প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দুর্গাপূজার মণ্ডপের ব্যতিক্রমী সাজসজ্জা তৈরি করা হয়েছে ফেলে দেয়া প্লাস্টিকের বোতল দিয়ে, যেগুলো সাধারণত ময়লার স্তূপে ঠাঁই পায়। এই সাজসজ্জার সঙ্গে তুলা ও নেটের ব্যবহার করে মেঘের আবহ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। আলো-আঁধারির খেলায় মণ্ডপটি ভিন্ন রূপ ধারণ করেছে। পরিবেশবান্ধব চিন্তা ও সৃজনশীলতার এমন চমৎকার সমন্বয় দেখতে পূজা মণ্ডপটিতে দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড় জমেছে।
শেরপুর শহরের নয়ানী বাজার কালীর বাজার মা ভবতারা মন্দিরে দুর্গাপূজার ৫৩ বছর পূর্তি উপলক্ষে মার্চেন্ট ক্লাব এই বর্ণিল আয়োজন করেছে। এবারের মণ্ডপসজ্জায় প্রধানত ব্যবহার করা হয়েছে ফেলে দেয়া প্লাস্টিকের বোতল। প্রায় ছয় হাজারের বেশি বোতল ব্যবহার করে এই ব্যতিক্রমী সাজ তৈরি করা হয়েছে। তুলা ও নেটের ব্যবহারে মেঘের দৃশ্য রূপায়ণ মণ্ডপের সৌন্দর্যে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
প্লাস্টিক বোতলের এই রূপায়ণ দর্শনার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করার পাশাপাশি পরিবেশ সচেতনতার বার্তাও পৌঁছে দিচ্ছে। বর্জ্য হিসেবে বিবেচিত প্লাস্টিক বোতলকে কাজে লাগিয়ে এমন সৃজনশীল সৃষ্টির উদ্যোগ সর্বমহলে প্রশংসিত হচ্ছে। ফলে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত মণ্ডপটিতে বিভিন্ন বয়সের মানুষের ঢল নামছে।
মণ্ডপে আসা অজয় কুমার নামের একজন দর্শনার্থী মন্তব্য করেন, ‘আগেরবার এখানে পাখির আদলে সাজানো হয়েছিল, আর এবার করা হয়েছে প্লাস্টিক বোতল দিয়ে। বিগত বছরের চেয়ে এবার এটি আরও বেশি সুন্দর লাগছে। প্রতি বছরই নতুন নতুন থিমে মণ্ডপ সাজানো হয়, যা দেখতে আমাদের খুব ভালো লাগে। তাই পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসলাম এবং স্মৃতি হিসেবে কিছু ছবিও তুলে রাখলাম।’
ঐশী পাল নামের অপর এক দর্শনার্থী বলেন, ‘এই উদ্যোগ থেকে আমরা বড় অনুপ্রেরণা পেতে পারি। প্লাস্টিক যত্রতত্র না ফেলে যদি পুনর্ব্যবহারের (রিসাইকেল) মাধ্যমে দরকারি বা নান্দনিক কিছু তৈরি করি, তবে তা সবার জন্যই কল্যাণকর হবে। প্লাস্টিক বোতল দিয়ে অনেক ধরনের শিল্পকর্ম তৈরি সম্ভব। এটি একদিকে যেমন মেধার চর্চা বাড়াবে, অন্যদিকে ঘরের সৌন্দর্যও বাড়াবে।’
মণ্ডপের সাজসজ্জার কাজটি করেছেন শহরের নয়ানী বাজার এলাকার দুই ভাই গৌর মালাকার ও নিতাই মালাকার। তারা জানান, প্লাস্টিক প্রতিনিয়ত পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি করছে। সেই প্লাস্টিক দিয়েই যে সুন্দর ডেকোরেশন বা শিল্পকর্ম তৈরি সম্ভব, পরিবেশ রক্ষার সেই বার্তা দিতেই এই চিন্তাভাবনা। চারজন সহকারীকে নিয়ে দীর্ঘ দেড় মাসেরও বেশি সময় ধরে তারা এই কাজ সম্পন্ন করেছেন। ছয় হাজারের বেশি প্লাস্টিক বোতল, তুলা ও নেটের সমন্বয়ে মেঘের আবহের ওপর চমৎকার আলোকসজ্জা করে মণ্ডপটিকে আকর্ষণীয় রূপ দেওয়া হয়েছে।
আয়োজকেরা জানান, অনিয়ন্ত্রিত প্লাস্টিক ব্যবহারের অপকারিতা সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করতেই এই প্রয়াস। পূজা শেষে মণ্ডপে ব্যবহৃত সব বোতল পরিবেশসম্মত উপায়ে অপসারণ করা হবে বলেও আশ্বাস দেন তারা।
মার্চেন্ট ক্লাবের সভাপতি মিহির কুমার দত্ত মুকুল বলেন, প্লাস্টিকের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টির পাশাপাশি সৃজনশীল উপায়ে মণ্ডপ সাজানোর চেষ্টা করেছি। এই ব্যতিক্রমী আয়োজনের মূল উদ্দেশ্যই হলো মানুষের কাছে পরিবেশ রক্ষার একটি শক্ত বার্তা পৌঁছে দেওয়া।
গত বছর মার্চেন্ট ক্লাবের আয়োজনে পাখি থিমে সাজানো পূজা মণ্ডপটি জেলাজুড়ে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল। এবার ফেলে দেওয়া প্লাস্টিক বোতলের সমন্বয়ে তৈরি এই ব্যতিক্রমী মণ্ডপটি একইভাবে দর্শনার্থীদের দারুণভাবে আকৃষ্ট করছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন