প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, দিনের শেষে হাসপাতালের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত রোগীদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করা।
তিনি আরও বলেন, ব্যবস্থাপনা কমিটির প্রধান দায়িত্ব হলো নিশ্চিত করা হাসপাতাল সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হচ্ছে কি না। হাসপাতালের প্রবেশদ্বার থেকে ভেতরের প্রতিটি কার্যক্রম সম্পর্কে ব্যবস্থাপনা কমিটিকে অবগত থাকতে হবে। অন্যথায়, সেই কমিটি ব্যর্থ বলে বিবেচিত হবে।
আজ শুক্রবার ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিজস্ব মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব তথ্য উপস্থাপন করেন। সম্প্রতি ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হিসাবে মনোনীত হওয়ায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে সংবর্ধনা দেয়।
তিনি আরো বলেন, চিকিৎসা না পাওয়ায় কোনো রোগীকে যদি ঢাকায় স্থানান্তর করতে হয়, তবে সেটি ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সেবা ব্যবস্থার দুর্বলতার পরিচায়ক। তবে যে ধরনের চিকিৎসা দেওয়ার সক্ষমতা হাসপাতালের নেই, সেই ক্ষেত্রে রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র পাঠানোই যথাযথ।
শামা ওবায়েদ বলেন, হার্টের রোগী হোক, সর্দি-কাশি বা নারীদের স্বাস্থ্য সমস্যা—যে সমস্যা রেখেই রোগী আসুক না কেন, যদি আমরা তার চিকিৎসা নিশ্চিত করতে না পারি, তাহলে সভাপতি হিসেবে আমার থাকার কোনো অর্থ থাকে না। একইভাবে, ব্যবস্থাপনা কমিটিরও প্রয়োজনীয়তার মধ্যে থাকে।
তিনি বলেন, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বাজেট সংক্রান্ত কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে, তবে এটি কেবল এই হাসপাতালের নয়, বরং সারা দেশের বাস্তবতা। বরাদ্দকৃত অর্থের সুষ্ঠু ব্যবহার, দুর্নীতি ও অপচয় বন্ধ করা এবং জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বিদ্যমান সম্পদ দিয়েই হাসপাতালের কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা করা সম্ভব।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, হাসপাতাল পরিচালনায় রাজনৈতিক প্রভাব বা অনৈতিক সুবিধা গ্রহণের সুযোগ দেওয়া হবে না। তিনি উল্লেখ করেন, ‘কেউ যাতে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে হাসপাতাল থেকে কোনো অনৈতিক সুবিধা নিতে না পারে, তা আমি শতভাগ নিশ্চিত করব।’
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি উত্তরাধিকার হিসেবে পেয়েছে। এই পরিস্থিতিতেও স্বাস্থ্যখাতে সর্বোচ্চ অবদান রাখার জন্য সবার আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।
শামা ওবায়েদ হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা, আধুনিক যন্ত্রপাতির প্রাপ্যতা, চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য জনবলের ঘাটতি দূর করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলাম, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক দিলরুবা জেবা, হাসপাতালের পরিচালক হুমায়ন কবির, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ মোদাররেছ আলী, জেলা পরিষদের প্রশাসক আফজাল হোসেন খান এবং জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক জুলফিকার হোসেনসহ অন্যান্যরা বক্তব্য দেন। এর আগে বেলা সাড়ে ১১টায় হাসপাতালে পৌঁছালে শামা ওবায়েদকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন