প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যশোরের শার্শা থেকে মালয়েশিয়ায় কর্মরত উজ্জ্বল হোসেন নামের এক যুবকের মরদেহ দেশে ফিরেছে মৃত্যুর ১৭ দিন পর। শনিবার দিবাগত রাতের একটি ফ্লাইটে তার কফিনবন্দি মরদেহ ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছালে পরিবারের সদস্যরা তা গ্রহণ করেন।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮ টার দিকে কফিনে করে তার মরদেহ উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের রঘুনাথপুর গ্রামের নিজ বাড়িতে পৌঁছায়। উজ্জ্বল হোসেন ওই গ্রামের লিয়াকত আলীর সন্তান।
পরিবারের সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালে জীবিকার সন্ধানে মালয়েশিয়া পাড়ি জমান উজ্জ্বল হোসেন। তিনি পরিবারের অভাব-অনটন দূর করতে এবং প্রিয়জনদের মুখে হাসি ফোটাতে সেখানে গিয়েছিলেন। কিন্তু সেই স্বপ্নের পথ শেষ হলো নিথর দেহ হয়ে, মাটির টানে ফিরলেন তিনি, তবে জীবিত নয়, কফিনবন্দি হয়ে।
দীর্ঘ আট বছর প্রবাসজীবন কাটিয়ে ২০২৩ সালে দেশে ফিরে বিয়ে করেন তিনি। নতুন সংসারের স্বপ্নে তখন জীবন রঙিন হয়ে ওঠে। কিন্তু সেই সুখ বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। বিয়ের মাত্র তিন মাস পর আবারও মালয়েশিয়ায় ফিরে যেতে হয় উজ্জ্বলকে। প্রিয়তমা স্ত্রীর কাছে তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, ফিরে এসে তাদের সংসার সাজাবেন এবং স্বপ্ন পূরণ করবেন। কিন্তু নিয়তি যেন অন্য গল্প লিখে রেখেছিল।
মালয়েশিয়ায় যাওয়ার প্রায় তিন বছর পর, গত ১৫ দিন আগে হঠাৎ জ্বরে আক্রান্ত হন উজ্জ্বল। সহকর্মীরা তাকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় মালয়েশিয়ার সুলতানা আমিনা হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে এক সপ্তাহ চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১ সেপ্টেম্বর তিনি মারা যান। তার মৃত্যুর পর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সময় লাগে।
স্বজনরা জানান, দূতাবাসের সহায়তায় তারা তার মরদেহ দেশে আনতে সক্ষম হয়েছেন। আজ সকাল ১১ টায় স্থানীয় ঈদগাহ মাঠে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্বজন, প্রতিবেশীসহ স্থানীয় লোকজন অংশ নেন। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তার মরদেহ দাফন করা হয়।
যে মানুষটি একদিন পরিবারের স্বপ্ন পূরণ করতে বিদেশে পাড়ি দিয়েছিলেন, আজ সেই মানুষটিই ফিরেছেন কফিনবন্দি হয়ে। তার মৃত্যুতে গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন