প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভারতের গুজরাটের জুনাগড় জেলায় অম্বাজী মন্দিরে পুণ্যতোয়া তীর্থযাত্রার সূচনায় ঘটে গেল এক মর্মান্তিক ও শিউরে ওঠার মতো দুর্ঘটনা। সিঁড়ি বেয়ে ওঠার মাত্র ৫০ ধাপের মাথায় আচমকা অন্ধকার থেকে প্রবেশ করে একটি সিংহ ১২ বছর বয়সী শিশুকে, যার নাম মায়ূর চৌহান, টেনে নিয়ে যায় গহিন অরণ্যের দিকে।
এই ভয়ঙ্কর ঘটনার পর পুণ্যার্থীদের মধ্যে গভীর আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং বন বিভাগ অবিলম্বে রাজ্যের অন্যতম ব্যস্ত এবং পবিত্র এই তীর্থযাত্রার প্রধান পথটি বন্ধ করে দেয়। পরে বনের ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয় ওই শিশুর জুতা, জামাকাপড় এবং দেহের কিছু অংশ।
বন কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, গিরনারের বিখ্যাত অম্বাজী মন্দিরের মূল সিঁড়িপথে তীর্থযাত্রীর ওপর সিংহের হামলার ঘটনা এটিই প্রথম। নিহত শিশু মায়ূর চৌহান খেড়া জেলার মোদজ গ্রাম থেকে তার পরিবারের সঙ্গে এই তীর্থযাত্রায় এসেছিল।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্বজনদের দেওয়া বিবরণ অনুযায়ী, ভোর পৌনে ৬টা নাগাদ প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জনের একটি দলের সঙ্গে তারা পাহাড়ের মূল প্রবেশপথ থেকে সিঁড়ি ভাঙতে শুরু করে। ওই পথটিতে পর্যাপ্ত আলো না থাকায় চারপাশটি ছিল অন্ধকার। কিছু বোঝার আগেই একটি সিংহ পেছন থেকে এসে মায়ূরের হাত কামড়ে ধরে এবং মুহূর্তের মধ্যে গভীর জঙ্গলে উধাও হয়ে যায়। স্তম্ভিত ও আতঙ্কিত বাকি পুণ্যার্থীরা তাকে বাঁচানোর জন্য কোনো প্রতিক্রিয়া দেখানোর সুযোগও পাননি। ঘটনার পরপরই পুলিশ এবং বন বিভাগের কর্মীরা ঘটনাস্থলে এসে এলাকাটি ঘিরে ফেলেন এবং মূল সিঁড়িপথ দিয়ে চলাচল বন্ধ করে দেন। তীর্থযাত্রীদের জটাশঙ্করের কাছে পুরোনো বিকল্প পথ দিয়ে যাতায়াতের নির্দেশ দেন তাঁরা।
এদিকে ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বন বিভাগ হামলাকারী সিংহটিকে খাঁচাবন্দি করতে সক্ষম হয়েছে বলে জুনাগড়ের উপ-বন সংরক্ষক অক্ষয় যোশী নিশ্চিত করেছেন। ট্র্যাকার, পশুচিকিৎসক এবং বিশাল কর্মী দল নিয়ে চালানো এক বিশেষ তল্লাশি অভিযানে সিংহটিকে ধরা হয়। পশুচিকিৎসকের পরীক্ষার সময় খাঁচাবন্দি সিংহটি বমি করে এবং তার পেট থেকে মানুষের শরীরের কিছু অংশ পাওয়া যায়, যা ঘটনার অকাট্য প্রমাণ।
তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, গত তিন দিন ধরে সিংহটিকে মূল সিঁড়ির আশপাশে দেখতে পাওয়া যায়। যদিও বন বিভাগের দাবি ছিল যে সেখানে নিরাপত্তাব্যবস্থা যথেষ্ট ছিল।
গুজরাটের বন ও পরিবেশমন্ত্রী অর্জুন মোধওয়াদিয়া এই ঘটনাকে অত্যন্ত দুঃখজনক ও অনভিপ্রেত বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি জানান, সাধারণত কোনো উসকানি বা কারণ ছাড়া সিংহ মানুষের ওপর এভাবে চড়াও হয় না। তাই ঠিক কী কারণে এই হামলা হয়েছে তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে।
সম্প্রতি গুজরাটে এশীয় সিংহের সঙ্গে মানুষের সংঘাত ও আক্রমণের ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, জুনের শেষ সপ্তাহ থেকে শুরু করে এই স্বল্প সময়ের মধ্যে এটি দ্বিতীয় ঘটনা যেখানে কোনো শিশুকে সিংহ টেনে নিয়ে গেল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এবং পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আগামী সোমবার রাজ্য সরকারের তরফ থেকে একটি উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা বৈঠক ডাকা হয়েছে। যেখানে বন-সংলগ্ন পর্যটন ও তীর্থক্ষেত্রের নিরাপত্তা বিধিমালা সংশোধনের বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন