প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের ফোর্ট হুড সেনাঘাঁটিতে ১৩ জনকে হত্যা এবং ৩২ জনকে আহত করার অভিযোগে দণ্ডিত সাবেক সেনা কর্মকর্তা নিদাল হাসানের মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচারিত হবে। তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার পরিকল্পনা আগামী ৩ ডিসেম্বর দুপুর ১টায় গুলিবাহিনীর মাধ্যমে বাস্তবায়িত হবে। এই তথ্য বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ প্রকাশ করেছেন।
রক্ষণশীল সংবাদমাধ্যম রিয়েল আমেরিকাস ভয়েসকে সাক্ষাৎকারে হেগসেথ উল্লেখ করেন যে, সেনাসদস্যদের গুলিতে হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে এবং সাধারণ জনগণ তা দেখার সুযোগ পাবে। তিনি বলেন, "এ ধরনের অপরাধের গুরুতর পরিণতি সম্পর্কে মানুষের জানা প্রয়োজন।" প্রতিরক্ষা দপ্তরের এক কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে, মৃত্যুদণ্ডটি সরাসরি সম্প্রচারিত হবে, তবে কোন মাধ্যমের মাধ্যমে তা সম্প্রচার করা হবে, তা এখনও নির্ধারণ করা হয়নি।
২০০৯ সালের ৫ নভেম্বর ফোর্ট হুড সেনাঘাঁটিতে হামলা চালান তৎকালীন সেনা কর্মকর্তা ও মনোরোগ চিকিৎসক হাসান। হামলার সময় তিনি আল্লাহু আকবার বলে চিৎকার করেন এবং এতে ১৩ জন নিহত ও ৩২ জন আহত হন। হামলার পর তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে কোমরের নিচ থেকে পক্ষাঘাতগ্রস্ত হন।
২০১৩ সালে সেনা আদালতে পরিকল্পিত হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়ে হাসানকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। চলতি বছর পেন্টাগনে গুলিবাহিনীর মাধ্যমে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়। সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ বিষয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথের সুপারিশ অনুমোদন করেছেন, যা পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শন পারনেল নিশ্চিত করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীতে সর্বশেষ মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছিল ১৯৬১ সালে। সে সময় অস্ট্রিয়ায় ১১ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যার চেষ্টা করার দায়ে দণ্ডিত সেনাসদস্য জন বেনেটকে ফাঁসি দেওয়া হয়। আর সামরিক বাহিনীর মাধ্যমে গুলি করে সর্বশেষ মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছিল ১৯৪৫ সালে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় দায়িত্ব থেকে পালানোর অভিযোগে দণ্ডিত সেনাসদস্য এডি স্লোভিককে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল।
সামরিক আদালতে মৃত্যুদণ্ডের অনুমোদন পাওয়ার পরও দণ্ডিত ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আদালতে আইনি প্রতিকার চাইতে পারেন। হাসান দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়ায় নিজের পক্ষে লড়াই করেছেন, যদিও সেনাবাহিনীর দুজন আইনজীবী তাকে সহায়তা দিয়েছেন। গুলিবাহিনীর মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পদ্ধতি নিয়ে তিনি আপিল করবেন কি না, তা এখনও পরিষ্কার নয়।
সূত্র: এনবিসি নিউজ
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন