প্রিন্ট এর তারিখঃ ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ইং; ০১:৫১ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ইং; ০৫:৪০ পি.এম
কলাপাড়ায় প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ব্যাপক দূর্নীতি-অনিয়মের বিস্তার অভিযোগ
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় সরকারের বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রমে এখন হ-য-ব-র-ল অবস্থা। প্রাথমিক শিক্ষার মান উন্নয়নে সরকারের বহুমাত্রিক অর্থ বরাদ্দ, শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি প্রদানের পরও বিদ্যালয় থেকে ঝড়ে পড়ছে শিশু শিক্ষার্থীরা। শিক্ষা অফিসের জনবল সংকটে বিদ্যালয় গুলোতে তদারকির অভাব, শিক্ষক সংকট, শিক্ষকদের কোচিং বানিজ্য, সরকারী বরাদ্দ লোপাট, অকার্যকর বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি নেপথ্যের কারণ হিসেবে প্রাথমিকভাবে বিবেচ্য হলেও বিদ্যালয়গুলোতে মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিতে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের, এমন অভিযোগ অভিভাবকসহ স্থানীয়দের।
মংগলবার সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, পটুয়াখালীর কলাপাড়া পৌর শহরতলীর ১৫১ নম্বর বাদুরতলী (১) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় চত্বরে গিয়ে দেখা গেল ফ্লাগ স্ট্যান্ডে উড়ছে বিবর্ন জাতীয় পতাকা। বিদ্যালয় ভবনটিতে যেন উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি দীর্ঘ এক যুগেও। সরকারী কোন অনুদান কিংবা উন্নয়ন বরাদ্দ এখানে এসে যেন পৌঁছেনি। ক্লাস চলাকালীন সময়ে শিক্ষার্থীরা খেলাধুলা করছে। প্রধান শিক্ষকের কক্ষ ফাঁকা। তাঁর দেখা মিললনা বিদ্যালয়ে। শিক্ষক মিলনায়তনে দেখা মিলল জাকির নামের একজন সহকারী শিক্ষকের, আর তিনজন নারী সহকারী শিক্ষিকাকে দেখা গেল প্রথম শিফটের অল্প কজন শিক্ষার্থীকে নিয়ে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করছে। তবে অধিকাংশ শিক্ষার্থীকে দেখা গেছে অমনোযোগী। হাজিরা খাতায় ২১ জন শিক্ষার্থীর তথ্য থাকলেও বাস্তবে শ্রেণিকক্ষের মেঝেতে বসে থাকতে দেখা গেল ১০/১২ জনকে। ক্লাস নিচ্ছেন সহকারী শিক্ষিকা মাকসুদা পারভিন । প্রাক প্রাথমিকের পাঠ দানে তাঁর কোন ধরনের প্রশিক্ষণ নেই। শ্রেণি কক্ষের পাশের শৌচাগারটি দেখা যায় তালা বদ্ধ । বিশুদ্ধ পানির জন্য স্থাপিত নলকূপটি প্রায় দেড় বছর ধরে বিকল। বিদ্যালয় চত্বরে নির্মিত ওয়াশ ব্লকের ট্যাঙ্কে মাসে দুএকবার পানি উত্তোলন করা হলেও সর্বদা থাকে অপরিচ্ছন্ন। শিক্ষার্থীরা গরমে হাঁসফাঁস করলেও বিশুদ্ধ পানি পানের সুযোগ নেই কোথাও। বিশুদ্ধ পানির জন্য শিক্ষার্থীসহ অভিভাবকদের আকুতিও যেন স্পর্শ করছেনা নিয়ম বহির্ভূত দুই যুগ ধরে একই বিদ্যালয়ে কর্মরত থাকা প্রধান শিক্ষিকা সুমাইয়া নাসরিনকে।
প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্র থেকে জানা যায়, কলাপাড়ার ১৭১ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১০৮ টি প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য, সহকারী শিক্ষকের পথ শূন্য রয়েছে ৪২ টি। খোদ শিক্ষা অফিসে শূন্য রয়েছে ৫টি পদ। সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া দেশের বাইরে যাওয়ায় রসুলপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. আরিফুর রহমানকে, চরচান্দুপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা নাহিদ আক্তার সুমি ও মাঝেরপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা মিমি রাখাইন কে চাকুরী থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। কর্মস্থলে অনুমোদনহীন অনুপস্থিতিতে ইটবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মাহমুদ আলম পলাশের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এছাড়া ফৌজদারী মামলার অভিযোগে লতাচাপলি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. জাকির হোসেন, তাহেরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক এমা ওয়েন, আবুল হোসেন ও সুলতানগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক আতিকুর রহমান খলিলকে সাসপেন্ড করা হয়েছে।
কলাপাড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোসা সাহিদা বেগম জানান, অফিসের জনবল সংকট এবং বিদ্যালয় গুলোতে শিক্ষক সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে। এছাড়া প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদের জন্য সহকারী শিক্ষকদের কাছ থেকে আবেদন নেয়া হয়েছে,যা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে । প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের শতভাগ উপস্থিতি নিশ্চিতে তিঁনি কাজ করছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন
কপিরাইট © ২০২৪-২৫ তালাশ বিডি.কম সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। || Design & Developed By "Talash BD Media Limited"