প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মাদারীপুর, ১০ অক্টোবর, ২০২৬ : জেলার ডাসার উপজেলার নবগ্রাম ইউনিয়নের পশ্চিম শশিকর ওয়াপদারপাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান চলছে।
দীর্ঘকাল ধরে সংস্কারবিহীন অবস্থায় থাকা এই জরাজীর্ণ ভবনের ৩৬টি পিলারে ফাটল দেখা দিয়েছে। কোথাও পলেস্তারা খসে পড়েছে, আবার কোথাও রড বেরিয়ে এসেছে। এমন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় প্রতিদিন পাঠদান হচ্ছে। এতে শতাধিক শিক্ষার্থী চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে। শিক্ষক ও অভিভাবকরা উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৯১ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টি আশপাশের কয়েকটি গ্রামের শিশুদের জন্য প্রাথমিক শিক্ষার অন্যতম ভরসা। বিদ্যালয়টির প্রায় তিন কিলোমিটারের মধ্যে আর কোনো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই। ফলে ঝুঁকির বিষয়টি জানা সত্ত্বেও অভিভাবকদের সন্তানদের পড়াশোনার স্বার্থে এখানে পাঠাতে বাধ্য হতে হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের বিভিন্ন পিলারে ফাটল রয়েছে। দেয়াল ও পলেস্তারা ক্ষয়ে গেছে। কিছু স্থানে রড বেরিয়ে পড়েছে। বৃষ্টি হলে ছাদ ও দেয়াল চুইয়ে শ্রেণিকক্ষে পানি পড়ে। এতে শিক্ষার্থীদের বই-খাতা ভিজে যায় এবং আসবাবপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঝুঁকিপূর্ণ অবকাঠামোর পাশাপাশি শ্রেণিকক্ষের সংকটও রয়েছে। বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় এসব প্রতিকূলতার মধ্যেই পাঠদান চলছে।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানায়, শ্রেণিকক্ষে বসে পড়াশোনা করার সময় ভবন নিয়ে তাদের ভয় কাজ করে। বৃষ্টি হলে পানি পড়ে বই-খাতা ভিজে যায়। তারা দ্রুত বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানায়।
অভিভাবকরা অভিযোগ করে বলেন, শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে তারা সব সময় দুশ্চিন্তায় থাকেন। ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল ও পলেস্তারা খসে পড়ার দৃশ্য তাদের আতঙ্কিত করে। তারা আশঙ্কা করছেন যে, যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আগেই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটির পরিবর্তে নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পূরবী সরকার বাসস’কে বলেন, বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত সমস্যা দীর্ঘদিনের। ভবনের বিভিন্ন পিলারে ফাটল থাকায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। বৃষ্টির সময় শ্রেণিকক্ষে পানি পড়ে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় বিঘ্ন ঘটে। ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে পাঠদান করানো কঠিন হয়ে পড়েছে। দুর্ঘটনা ঘটার আগেই বিদ্যালয়ের ভবনটির বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
তিনি আরও বলেন, বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষকরাও তাদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে আন্তরিকভাবে কাজ করছেন। কিন্তু জরাজীর্ণ ভবন ও শ্রেণিকক্ষের সংকট স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করছে।
ডাসার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিল পারভেজ বাসস’কে বলেন, বিদ্যালয় ভবনের বর্তমান অবস্থা যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পিড়ারবাড়ী, নইয়ারবাড়ী, উত্তর শশিকর ও পশ্চিম শশিকর এলাকার শিক্ষার্থীদের জন্য বিদ্যালয়টি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। নতুন ভবন নির্মাণের জন্য বিদ্যালয়ের নিজস্ব ৩৩ শতাংশ জমিও রয়েছে।
এলাকাবাসী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের প্রত্যাশা, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত ভবনটির কারিগরি পরীক্ষা করা হবে এবং ঝুঁকির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন