প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রাজশাহীতে শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ এবং নিরাপদ শৈশব নিশ্চিত করতে ধর্মীয় মূল্যবোধকে কাজে লাগানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
এ লক্ষ্যে, শিশু সুরক্ষা বিষয়ক কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নেতারা অংশ নিয়েছেন।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে ‘শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ ও শিশু সুরক্ষা’ শীর্ষক কর্মশালার আয়োজন করে ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ রাজশাহী শহরের এরিয়া ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামিক ফাউন্ডেশন রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক মুহাম্মদ ইমামুল ইসলাম। তিনি মন্তব্য করেন, শিশুরা সবার আমানত। তাদের প্রতিটি ক্ষেত্রে নির্যাতন, অবহেলা বা সহিংসতা গ্রহণযোগ্য নয়। পরিবার এবং সমাজে ধর্মীয় মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সবার দায়িত্বশীল হতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ধর্মীয় নেতারা মানুষের কাছে সহজে পৌঁছে যেতে পারেন। তাই শিশু সুরক্ষায় তাঁদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মসজিদ, মন্দির ও গির্জার মাধ্যমে সচেতনতা তৈরি করে সম্মিলিতভাবে শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে কাজ করতে হবে।
রাজশাহী শহরের এডিপির প্রোগ্রাম অফিসার রিপন হালদারের সঞ্চালনায় কর্মশালায় শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের রাজশাহী এডিপির প্রোগ্রাম অফিসার ফিলিপ আরিন্দা। তিনি আলোচনা করেন, শিশু সুরক্ষায় ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরে এবং বলেন, শিশুর স্বাস্থ্য, শিক্ষা, নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিবার ও সমাজ থেকে দারিদ্র্য ও অন্যায্যতা দূর করতেও সংস্থাটি কাজ করছে।
তিনি জানান, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের ৩০টি ওয়ার্ডে সরকারের উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতায় ধর্মীয় নেতাদের সম্পৃক্ত করে এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে। ধর্মীয় নেতারা নিজ নিজ সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন, যার ফলে শিশু সুরক্ষা ও সহিংসতা প্রতিরোধের বার্তা সমাজের বিভিন্ন স্তরে আরও কার্যকরভাবে পৌঁছানো সম্ভব।
কর্মশালায় ইসলাম ধর্মের আলোকে শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে ধর্মীয় নেতাদের ভূমিকা ও করণীয় বিষয়ে বক্তব্য দেন মহানগর মডেল মসজিদের খতিব হাফেজ আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশন রাজশাহীর ফিল্ড অফিসার জাহাঙ্গীর আলম।
হিন্দু ধর্মের আলোকে বক্তব্য রাখেন রামকৃষ্ণ আশ্রমের পুরোহিত অরুণ কুমার সত্য এবং পবা উপজেলার নওহাটা শিবকালী মাতা মন্দিরের পুরোহিত শংকর চক্রবর্তী। খ্রিস্টান ধর্মের আলোকে বক্তব্য দেন উত্তম মেষপালক ক্যাথিড্রালের ভিকার জেনারেল ও পালক পুরোহিত ফাদার ফাবিয়ান মারান্ডী।
এই কর্মশালায় শিশুদের প্রতি শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, বাল্যবিবাহ, শিশুশ্রম, যৌন হয়রানি এবং অন্যান্য ঝুঁকি প্রতিরোধে ধর্মীয় নেতাদের করণীয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। একই সঙ্গে ধর্মীয় বক্তব্য, উপদেশ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিশু সুরক্ষার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বক্তারা উল্লেখ করেছেন- শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে শুধুমাত্র আইন প্রয়োগ যথেষ্ট নয়; পাশাপাশি পরিবার ও সমাজের মানসিকতা পরিবর্তন করাও জরুরি। ধর্মীয় মূল্যবোধ, মানবিকতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধকে কাজে লাগিয়ে শিশুদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করতে হবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের রাজশাহীর সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার নীলু বেগম, জুনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার মোসা. শারমিন আক্তার সুরভী ও অর্জুন রায়সহ অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন