প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রাজধানীর বেইলি রোডের (নাটক সরণি) বাংলাদেশ মহিলা সমিতির ড. নীলিমা ইব্রাহিম মিলনায়তনে নাটক মঞ্চায়নের জন্য সরকারি প্রণোদনা ও ভর্তুকি অবিলম্বে পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় শতাধিক নাট্যশিল্পী ও সংস্কৃতি কর্মী।
আজ (২৫ অক্টোবর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে তারা এই দাবি জানান। নাট্যজন সৈয়দ জামিল আহমেদ, সারা যাকের, রামেন্দু মজুমদার, মামুনুর রশীদ, ফেরদৌসী মজুমদার, শহীদুজ্জামান সেলিমসহ দেশের ১০১ জন বিশিষ্ট নাট্যব্যক্তিত্ব এই বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, আগে মহিলা সমিতি মিলনায়তনে এক শিফটে নাটক মঞ্চায়নের জন্য নাট্যদলগুলোকে ভাড়া দিতে হতো ৫ হাজার টাকা। কিন্তু চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ভর্তুকি বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে নাট্যদলগুলোকে একই শিফটের জন্য গুণতে হচ্ছে ১১ হাজার ৫০০ টাকা। এতে নাট্যদলগুলো চরম আর্থিক চাপে পড়েছে এবং এই ঐতিহ্যবাহী মঞ্চে নাটক প্রদর্শনীর আগ্রহ কমছে।
স্বাধীন বাংলাদেশের নাট্যচর্চায় এই মঞ্চটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, ১৯৭৩ সালে এই মহিলা সমিতির মঞ্চ থেকেই বাংলাদেশে টিকিট কেটে নাটক দেখার সংস্কৃতির সূচনা হয়। ২০০৫ সালে ঢাকার তৎকালীন মেয়র সাদেক হোসেন খোকা আনুষ্ঠানিকভাবে এ সড়কটির নাম দেন ‘নাটক সরণি’। তবে হঠাৎ হল ভাড়া দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে যাওয়ায় টিকিট বিক্রি করে প্রদর্শনীর আয় থেকে খরচ তোলা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
তথ্যসূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের জুন মাস থেকে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় মহিলা সমিতিতে নাটক মঞ্চায়নে বিশেষ অনুদান দেওয়া শুরু করে। সর্বশেষ ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে এ খাতে ১১ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। তবে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে তা পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়।
নাট্যকর্মীরা জানান, ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে প্রতি মাসে ২০টি প্রদর্শনীর বিপরীতে প্রতি প্রদর্শনীতে ৬ হাজার ৫০০ টাকা হারে মোট ১১ মাসের জন্য ১৪ লাখ ৩০ হাজার টাকা বরাদ্দ চেয়ে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের কাছে ইতিমধ্যেই আবেদন করা হয়েছে।
থিয়েটার বিষয়ক পত্রিকা ‘ক্ষ্যাপা’র নির্বাহী সম্পাদক এবং নাট্যকার অপু মেহেদীর পক্ষে পাঠানো এই বিবৃতিতে নাট্যকর্মীদের সুনির্দিষ্ট দুটি দাবি হলো- বাংলাদেশ মহিলা সমিতির ড. নীলিমা ইব্রাহিম মিলনায়তনে নাটক মঞ্চায়নের জন্য চাওয়া ১৪ লাখ ৩০ হাজার টাকার সরকারি প্রণোদনা অবিলম্বে পুনর্বহাল করতে হবে; নাট্যদলগুলোর আর্থিক চাপ কমাতে নাট্যচর্চায় সরকারি প্রণোদনার সামগ্রিক পরিমাণ বাড়াতে হবে এবং নিয়মিত বরাদ্দ নিশ্চিত করতে হবে।
বিবৃতিদাতাদের মধ্যে রয়েছেন– সৈয়দ জামিল আহমেদ, সারা যাকের, অধ্যাপক আব্দুস সেলিম, কামাল হোসেন, মাসুম রেজা, মামুনুর রশীদ, মোহাম্মদ আলী হায়দার, কামালউদ্দিন কবির, রামেন্দু মজুমদার, অলোক বসু, ইউসুফ হাসান অর্ক, ফেরদৌসী মজুমদার, হারুন রশীদ (নাট্যকার), ঠান্ডু রায়হান, রতন সিদ্দিকী, আহমেদ ইকবাল হায়দার, শামীমা শওকত লাভলী, ত্রপা মজুমদার, শামীম জামান, আক্তারুজ্জামান, কামরুল হাসান, সাইফুল জার্নাল, ফজলুর রহমান বাবু, জ্যোতি সিনহা, হুমায়ুন আজম রেওয়াজ, শরীফ হাসান চৌধুরী, হামিদুর রহমান পাপ্পু, অনন্ত হিরা, জয়িতা মহলানবিশ, বাকার বকুল, ওয়াসিম আহমেদ, শুভাশিস সিনহা, সৈয়দা শামছি আরা সায়েকা, শুভাশিস দত্ত তন্ময়, তোসাদ্দেক হোসাইন মান্না, কাজী রুখসানা রুমা, কাজী রাকিব, আবু আজাদ, আশিকুর রহমান লিয়ন, রূবাইয়াৎ আহমেদ, নাহিদ স্মৃতি, শামীম সাগর, আপন আহসান, মলয় ভৌমিক, অপু মেহেদী, রুমা মোদক, শাহজাদা সম্রাট চৌধুরী, মোহসিনা আক্তার, সামিউন জাহান দোলা, চারু পিন্টু, মাহফুজ সুমন, নূনা আফরোজ, শতাব্দী ওয়াদুদ, মীর জাহিদ হাসান, মামুন রেজা সৈয়দ, হাবিব জাকারিয়া উল্লাস, পাভেল রহমান, জাহিদ রিপন, ভাস্বর বন্দোপাধ্যায়, নাজনীন হাসান চুমকী, তৌফিকুল ইসলাম ইমন, জগন্ময় পাল, পারভীন পারু, সোহেল মন্ডল, ক্যাথরিন পিউরিফিকেশন, শহীদুল মামুন, ড. বাবুল বিশ্বাস, আনন জামান, গোলাম শাহরিয়ার সিক্ত, আজাদ আবুল কালাম, রোজী সিদ্দিকী, শাহেদ আলী, খোরশেদুল আলম, অধ্যাপক শফি আহমেদ, আরিফ হায়দার, সাইদুর রহমান লিপন, মোহাম্মদ বারী, মারুফ কবির, শহীদুজ্জামান সেলিম, খন্দকার রাকিবুল হক, এম এস রানা, সাইফ সুমন, সুবীর মহাজন, অসীম দাশ, তামান্না হক সিগমা, সামিনা লুৎফা, রেজা আরিফ, রহমান রাজু, তানভীর নাহিদ খান, শামীমা আক্তার মুক্তা, কাজী নওশাবা আহমেদ, আমিনুর রহমান মুকুল, অম্লান বিশ্বাস, মাজহারুল ইসলাম তোকদার, মুস্তাফিজ শাহীন, কুন্তল বড়ুয়া, শাহনাজ জাহান, শাখাওয়াত হোসেন শিমুল, সাজ্জাদ সাব্বির, শরণ এহসান ও ফারুক আহমেদ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন