প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চুয়াডাঙ্গা, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬ : জেলার নজরুল বর্ষ উদযাপন উপলক্ষ্যে আজ একটি আলোচনা সভা ও সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং জেলা প্রশাসন যৌথভাবে এই সেমিনারের আয়োজন করে। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. মুন্সি আবু সাইফ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার।
স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ পরিচালক শারমিন আক্তারের সভাপতিত্বে সেমিনারে জানানো হয়, সরকার ২৫ মে ২০২৬ থেকে ২৫ মে ২০২৭ পর্যন্ত সারা দেশে নজরুল বর্ষ উদযাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নজরুলের দর্শন, সৃষ্টি এবং কালচার সর্বমহলে পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে কাজ চলছে। এরই অংশ হিসেবে চুয়াডাঙ্গায় নজরুল বর্ষের বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।
মূল প্রবন্ধে ড. মুন্সি আবু সাইফ বিদ্রোহী কবি নজরুল ইসলামের কর্মময় জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বাংলা সাহিত্যের এক অনন্য প্রতিভা। কবিতা, গান ও সাহিত্যের মাধ্যমে তিনি সাম্য, মানবতা, অসাম্প্রদায়িকতা, স্বাধীনতা ও সাম্যের বাণী ছড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁর সাহিত্যকর্ম শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নয়, বরং সব যুগের মানুষের জন্য প্রাসঙ্গিক।
নজরুল ছিলেন শোষিত, বঞ্চিত ও নিপীড়িত মানুষের কণ্ঠস্বর। তাঁর লেখনীতে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, মানুষের মুক্তির আকাক্সক্ষা এবং বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় ফুটে উঠেছে।
ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষের সমান অধিকার প্রতিষ্ঠার যে দর্শন তিনি তুলে ধরেছেন, তা আজও আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নজরুল বিদ্রোহী দ্রোহের ও মানবতার সাহিত্যের কবি। নজরুল বর্ষ উদযাপন কেবল কবিকে স্মরণ করার আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং তাঁর জীবন, সাহিত্য, দর্শন ও আদর্শ নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে নজরুলের অসাম্প্রদায়িক চেতনা, দেশপ্রেম, মানবিক মূল্যবোধ ও প্রতিবাদী মানসিকতা ছড়িয়ে দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, নজরুলকে যথাযথভাবে জানতে হলে তাঁর কবিতা ও গান পাঠের পাশাপাশি তাঁর চিন্তা, দর্শন এবং সমাজ পরিবর্তনের আকাক্সক্ষাকে অনুধাবন করতে হবে। আলোচনা সভা, সেমিনার, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও গবেষণার মাধ্যমে নজরুলের সাহিত্য কর্মকে আরও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দিতে হবে। আমরা যদি নজরুলের সাম্য, মানবতা ও অসাম্প্রদায়িকতার আদর্শ বাস্তব জীবনে ধারণ করতে পারি, তাহলেই তাঁর প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা জানানো সম্ভব হবে। নজরুলের সাহিত্য ও দর্শন আগামী প্রজন্মকে একটি মানবিক, বৈষম্যহীন ও সম্প্রীতিপূর্ণ সমাজ গঠনে অনুপ্রাণিত করবে বলে আমি বিশ্বাস করি।
সভায় আরো বক্তব্য রাখেন নেজারত ডেপুটি কালেক্টরেট মির্জা শহিদুল ইসলাম, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আওলিয়ার রহমান, বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক জাহিদুল ইসলাম, সংস্কৃতি কর্মী এম আলাউদ্দিন, কাজল মাহমুদ, তুহিন সুলতানা, গণমাধ্যম কর্মী বিপুল আশরাফ, জেলা কালচারাল অফিসার সাইফুল হাসান মিলন, জেলা জাসাসের সভাপতি শহিদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক সেলিমুল হাবিব সেলিম প্রমুখ।
পরে নজরুল সংগীত গান পরিবেশনের মাধ্যমে সেমিনারটি শেষ হয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন