প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেনের টিকিট দেখতে চাওয়ার কারণে ভারপ্রাপ্ত স্টেশনমাস্টার এবং টিকিট কালেক্টরকে (টিসি) মারধরের অভিযোগ উঠেছে এক যাত্রী ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। হামলায় আহত হয়েছেন ভারপ্রাপ্ত স্টেশনমাস্টার সাকির জাহান এবং টিকিট কালেক্টর সঞ্জিত মণ্ডল। তাদের পরে চিকিৎসার জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে স্টেশনের ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মে স্টেশনমাস্টারের কক্ষের সামনে এই ঘটনা ঘটে। স্টেশন কর্তৃপক্ষ এবং রেলওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকাল সোয়া ১০টার দিকে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রামগামী আন্তনগর মহানগর প্রভাতী এক্সপ্রেস ব্রাহ্মণবাড়িয়া স্টেশনে পৌঁছায়। এ সময় টিকিট পরীক্ষা করছিলেন টিসি সঞ্জিত মণ্ডল।
১ নম্বর প্ল্যাটফর্মের প্রধান ফটকে এক যাত্রীর কাছে টিকিট দেখতে চাইলে তিনি তা দেখাতে ব্যর্থ হন। এরপর তাকে স্টেশন থেকে বের হওয়ার ফটকে আটকে রাখা হয়। এ নিয়ে ওই যাত্রীর সঙ্গে টিসির বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়।
একপর্যায়ে সঞ্জিত মণ্ডল ওই যাত্রীকে রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থানকালে ওই যাত্রী ফোন করে তার সহযোগীদের ডেকে আনেন। কিছুক্ষণের মধ্যে ১০ থেকে ১২ জন যুবক সেখানে উপস্থিত হন। স্টেশন ও পুলিশ সূত্রের মতে, ওই যাত্রী নিজেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচয় দিয়ে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) মো. শাহ আলম মিয়া বিষয়টি মীমাংসা করে ওই যাত্রীকে ছেড়ে দেন। স্টেশন কর্মকর্তা ও পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ফাঁড়ি থেকে ছাড়া পাওয়ার পর দুপুর ১২টার দিকে ওই যাত্রী আরও ৮ থেকে ১০ জন যুবককে সঙ্গে নিয়ে লাঠিসোঁটাসহ স্টেশনে আসেন। এ সময় স্টেশনমাস্টারের কক্ষের সামনে টিসি সঞ্জিত মণ্ডলকে একা পেয়ে তারা মারধর শুরু করেন।
সঞ্জিত মণ্ডলের চিৎকার শুনে কক্ষ থেকে বেরিয়ে আসেন ভারপ্রাপ্ত স্টেশনমাস্টার সাকির জাহান। হামলাকারীরা তার ওপরও চড়াও হন এবং তাকে মারধর করেন। পরে স্টেশনের অন্যান্য কর্মচারীরা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।
ভারপ্রাপ্ত স্টেশনমাস্টার সাকির জাহান বলেন, ‘ট্রেনে বিনা টিকিটে ভ্রমণ করা এক যাত্রীকে আইন অনুযায়ী আটক করায় টিকিট কালেক্টরের ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়। তাকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে আমিও হামলার শিকার হই। আমরা এখন চরম আতঙ্কের মধ্যে আছি।’
ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মো. শাহ আলম মিয়া জানান, বিষয়টি রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। এ ঘটনায় স্টেশন কর্তৃপক্ষ লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। হামলাকারীরা শহরের কান্দিপাড়া এলাকার মাইমলহাটির বাসিন্দা বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তাদের গ্রেফতারে পুলিশ কাজ করছে। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন