প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা, ২৯ আগস্ট, ২০২৬ : নির্ধারিত রুট পরিবর্তন করে পুরান ঢাকার নয়াবাজার এলাকায় প্রবেশ করায় শুল্কমুক্ত বন্ড সুবিধায় আমদানি করা প্রায় ৭৩ মেট্রিক টন পণ্যবাহী নয়টি ট্রাক জব্দ করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সিআইআইডির সহকারী পরিচালক কাজী আল মাসুম বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ২৮ আগস্ট রাতে নয়াবাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে বন্ড সুবিধার আওতায় আমদানি করা প্রায় ৭৩ মেট্রিক টন পণ্যবাহী নয়টি ট্রাক জব্দ করা হয়।
তিনি জানান, অভিযানের সময় ধাওয়া করলে একটি ট্রাক পালিয়ে যায়। এছাড়া আগে থেকে নির্ধারিত স্থানে রাখা আরও একটি ট্রাক শনাক্ত করা হয়। পরে জব্দ করা ট্রাকগুলো সিআইআইডির নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়।
কাজী আল মাসুম বলেন, অভিযানের সময় পালিয়ে যাওয়া ট্রাকটি তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তবে ট্রাকটি শনাক্ত এবং এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
তিনি জানান, ভারত থেকে খুলনার শ্রী ফ্লেক্সোপ্যাক লিমিটেডের নামে পণ্যগুলো আমদানি করা হয় এবং এগুলোর গন্তব্য ছিল খুলনার একটি বন্ডেড প্রতিষ্ঠান।
তিনি বলেন, ‘খুলনায় যাওয়ার নির্ধারিত রুট অনুসরণ না করে ট্রাকগুলো রুট পরিবর্তন করে পুরান ঢাকায় প্রবেশ করে। আমাদের ধারণা, স্থানীয় গুদামে পণ্য খালাস ও বিক্রির উদ্দেশ্যে এগুলো নেওয়া হচ্ছিল।’
সিআইআইডির এ কর্মকর্তা জানান, চট্টগ্রাম থেকে খুলনাগামী পণ্যবাহী যানবাহনের নির্ধারিত রুট হলো কাঁচপুর-সাইনবোর্ড-পোস্তগোলা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে-পদ্মা সেতু-খুলনা।
তিনি আরও বলেন, ট্রাকগুলো পোস্তগোলা থেকে নির্ধারিত রুট পরিবর্তন করে ঢাকার দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে শেষ পর্যন্ত নয়াবাজার এলাকায় প্রবেশ করে, যা খুলনাগামী স্বাভাবিক পরিবহন পথের বাইরে।
সিআইআইডি জানায়, জব্দ করা চালানে ডুপ্লেক্স বোর্ড ও অসম্পূর্ণ পণ্য ছিল। এসব পণ্য ভারতের মেহালি পেপার্স প্রাইভেট লিমিটেড থেকে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের মাধ্যমে আমদানি করা হয়।
কাজী আল মাসুম বলেন, তদন্তে ট্রাকগুলোর মালিকানা ও চলাচল, পণ্যের প্রকৃত গন্তব্য এবং আমদানিকারক, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট, পরিবহনকারী ও সম্ভাব্য ক্রেতাদের সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘যদি প্রমাণিত হয় যে বন্ডেড পণ্য অনুমোদিত উৎপাদন কার্যক্রমের বাইরে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া, খালাস করা বা বিক্রি করা হয়েছে, তাহলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কাস্টমস ও বন্ডসংক্রান্ত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তিনি আরও জানান, এর আগে একই ধরনের বন্ডেড পণ্য সরিয়ে নিয়ে খোলাবাজারে বিক্রি করা হয়েছিল কি না, সেটিও তদন্ত করা হচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন