প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নির্বাচন কমিশন (ইসি) সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, অনলাইনে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) বা ভোটার নিবন্ধনের আবেদন করার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বায়োমেট্রিক তথ্য প্রদান না করলে আবেদনটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে।
নতুন ভোটার নিবন্ধন বা এনআইডি-সংক্রান্ত আবেদনের ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় ধরে বায়োমেট্রিক তথ্য প্রদান না করা আবেদনকারীদের ঝুলে থাকা আবেদন নিষ্পত্তির উদ্দেশ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত নির্বাচন কমিশনের মাসিক সমন্বয় সভায় এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় কারিগরি ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচন কমিশনের সচিব আখতার আহমেদ এই বিষয়ে ইসি সচিবালয়ের সিস্টেম ম্যানেজারকে লিখিত নির্দেশনা প্রদান করেছেন। নির্দেশনার মধ্যে উল্লেখ করা হয়েছে যে, অনলাইনে নতুন ভোটার নিবন্ধন বা এনআইডি-সংক্রান্ত আবেদন করার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কার্যালয় বা বুথে গিয়ে ছবি তোলা, আঙুলের ছাপ ও চোখের আইরিশের তথ্য দিতে হবে। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলে বায়োমেট্রিক তথ্য জমা না দিলে আবেদনটি সিস্টেম থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে।
ইসির এই উদ্যোগের ফলে সার্ভারে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা অসম্পূর্ণ আবেদন সংখ্যা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সাথে আবেদন করে প্রয়োজনীয় তথ্য জমা না দেওয়ার কারণে সৃষ্ট জটিলতাও হ্রাস পাবে।
এদিকে, মাঠপর্যায়ের নির্বাচন কার্যালয়গুলোতে সংরক্ষিত পুরোনো নথিপত্র ও অপ্রয়োজনীয় সামগ্রী অপসারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। ২০১২ সাল থেকে জেলা ও উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ে সংরক্ষিত স্ক্যান করা ও সার্ভারে আপলোড করা ভোটার নিবন্ধন ফরম-২ এবং অন্যান্য অপ্রয়োজনীয় সামগ্রী নিষ্পত্তি করা হবে। এই কাজটি আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট কার্যালয়গুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তবে সব পুরনো নথি অপসারণ করা হবে না। কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০১১ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নিবন্ধিত ও সংরক্ষিত ভোটার নিবন্ধন ফরম আগের মতোই সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে গুরুত্বের সঙ্গে সংরক্ষণ করতে হবে। ফলে ২০১২ সাল থেকে স্ক্যান করে সার্ভারে সংরক্ষিত ফরমগুলোর কাগজই কেবল অপসারণের আওতায় আসবে।
নথিপত্র নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে তথ্যের গোপনীয়তা ও পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়টিও নির্বাচন কমিশন গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। বাতিলের জন্য নির্ধারিত ফরম ও নথিপত্র খোলাবাজারে বিক্রি না করে সরাসরি কাগজের মণ্ড তৈরির কাজে ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে দেশের সব আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা এবং জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালকের কাছে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন