প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার মঞ্চ থেকে বলিউডের জগতে প্রবেশ করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজের পরিচিতি তৈরি করেছেন ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি বিভিন্ন চরিত্রে দর্শকদের সামনে হাজির হয়েছেন। কখনো প্রেমে মগ্ন পারু, কখনো প্রাণবন্ত শার্লি, আবার কখনো রহস্যময় সুনেহরি। অভিনয়, ফ্যাশন এবং ব্যক্তিত্বের বৈচিত্র্যে তিনি নিজেকে আলাদা করে তুলেছেন। আজ ১ নভেম্বর, ৫৩ বছরে পদার্পণ করলেন তিনি।
১৯৭৩ সালের ১ নভেম্বর ভারতের কর্ণাটকের ম্যাঙ্গালুরুতে জন্মগ্রহণ করেন ঐশ্বরিয়া। তিনি মডেলিংয়ের মাধ্যমে তার পেশাগত জীবন শুরু করেন। ১৯৯৪ সালে মিস ওয়ার্ল্ডের খেতাব জয়ের পর তিনি আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিতি পান। এরপর চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তার নতুন অধ্যায় শুরু হয়। ১৯৯৭ সালে মণি রত্নমের তামিল সিনেমা ‘ইরুভার’-এ তার বড় পর্দায় অভিষেক ঘটে। একই বছর ‘অউর পেয়ার হো গয়া’ সিনেমার মাধ্যমে হিন্দি সিনেমায় প্রবেশ করেন।
১৯৯৯ সালে ‘হাম দিল দে চুকে সানাম’ সিনেমায় অভিনয় করে তিনি দর্শকদের নজর কাড়েন। এরপর ‘তাল’, ‘মোহাব্বতে’, ‘দেবদাস’, ‘ধুম ২’, ‘গুরু’ এবং ‘যোধা আকবর’-এর মতো জনপ্রিয় সিনেমায় অভিনয় করেছেন। তবে তার ক্যারিয়ারের কিছু চরিত্র বিশেষভাবে দর্শকদের মনে জায়গা করে নিয়েছে।
পারু—‘দেবদাস’
শাহরুখ খানের বিপরীতে ‘দেবদাস’ সিনেমায় পার্বতী বা পারো চরিত্রে অভিনয় করেছেন ঐশ্বরিয়া। প্রেম, অপেক্ষা ও বিরহের আবেগে সাজানো এই চরিত্রে তার উপস্থিতি দর্শকদের প্রশংসা অর্জন করে। সঞ্জয় লীলা বানসালি পরিচালিত এই সিনেমাটি ২০০২ সালে কান চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয়।
শার্লি—‘জোশ’
‘জোশ’ সিনেমায় শার্লি ডায়াস চরিত্রে তাকে দেখা যায়। গোয়ার প্রাণবন্ত তরুণী শার্লির সাজপোশাক ও স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি নব্বইয়ের দশকে দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। ‘মেরে খেয়ালোঁ কি মালিকা’ গানটিও সিনেমাটির একটি পরিচিত অংশ হয়ে ওঠে।
মানসী—‘তাল’
১৯৯৯ সালে মুক্তি পাওয়া সুভাষ ঘাই পরিচালিত ‘তাল’ সিনেমায় মানসী চরিত্রে অভিনয় করেন ঐশ্বরিয়া। অনিল কাপুর ও অক্ষয় খান্নার বিপরীতে তার অভিনয়, নাচ ও গানের দৃশ্য দর্শকদের প্রশংসা অর্জন করে। সিনেমাটির জনপ্রিয় গানগুলোতেও তিনি নজর কাড়েন।
মেঘা—‘মোহাব্বতে’
২০০০ সালে মুক্তি পাওয়া ‘মোহাব্বতে’ সিনেমায় মেঘা চরিত্রে দেখা যায় ঐশ্বরিয়াকে। শাহরুখ খানের বিপরীতে অভিনীত এই চরিত্রের পর্দায় উপস্থিতি ছিল সংক্ষিপ্ত, তবে গল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশজুড়ে ছিল মেঘার প্রভাব।
আমিরান—‘উমরাও জান’
২০০৬ সালের ‘উমরাও জান’ সিনেমায় আমিরান চরিত্রে অভিনয় করেন ঐশ্বরিয়া। এর আগে ১৯৮১ সালের সিনেমায় একই চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন রেখা। নতুন সংস্করণে তিনি নিজের মতো করে চরিত্রটি ফুটিয়ে তোলেন। ছবিটিতে তার অভিনয়ের পাশাপাশি নাচ ও পোশাকও আলোচনায় আসে।
বিনোদিনী—‘চোখের বালি’
ঋতুপর্ণ ঘোষ পরিচালিত ২০০৩ সালের বাংলা সিনেমা ‘চোখের বালি’তে বিনোদিনী চরিত্রে অভিনয় করেন ঐশ্বরিয়া। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত ছবিটি এক শিক্ষিত তরুণ বিধবার জীবনের গল্প তুলে ধরে। তৎকালীন সমাজের নানা বিধি-নিষেধের মধ্যে নিজের ইচ্ছা, আকাঙ্ক্ষা ও আত্মপরিচয়ের জায়গা খুঁজে ফেরে বিনোদিনী। সংযত অভিনয়ে চরিত্রটির বুদ্ধিমত্তা, আবেগের দ্বন্দ্ব ও প্রচলিত সামাজিক রীতির প্রতি প্রতিবাদ ফুটিয়ে তোলেন ঐশ্বরিয়া। এই চরিত্রটি তার ক্যারিয়ারের অন্যতম ব্যতিক্রমী ও জটিল চরিত্র হিসেবে বিবেচিত হয়।
সুনেহরি—‘ধুম ২’
‘ধুম ২’ সিনেমায় সুনেহরি চরিত্রে একেবারেই ভিন্ন রূপে হাজির হন ঐশ্বরিয়া। ২০০৬ সালে মুক্তি পাওয়া ছবিটিতে হৃত্বিক রোশনের বিপরীতে অভিনয় করেন তিনি। নাচ, স্টাইল ও চতুর চরিত্রের মিশেলে সুনেহরি হয়ে ওঠে তার ক্যারিয়ারের আলোচিত চরিত্রগুলোর একটি।
নীরজা—‘রেইনকোট’
ঋতুপর্ণ ঘোষ পরিচালিত ‘রেইনকোট’ সিনেমায় নীরজা চরিত্রে অভিনয় করেন ঐশ্বরিয়া। অজয় দেবগনের অভিনীত মনুর সঙ্গে একসময় তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বহু বছর পর সাবেক প্রেমিকের সঙ্গে দেখা হলে দুজনের কথোপকথনে উঠে আসে অতীতের স্মৃতি, বর্তমান জীবনের সংকট ও নানা অপূর্ণতার গল্প। প্রচলিত বাণিজ্যিক ছবির বাইরে সংযত অভিনয়ের মাধ্যমে এ সিনেমায় নিজের ভিন্ন দিক তুলে ধরেন ঐশ্বরিয়া।
সাবা—‘অ্যায় দিল হ্যায় মুশকিল’
২০১৬ সালে মুক্তি পাওয়া ‘অ্যায় দিল হ্যায় মুশকিল’ সিনেমায় সাবা তালিয়ার খান চরিত্রে অভিনয় করেন ঐশ্বরিয়া। পেশায় আর্ট কিউরেটর সাবার চরিত্রটি পর্দায় খুব বেশি সময় না থাকলেও তার উপস্থিতি দর্শকদের নজর আকর্ষণ করে।
বলিউডের বাইরেও ‘ব্রাইড অ্যান্ড প্রেজুডিস’, ‘দ্য মিস্ট্রেস অব স্পাইসেস’, ‘প্রভোকড’, ‘দ্য লাস্ট লিজিয়ন’ এবং ‘দ্য পিংক প্যান্থার ২’-এর মতো ইংরেজি ভাষার সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি। এসব কাজের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রেও পরিচিতি অর্জন করেছেন ঐশ্বরিয়া।
কান চলচ্চিত্র উৎসবের লালগালিচায়ও তিনি দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ। ২০০২ সালে ‘দেবদাস’-এর প্রদর্শনীতে প্রথমবার কান উৎসবে অংশ নেন। পরবর্তী বছর উৎসবের মূল প্রতিযোগিতা বিভাগের জুরি সদস্য হন। এরপর থেকে তার কান উপস্থিতি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে নিয়মিত আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
অভিনয়ের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি একাধিক পুরস্কার অর্জন করেছেন। ‘হাম দিল দে চুকে সানাম’ এবং ‘দেবদাস’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য ফিল্মফেয়ার সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার লাভ করেন। ২০০৯ সালে ভারত সরকার তাকে পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত করে। ২০১২ সালে ফ্রান্স সরকারও তাকে ‘অর্ডার অব আর্টস অ্যান্ড লেটার্স’ সম্মাননা প্রদান করে।
ব্যক্তিজীবনে ২০০৭ সালে অভিনেতা অভিষেক বচ্চনকে বিয়ে করেন ঐশ্বরিয়া। ২০১১ সালের ১৬ নভেম্বর তাদের ঘরে জন্ম নেয় মেয়ে আরাধ্যা বচ্চন। অভিনয় ও পারিবারিক জীবন—দুই দিক সামলিয়ে এগিয়ে চলেছেন এই অভিনেত্রী। মিস ওয়ার্ল্ডের মুকুট থেকে বলিউডের স্মরণীয় চরিত্র, আন্তর্জাতিক সিনেমা কিংবা কান উৎসবের লালগালিচা—প্রতিটি ক্ষেত্রেই তিনি নিজের উপস্থিতি জানান দিয়েছেন। ৫৩তম জন্মদিনে তার দীর্ঘ ক্যারিয়ারের দিকে ফিরে তাকালে স্পষ্ট হয়, সৌন্দর্যের পরিচিতির বাইরেও অভিনয়ের নানা রূপে দর্শকদের মনে জায়গা করে নিয়েছেন তিনি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন