প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পবিত্র হারামাইন শরীফাইন—মক্কার মসজিদুল হারাম এবং মদিনার মসজিদে নববীর নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও পবিত্রতা রক্ষা করা মুসলিম উম্মাহর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ঈমানি দায়িত্ব। পবিত্র এই দুই স্থানের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার যেকোনো চেষ্টা নিন্দনীয় বলে উল্লেখ করেছেন বাংলাদেশ জমঈয়তে আহলে হাদীসের সভাপতি অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ ফারুক।
বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ জমঈয়তে আহলে হাদীসের আয়োজনে অনুষ্ঠিত ‘হারামাইন শরীফাইনের সুরক্ষায় হুথি সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অবস্থান: আমাদের ঈমানি দায়িত্ব’ শীর্ষক জাতীয় সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ ফারুক মন্তব্য করেন, ‘হারামাইন শরীফাইনের সুরক্ষা আমাদের ঈমানের অংশ। পবিত্র মক্কা ও মদিনা বিশ্ব মুসলিমের হৃদয়ের স্পন্দন। এ দুই পবিত্র স্থানের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার যেকোনো অপচেষ্টা অত্যন্ত নিন্দনীয়।’ তিনি বিশ্বের মুসলমানদের হারামাইন শরীফাইনের মর্যাদা ও নিরাপত্তা রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর হামলা ও আগ্রাসন মুসলিম উম্মাহর জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়। পবিত্র দুই মসজিদের নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো ধরনের আপসের সুযোগ নেই। বাংলাদেশ সরকার হারামাইন শরীফাইনের সুরক্ষায় সেনাবাহিনী পাঠানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করায় তাদের ধন্যবাদ জানান তিনি। সরকারের আরও জোরালো ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে মুসলিম বিশ্বের দেশগুলোকে সমন্বিত, কার্যকর ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের জন্য আহ্বান জানান।
জমঈয়তে আহলে হাদীসের সভাপতি বলেন, মুসলিম উম্মাহর পারস্পরিক বিভেদ ভুলে পবিত্র হারামাইন শরীফাইনের সুরক্ষায় ঐক্যবদ্ধ অবস্থান গ্রহণ করা প্রয়োজন। পবিত্র স্থানগুলোর ওপর যেকোনো ধরনের আগ্রাসন ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার অপচেষ্টার বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নেওয়া সময়ের দাবি।
ইরানের কঠোর সমালোচনা করে আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের অধ্যাপক ড. মুসলেহ উদ্দীন বলেন, ভারত যেমন দক্ষিণ এশিয়ার রাষ্ট্রগুলোর বড় সমস্যা ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি, ইরান সারা বিশ্বের মুসলমানদের মধ্যে শিরক ও বিদআত সরবরাহ করে থাকে। তিনি উল্লেখ করেন, হুথিদের নিয়ে ইরান পবিত্র হারামাইন শরীফাইনের নিয়ন্ত্রণ নিতে চায়। তারা যদি এর নিয়ন্ত্রণ নিতে সক্ষম হয়, তাহলে আজান পরিবর্তন করে দেবে এবং সেখানে খোমেনির ছবি টানিয়ে দেবে। ফলে ঈমান-আকিদার স্বার্থে মুসলিম বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধভাবে ভূমিকা রাখতে হবে।
সেমিনারে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জমঈয়তে আহলে হাদীসের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মুহাম্মদ আসাদুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সহসভাপতি প্রফেসর ড. দেওয়ান আব্দুর রহীম, প্রফেসর ড. আহমাদুল্লাহ ত্রিশালী, আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের অধ্যাপক ড. মুসলেহ উদ্দীন, কেন্দ্রীয় জমঈয়তের উপদেষ্টা শাইখ সাইফুদ্দীন বেলাল মাদানী, সহসভাপতি শাইখ ড. মুহাম্মদ হারুন হুসাইন, প্রফেসর ড. মুহাম্মদ রঈসুদ্দীন, শাইখ ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ খান মাদানী এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইমাম হুসাইন।
আলোচনায় অংশ নেন সংগঠনের যুগ্ম সেক্রেটারি জেনারেল শাইখ ড. মুযাফফর বিন মুহসিন, ফাতাওয়া ও গবেষণাবিষয়ক সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ ইবরাহীম মাদানী, তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক সেক্রেটারি আনওয়ারুল ইসলাম জাহাঙ্গীর এবং জমঈয়ত শুব্বানে আহলে হাদীস বাংলাদেশের সভাপতি আব্দুল্লাহিল হাদী ও সাধারণ সম্পাদক শাইখ তানযীল আহমাদসহ অন্যান্য নেতারা।
আয়োজক সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পবিত্র মক্কা ও মদিনার নিরাপত্তা এবং হারামাইন শরীফাইনের মর্যাদা রক্ষার বিষয়ে বিশ্ব মুসলিমের মধ্যে সচেতনতা, সংহতি ও দায়িত্বশীল অবস্থান জোরদার করাই এ সেমিনারের অন্যতম উদ্দেশ্য।
হারামাইন শরীফাইনের মর্যাদা ও নিরাপত্তা সুরক্ষায় তারা সেখানে লোক পাঠানোর অঙ্গীকারও ব্যক্ত করেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন