প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রাজধানীতে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)-এর বিক্ষোভ প্রতিহত করতে পুলিশের সংগৃহীত ১,৫৫০টি কনটেইনারের জন্য সরকারকে দৈনিক ৪ কোটি ৬৫ লাখ রুপি খরচ করতে হবে।
পুলিশের সূত্র অনুযায়ী, পিটিআই তাদের নির্ধারিত বিক্ষোভ সমাবেশ প্রায় এক সপ্তাহ পিছিয়ে দেওয়ার ফলে ইসলামাবাদ ক্যাপিটাল পুলিশের চাওয়া নিরাপত্তা বাজেট কার্যত দ্বিগুণ হয়ে ১ কোটি (১ বিলিয়ন) রুপি ছাড়িয়ে যেতে পারে।
পিটিআই ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে দেশব্যাপী আন্দোলনের ডাক দিয়েছিল। এই ঘোষণার পর ইসলামাবাদ পুলিশসহ অন্যান্য স্থানে প্রস্তুতি শুরু হয়। পাঞ্জাব ও সিন্ধু থেকে আসা অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যদের থাকা-খাওয়া এবং কনটেইনারের ভাড়া মেটানোর জন্য তারা ৮২ কোটি (৮২০ মিলিয়ন) রুপি বাজেট আবেদন পাঠিয়েছে।
‘অল পাকিস্তান গুডস অ্যালায়েন্স’-এর চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, কর্তৃপক্ষ এখনও সিদ্ধান্ত নেয়নি যে কনটেইনারগুলো ছেড়ে দেওয়া হবে নাকি পুলিশের হেফাজতে রাখা হবে। পুলিশ মূলত ২৭ সেপ্টেম্বর শুরু হতে যাওয়া বিক্ষোভ ও লংমার্চ ৪ অক্টোবরের মধ্যে শেষ হওয়ার হিসাব করে এক সপ্তাহের বাজেট নির্ধারণ করেছিল। তবে বিক্ষোভের তারিখ এক সপ্তাহ পিছিয়ে যাওয়ায় ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে।
নিসার হোসেন জাফরি জানান, সমিতি প্রথমে ৪০ ফুট ও ২০ ফুটের কনটেইনারের জন্য দৈনিক ভাড়া যথাক্রমে ৪০,০০০ ও ২০,০০০ রুপি দাবি করেছিল। পরে তা সংশোধন করে সব আকারের কনটেইনারের জন্য দৈনিক ভাড়া ৩০,০০০ রুপি নির্ধারণ করা হয়।
পিটিআই লংমার্চ স্থগিত করার পর কনটেইনারগুলোর বিষয়ে পুলিশের মতামত জানতে চাওয়া হয়। তিনি বলেন, কর্তৃপক্ষ এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি। সূত্রের হিসাব অনুযায়ী, তাদের দাবিকৃত দর অনুযায়ী ১,৫৫০টি কনটেইনারের প্রতিদিনের ভাড়া ৪ কোটি ৬৫ লাখ রুপি। এক সপ্তাহের ভাড়া ৩২ কোটি ৫৫ লাখ রুপি এবং দুই সপ্তাহের ভাড়া ৬৫ কোটি ১০ লাখ রুপি।
সূত্র আরও জানায়, পুলিশ পাঞ্জাব থেকে ১৬,০০০ এবং সিন্ধু পুলিশ থেকে ২,০০০ অতিরিক্ত সদস্যের চাহিদা দিয়েছিল। সিন্ধু পুলিশের দলটি ইতোমধ্যে ইসলামাবাদে পৌঁছেছে। তাদের পুলিশ লাইন্স হেডকোয়ার্টার্স, ফয়সাল মসজিদ এবং জি-১৩ সেক্টরের কমিউনিটি সেন্টারে মার্কি (অস্থায়ী তাবু) খাটিয়ে রাখা হয়েছে।
আগামী এই সদস্যদের তিন বেলা খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে। জনপ্রতি তিন বেলার খাবারের খরচ ৬০০ রুপি। সেই হিসেবে সিন্ধু পুলিশের ২,০০০ সদস্যের খাবারের পেছনে প্রতিদিন খরচ হচ্ছে ১২ লাখ রুপি। এক সপ্তাহে এই ব্যয় দাঁড়াবে ৮৪ লাখ রুপি এবং দুই সপ্তাহে ১ কোটি ৬৮ লাখ রুপি।
তবে পাঞ্জাব পুলিশের কাঙ্ক্ষিত দলটি এখনও ইসলামাবাদে পৌঁছায়নি। সূত্রের খবর, ২৬ সেপ্টেম্বর বিকেল থেকে নিরাপত্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কথা থাকায় ২৫ সেপ্টেম্বর বিকেলের মধ্যেই ১৬,০০০ সদস্যের দলটির পৌঁছানোর কথা ছিল। কিন্তু শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত পাঞ্জাব পুলিশের কোনো সদস্য রাজধানীতে এসে পৌঁছাননি।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যাতায়াতের জন্য প্রায় ৭০টি কোস্টার, ৩০টি ডাবল-ক্যাবিন গাড়ি এবং বেশ কিছু বাস ভাড়া করা হয়েছে। একটি কোস্টারের দৈনিক ভাড়া ১৫,০০০ রুপি হিসেবে ৭০টি কোস্টারের দিনে লাগে ১০ লাখ ৫০ হাজার রুপি। অন্যদিকে, একটি ডাবল-ক্যাবিন গাড়ির প্রতিদিনের ভাড়া ১০,০০০ রুপি ধরে ৩০টি গাড়ির জন্য দিনে খরচ হচ্ছে ৩ লাখ রুপি।
এছাড়া বিভিন্ন স্তরের পুলিশ কর্মকর্তাদের থাকার জন্য শহরজুড়ে ১৩টি হোটেলে ১৭৫টি রুম বুক করেছে পুলিশ। এর মধ্যে ২৪৬ জন পরিদর্শক (ইনস্পেক্টর), ৫৮ জন সহকারী ও ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট, পুলিশ সুপার, ১০ জন সিনিয়র পুলিশ সুপার এবং ৮ জন ডেপুটি ইনস্পেক্টর জেনারেলের (ডিআইজি) থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
১৩টি হোটেলের মধ্যে ১১টি হোটেলের ১৫৭টি রুম বুক করা হয়েছে ইনস্পেক্টর থেকে এসপি পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের জন্য। এসব রুমের দৈনিক ভাড়া ৭ লাখ ৫৪ হাজার ৫০০ রুপি, যা এক সপ্তাহে দাঁড়ায় প্রায় ৫২ লাখ ৮১ হাজার ৫০০ রুপি।
পাঞ্জাব পুলিশের ফোর্স এখনও না পৌঁছালেও তাদের তিন বেলার খাবারের সম্ভাব্য খরচ হিসাব করা হয়েছে দৈনিক ৯৬ লাখ রুপি, যা এক সপ্তাহে গিয়ে ঠেকবে ৬ কোটি ৭২ লাখ রুপি।
তবে যাতায়াতের জন্য প্রস্তুত রাখা বাসগুলোর ভাড়া এবং ডিআইজি ও এসএসপিদের জন্য দুটি হোটেলে বুক করা ১৮টি রুমের খরচের তথ্য এখনও জানা যায়নি।
এদিকে, ‘অল পাকিস্তান গুডস অ্যালায়েন্স’-এর চেয়ারম্যান নিসার হোসেন অভিযোগ করেছেন, ইসলামাবাদ ও পাঞ্জাব পুলিশ তাদের কর্মীবৃন্দসহ অন্তত ২,৭০০টি পণ্যবাহী গাড়ি নিজেদের জিম্মায় নিয়েছে।
এর মধ্যে প্রায় ৪০০টি গাড়ি ও তার চালক-সহকারীদের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। বাকিদের বিভিন্ন থানায় আটকে রাখা হয়েছে। তিনি স্পষ্ট করেন যে পুলিশ চালক ও কর্মীদের আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার না করলেও থানা থেকে বের হতে দিচ্ছে না, কেবল খাবারের ব্যবস্থাটুকু করছে। পাশাপাশি তাদের মোবাইল ফোন, গাড়ির কাগজপত্র এবং চাবি কেড়ে নেওয়া হয়েছে।
পুলিশ সূত্র জানায়, কনটেইনার ছাড়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত কর্মীদের থানায় রেখে দেওয়া হবে। এসব বড় কনটেইনার চালানোর জন্য বিশেষ দক্ষতার প্রয়োজন হওয়ায় মূলত তাদের সেখানে আটকে রাখা হয়েছে যেন প্রয়োজনমতো গাড়ি চালানো যায়।
ইসলামাবাদ, রাওয়ালপিন্ডি, লাহোর, ঝং, হাসানআব্দাল, অ্যাটক, কামোকে, তক্ষশীলা, ঝিলম, মিয়ানওয়ালি, চকওয়াল, ফয়সালাবাদ এবং গুজরাট থেকে এসব যান ও কর্মীদের আটক করা হয়। আটক ২,৭০০টি গাড়ির মধ্যে ৪৫০টিতে ওষুধ, খাদ্যদ্রব্য ও রাসায়নিক সামগ্রী বোঝাই ছিল।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন