প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : বাংলাদেশে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত ড. জলিল রহিমি জাহানাবাদি রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে অনুষ্ঠিত এই সাক্ষাৎকালে, ইরানের রাষ্ট্রদূত মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য অভিনন্দন জানান।
রাষ্ট্রপতির প্রেস উইং আজ বিকেলে এই তথ্য প্রকাশ করে।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ইরানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক গভীর ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্কের ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে।
তিনি আরও বলেন, ফেরদৌসি, শেখ সাদি, হাফিজ, জালাল উদ্দিন রুমির মতো প্রখ্যাত পার্সি কবি ও মনীষীদের সৃষ্টিশীল কর্ম ও সাহিত্য এই অঞ্চলের মানুষের চিন্তা ও সংস্কৃতিকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে।
রাষ্ট্রপতি এসময় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা ও গানে ইরানের মানুষের প্রতি মমত্ববোধের কথা উল্লেখ করেন।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, "মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাতের ফলে বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশগুলো ব্যাপক জ্বালানি সংকটে পড়েছে।"
তিনি বিরোধ নিষ্পত্তির বিষয়ে বাংলাদেশের নীতিগত অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে সংলাপ, সমঝোতা ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
রাষ্ট্রপতি মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে ইরানে প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন করে ইরানের মাটিতে ইসরায়েলি হামলার ঘটনায় বাংলাদেশের নিন্দা পুনর্ব্যক্ত করেন।
এসময় রাষ্ট্রপতি বিশ্ব শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য মুসলিম উম্মাহর ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ইরানের রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হওয়ায় ইরানের রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কাছে একটি অভিনন্দনপত্র হস্তান্তর করেন।
তিনি মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমনে বাংলাদেশের গঠনমূলক ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজায় বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের স্পিকারের অংশগ্রহণের বিষয়টি কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন।
রাষ্ট্রদূত আশা প্রকাশ করেন যে, বাংলাদেশ ও ইরান বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করতে একযোগে কাজ করবে।
রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রদূতকে তার দায়িত্ব পালনে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেন এবং আশা প্রকাশ করেন যে, তার দায়িত্বকাল বাংলাদেশ-ইরান সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারবে।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিববৃন্দ, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং ইরান দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন