প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে তুর্কমেনিস্তানে একটি বৈঠক করেছেন। বৈঠকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। দুই নেতা যৌথ প্রকল্পের অগ্রগতি ত্বরান্বিত করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন।
পেজেশকিয়ান জানান, যুদ্ধের অবসান এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার উদ্দেশ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন প্রস্তাব বিনিময় হয়েছে। তিনি তুর্কমেনিস্তানে পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে এই তথ্য জানান। বৈঠকে দুই দেশের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়েও আলোচনা হয়।
বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) কমনওয়েলথ অব ইনডিপেনডেন্ট স্টেটসের (সিআইএস) নেতাদের সম্মেলন এবং কাস্পিয়ান সাগরবিষয়ক পরিবেশ সম্মেলনের ফাঁকে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় বলে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ জানিয়েছে।
দুই নেতা বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন। তাঁরা জ্বালানি, কৃষি, পরিবহন ও বাণিজ্যসহ গুরুত্বপূর্ণ খাতে সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে আলোচনা করেন।
যৌথ প্রকল্পগুলোর চূড়ান্তকরণ ও বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্ব দেন দুই নেতা। তাঁরা উভয় দেশের জাতীয় স্বার্থ ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সার্বিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
ইরানের স্টুডেন্টস নিউজ এজেন্সি (আইএসএনএ) জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ সত্ত্বেও তেহরান আলোচনার পথ থেকে সরে আসবে না।
পেজেশকিয়ান বলেন, “আমরা আলোচনায় রয়েছি। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যখনই আলোচনা করি, তখনই তারা আবার হামলা চালায়। তা সত্ত্বেও আমরা আলোচনার টেবিল ও সংলাপ থেকে সরে আসব না।”
তিনি জানান, ইরান ইতিমধ্যে কয়েকটি প্রস্তাব জমা দিয়েছে এবং ওয়াশিংটনও নতুন প্রস্তাব দিয়েছে। পেজেশকিয়ান বলেন, “আমরা এসব প্রস্তাবে সংশোধনী এনেছি। সেগুলো চূড়ান্ত হলে বিদ্যমান মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আলোচনায় বসে দুই পক্ষের প্রস্তাবগুলো সমন্বয় করার কথা রয়েছে।”
আঞ্চলিক বিভিন্ন ইস্যুতে এবং জাতিসংঘে রাশিয়ার অবস্থানের জন্য পুতিনকে ধন্যবাদ জানান পেজেশকিয়ান। তিনি বলেন, একতরফা সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার প্রবণতা মোকাবিলায় মস্কো ভূমিকা রেখেছে।
তেহরান ও মস্কোর মধ্যে ক্রমবর্ধমান সমন্বয় দ্রুত ও শক্তিশালীভাবে এগিয়ে যাবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর মতে, বর্তমান পরিস্থিতি দুই দেশের সহযোগিতা আরও গভীর করার সুযোগ তৈরি করেছে।
পেজেশকিয়ান বলেন, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী ইরানের জনগণের অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি যুদ্ধের অবসান চায় তেহরান।
সিআইএস সম্মেলন
গত ১ সেপ্টেম্বর কিরগিজস্তানের বিশকেকে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) সম্মেলনের ফাঁকে সর্বশেষ সরাসরি বৈঠক করেন পুতিন ও পেজেশকিয়ান। ওই বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ নিয়ে আলোচনা হয়।
সেসময় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতিকে ‘অস্থিতিশীল ও অত্যন্ত ভঙ্গুর’ বলে বর্ণনা করেন পুতিন। তিনি তেহরানের প্রতি রাশিয়ার সমর্থন অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দেন।
এরপর বুধবার টেলিফোনে কথা বলেন পেজেশকিয়ান ও পুতিন। ওই আলোচনায় ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার আলোচনা নিয়ে কথা হয়। সংঘাত নিরসনে কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় সহযোগিতা করতে মস্কো প্রস্তুত রয়েছে বলে জানান রুশ প্রেসিডেন্ট।
সিআইএস নেতাদের সম্মেলন এবং কাস্পিয়ান সাগরবিষয়ক পরিবেশ সম্মেলনে অংশ নিতে বৃহস্পতিবার তুর্কমেনিস্তানে পৌঁছান পুতিন। কাস্পিয়ান সাগরের উপকূলে অবস্থিত আভাজা ন্যাশনাল ট্যুরিস্ট জোনে দুই দিনব্যাপী এসব সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
সিআইএস সম্মেলনে সদস্য দেশগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতার পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন পরিস্থিতি পর্যালোচনা করার কথা রয়েছে।
অন্যদিকে, কাস্পিয়ান সাগরবিষয়ক সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন সাগরটির উপকূলবর্তী পাঁচ দেশের নেতা- আজারবাইজান, ইরান, কাজাখস্তান, রাশিয়া ও তুর্কমেনিস্তানের প্রতিনিধিরা। সম্মেলনের আলোচ্যসূচিতে কাস্পিয়ান সাগর অঞ্চলে পরিবেশগত সহযোগিতার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।
সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড ও সংবাদ সংস্থা
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন