েছে। একদলীয় কর্তৃত্ববাদী কায়দায় সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিল গঠন করে নিজেদের পছন্দের লোক দিয়ে রাজনৈতিক নেতা ও সাংবাদিকদের আটকের অযৌক্তিক পথ থেকে সরকারকে ফিরে আসার জন্য তিনি আহ্বান জানান।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে অনুষ্ঠিত ‘সাইবার সুরক্ষা আইন ২০২৬: নিরাপত্তা, নিয়ন্ত্রণ নাকি বাকস্বাধীনতা দমন?’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এই সেমিনারটির আয়োজন করে।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, অতীতে অনেক সরকার মেজরিটির জোরে ফ্যাসিবাদী হয়ে পড়েছে। কিন্তু বর্তমান সরকার ইতিহাস ভুলে গিয়ে মেজরিটির জোরে ৭০ ভাগ মানুষের রায়কে উপেক্ষা করছে এবং গণরায় বাতিল করার চেষ্টা করছে।
সাইবার আইনের ধারাবাহিকতা তুলে ধরে তিনি বলেন, গত ২০ বছরে আইসিটি আইন, ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন, সাইবার সিকিউরিটি আইন, সাইবার প্রোটেকশন অর্ডিন্যান্স এবং সর্বশেষ সাইবার প্রোটেকশন অ্যাক্টসহ আমরা সাইবার ইস্যুতে পঞ্চম স্তর অতিক্রম করছি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে জারি করা সাইবার প্রোটেকশন অর্ডিন্যান্স-২০২৫ আন্তর্জাতিক প্রযুক্তিগত স্ট্যান্ডার্ডের দিক থেকে মোটামুটি গ্রহণযোগ্য হলেও বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসে অতিদ্রুত এতে নতুন কিছু ভয়াবহ সংশোধনী এনেছে। তিনি মাত্র ১০ দিনের মধ্যে জনগণের মতামত চাওয়ার এই প্রক্রিয়াকে ‘মেজরিটির ভূত’ বলে অভিহিত করেন।
তিনি আরও বলেন, এই আইনের ২৬ ও ৩৪ ধারায় মানহানি, গুজব, অসত্য, তল্লাশি ও জব্দের মতো পরিভাষার অসংগতির সুযোগ নিয়ে রাজনৈতিক নেতা ও সাংবাদিকদের আটক ও সাজা দেওয়া হবে। অতীতে মাওলানা দেলোয়ার হোসাইন সাঈদী ও মাওলানা নিজামীকে প্রথমে ধর্ম অবমাননার মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার করে পরে যুদ্ধাপরাধের মামলায় ফাঁসির দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল বলেও তিনি স্মরণ করিয়ে দেন।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল স্পষ্টভাবে বলেন, আমাদের পরিষ্কার কথা—বর্তমান আইনই বহাল থাকুক, প্রস্তাবিত সমস্ত সংশোধনী প্রত্যাহার করুন। তা না হলে দেশের জনগণের ভাষা ও রাজপথের স্লোগান বুঝে সরকারের বোধোদয় হওয়া উচিত। অন্যথায় জনগণের রায়ের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করার কারণে সরকার জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে।
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রস্তাবিত সাইবার প্রোটেকশন কাউন্সিলে মন্ত্রী ও সরকারি কর্তাব্যক্তিরা থাকলেও সেখানে কোনো সাংবাদিক প্রতিনিধি বা পার্লামেন্টের বিরোধী দলের কোনো প্রতিনিধি রাখা হয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, জুলাই সনদের অঙ্গীকার লঙ্ঘন করে একদলীয় কর্তৃত্ববাদী কায়দায় এই কাউন্সিল গঠন করা হয়েছে।
গোলাম পরওয়ার রাষ্ট্রের নীতি নির্ধারণী ও আইন প্রণয়নের পাশাপাশি নৈতিকতা, আল্লাহর ভয় এবং নাগরিকদের নৈতিক মূল্যবোধ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
দৈনিক সংগ্রামের সাবেক সম্পাদক, লেখক ও সাংবাদিক আবুল আসাদের সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রফিকুজ্জামান রুমান।
এতে আরও বক্তব্য রাখেন জামায়াতের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি এলাহি নেওয়াজ খান সাজু, বিএফইউজের সাবেক মহাসচিব এম. আব্দুল্লাহ, বিএফইউজের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহীন, ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি ড. রেজাউল করিম, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য নাজমুন নাহার নিলু, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম মাসুদ এবং সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের প্রমুখ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন