প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সাইক্লিংয়ের সময় পাথরের আঘাতের শিকার হয়েছেন ফারিবা। নিরাপত্তার খোঁজে ছেলের পোশাক পরে, মুখে একাধিক মাস্ক লাগিয়ে অনুশীলনে যেতে হয়েছে তাকে। শেষ পর্যন্ত নিজের দেশ আফগানিস্তানও ছাড়তে হয়েছে। সেই ফারিবা হাশিমিই এবারে এশিয়ান গেমসে নারীদের ব্যক্তিগত টাইম ট্রায়ালে সপ্তম স্থান অধিকার করেছেন।
২০২১ সালে তালেবান আফগানিস্তানের ক্ষমতায় ফিরে আসার পর ফারিবা ইতালিতে চলে যান। বর্তমানে সেখানেই তার বসবাস। কঠিন সেই পথ অতিক্রম করে এশিয়ান গেমসে সপ্তম হওয়া ২৩ বছর বয়সী এই সাইক্লিস্টের কাছে একটি ভালো ফলের চেয়ে অনেক বেশি কিছু। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে তার দীর্ঘ সংগ্রামের কাহিনী।
ফারিবা ১৫ বছর বয়সে তার বড় বোন ইউলদুজের সঙ্গে সাইক্লিং শুরু করেন। তবে আফগানিস্তানের ফারিয়াব প্রদেশে মেয়েদের সাইক্লিং করা ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। অনুশীলনে যাওয়ার সময় তাকে ছেলেদের ছদ্মবেশ ধারণ করতে বাধ্য হতে হতো।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে ফারিবা জানান, “আমি অনুশীলনে যাওয়ার সময় পুরুষের পোশাক পরতাম। দুই-তিনটি আলাদা মাস্কও পরতাম, যাতে মানুষ আমাকে চিনতে না পারে বা আক্রমণ করতে না পারে। আমি ভয় পেতাম, তারা আমাকে চিনে ফেলবে।”
তিনি আরও বলেন, “কখনো বড় পাথর আমার মাথার দিকে ছুড়ে মারা হয়েছে। কেউ কেউ বোতল ছুড়ে ফেলেছে। তারা আক্রমণাত্মক আচরণ করে আমাদের বাড়ি ফিরে যেতে বাধ্য করার চেষ্টা করত।”
বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন সাইক্লিস্ট আলেসান্দ্রা কাপেলোত্তোর সহায়তায় দুই বোন ইতালিতে চলে যান। ২০২৪ সালের প্যারিস অলিম্পিকেও তারা অংশগ্রহণ করবেন।
ইতালিতে সুখী জীবনের সন্ধান পেলেও, আফগানিস্তানে ফিরে যেতে না পারার দুঃখ ফারিবার কণ্ঠে শোনা যায়, “নিজের দেশে থাকতে পারি না, এটা দুঃখের। অনেক দিন ধরে পরিবারের কাউকে দেখিনি। স্বপ্ন অনুসরণ করতে আমি দেশ ছেড়েছি। মানুষের ছোড়া পাথর থেকে বাঁচতে আমাকে পালাতে হয়েছে।”
ফারিবার আশা, একদিন আফগানিস্তানের মেয়েরা দেশ থেকেই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেবেন, “আমরা এখনো বেঁচে আছি এবং এখনো লড়ছি।”
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন