প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জীবিকার সন্ধানে দক্ষিণ আফ্রিকায় পাড়ি দিয়েছিলেন মারুফ বেপারি। ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে তিনি সেখানে ব্যবসা করে আসছিলেন, কিন্তু চাঁদার টাকার বিরোধের কারণে সন্ত্রাসীদের গুলিতে প্রাণ হারাতে হলো এই প্রবাসী বাংলাদেশিকে। এখন তার মরদেহ বিদেশের মাটিতে পড়ে আছে। পরিবারের আকুতি, সরকার যেন দ্রুত মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করে।
বুধবার (২১ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউনের বুষ্টার এলাকার কাছে জুলুটেম্বা নামের একটি স্থানে নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন মারুফ বেপারি। স্থানীয় প্রবাসী বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, অতিরিক্ত চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোকে কেন্দ্র করে তাঁকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।
মারুফ বেপারির বাড়ি শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলার সিড্যা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম সিড্যা গ্রামে। তাঁর বাবা মৃত আব্দুস সোবহান বেপারি। তাঁর মৃত্যুর খবর বাড়িতে পৌঁছানোর পর পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের মাতম চলছে।
নিহত মারুফের পরিচিত প্রবাসী বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের মতে, তিনি দীর্ঘ ১০ বছরের বেশি সময় ধরে জুলুটেম্বা এলাকায় ব্যবসা পরিচালনা করছিলেন। অভিযোগ রয়েছে যে, ওই এলাকায় ব্যবসা করার জন্য স্থানীয় কিছু ব্যক্তি তাঁর কাছে প্রটেকশন মানি বা নিরাপত্তার নামে ৫০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ দক্ষিণ আফ্রিকান র্যান্ড দাবি করতেন।
সম্প্রতি চাঁদার অতিরিক্ত টাকা দাবি নিয়ে মারুফের সঙ্গে তাঁদের বাক্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হলে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু ঘটে বলে জানিয়েছেন ওই এলাকার প্রবাসী বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা।
তবে হত্যাকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে দক্ষিণ আফ্রিকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় কাউকে আটক করা হয়েছে কি না, তা-ও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
নিহতের স্বজন কামরুজ্জামান বেপারি বলেন, "চাঁদার জন্য বিদেশের মাটিতে আমার কাকা মারুফ বেপারিকে জীবন দিতে হয়েছে। ওখানকার দূতাবাস কি এগুলো দেখে না?"
তিনি আরও বলেন, তাঁদের আশা, সরকার দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে তাঁর কাকার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করুক। প্রিয়জনকে হারানোর শোকের মধ্যে পরিবারের সদস্যদের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ, কীভাবে দ্রুত মরদেহ দেশে এনে শেষবারের মতো তাঁকে দেখতে পাবেন।
পরিবারের সদস্যদের দাবি, বিদেশের মাটিতে একজন বাংলাদেশির এমন মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের জন্য নয়, পুরো এলাকার মানুষের জন্যও বেদনাদায়ক। দীর্ঘদিন প্রবাসে থেকে পরিশ্রম করে পরিবারের জন্য উপার্জন করা মারুফের মৃত্যুতে তাঁর স্বজনেরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
নিহতের মরদেহ বর্তমানে দক্ষিণ আফ্রিকার স্থানীয় একটি হাসপাতালে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে মরদেহ দেশে পাঠানোর আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া, সম্ভাব্য সময়সূচি কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
স্বজনেরা বাংলাদেশ সরকার, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশ দূতাবাসের সহযোগিতা কামনা করেছেন। তাঁদের প্রত্যাশা, প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করে মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা হবে এবং হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন