প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সীসা-অ্যাসিড ব্যাটারি অনিরাপদভাবে পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ সীসা দূষণের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। সীসাযুক্ত রং, খেলনা, রান্নার বাসনপত্র ও প্রসাধনসামগ্রীর মাধ্যমে মানুষ এ বিষাক্ত ধাতুর সংস্পর্শে আসতে পারে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেলে আন্তর্জাতিক সীসা দূষণ প্রতিরোধ সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে বক্তারা এ বিষয়গুলো তুলে ধরেন। খুলনার শিববাড়ি মোড়ে ইয়ুথনেট গ্লোবাল ও পিওর আর্থ বাংলাদেশের উদ্যোগে এ মানববন্ধন, র্যালি ও লিফলেট বিতরণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
‘সীসা দূষণ প্রতিরোধে, আমরা আছি একসাথে’ এই প্রতিপাদ্যে সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচিটি দেশের আট বিভাগে পরিচালিত হচ্ছে। পিওর আর্থ বাংলাদেশের সহযোগিতায় যুব সংগঠন ইয়ুথনেট গ্লোবাল কর্মসূচিটি বাস্তবায়ন করছে। সহ-আয়োজক হিসেবে ভলান্টিয়ার ফর বাংলাদেশ, ইউক্যান ও আর্থ ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন রয়েছে। কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থী, তরুণ, শিক্ষক, সরকারি-বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সীসার স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন করা। এ ছাড়া দূষণের উৎস চিহ্নিত করা, কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং স্থানীয় পর্যায়ে দূষণ রোধে তরুণদের সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) জাতীয় সমীক্ষার তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৩৮ দশমিক ৩৪ শতাংশ শিশুর রক্তে সীসার মাত্রা নিরাপদ সীমার চেয়ে বেশি। অর্থাৎ, প্রতি ১০ জন শিশুর মধ্যে প্রায় চারজন সীসার ঝুঁকিতে রয়েছে। সীসার সংস্পর্শে আসা শিশুদের মস্তিষ্কের বিকাশ, শেখার ক্ষমতা, স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগের ওপর দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতিকর প্রভাব পড়তে পারে। গর্ভবতী নারীদের জন্যও সীসার বিষক্রিয়া গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
অনুষ্ঠানে পিওর আর্থ বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর মিতালী দাশ বলেন, "শিশুদের সীসার বিষক্রিয়া থেকে সুরক্ষিত রাখতে সীসার উৎস শনাক্ত ও দূষণ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি নিরাপদ ভোগ্যপণ্য নিশ্চিত করা, পরিবেশসম্মত ব্যাটারি পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।"
তিনি আরও জানান, এ লক্ষ্যে পিওর আর্থ বাংলাদেশ পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, পরিবেশ অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে যৌথভাবে সম্প্রসারিত উৎপাদক দায়বদ্ধতা (ইপিআর) নির্দেশিকা প্রণয়নে কাজ করছে। এই নির্দেশিকা সীসা-অ্যাসিড ব্যাটারির কার্যকর সংগ্রহ, ট্র্যাকিং ও পরিবেশসম্মত পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণে সহায়তা করবে।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন ইয়ুথনেট গ্লোবালের নির্বাহী সমন্বয়ক সোহানুর রহমান, খুলনা সচেতন নাগরিক কমিটির (সানক) সভাপতি অধ্যাপক রমা রহমান, বেসরকারি সংস্থা আইসিডির প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক আশিকুজ্জামান, দৈনিক ইনকিলাবের খুলনা ব্যুরো ও সচেতন নাগরিক কমিটি (সানকÑ) সদস্য আসাফুর রহমান কাজল, পরিবেশ দূষণ প্রতিরক্ষা কমিটির আহবায়ক মোসলেহ উদ্দিন তুহিন, ইয়ুথনেট গ্লোবালের বিভাগীয় সহ-সমন্বয়কারী ফারহানা ইয়াসমিন আয়েশা, ইয়ুথনেট গ্লোবালের বিভাগীয় সমন্বয়কারী এস এম শাহিন সিরাজ, ভলান্টিয়ার ফর বাংলাদেশের ভাইস প্রেসিডেন্ট ইভানা হক, আর্থ ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের খুলনা জেলা সমন্বয়কারী মাহজাবিন খানসহ বিভিন্ন তরুণ সংগঠক। কর্মসূচিতে খুলনার স্থানীয় প্রতিনিধি, সুশীল সমাজের সদস্য, যুব প্রতিনিধি, সাংবাদিক ও স্বেচ্ছাসেবীরা অংশ নেন।
বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, সীসা দূষণ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি নিরাপদ ভোগ্যপণ্য নিশ্চিত করা, পরিবেশসম্মত উপায়ে ব্যাটারি কারখানা পরিচালনা এবং আইন ও নীতিমালার কার্যকর বাস্তবায়ন জরুরি। পুরোনো ও ব্যবহৃত সীসা-অ্যাসিড ব্যাটারির পরিবেশসম্মত পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ, দূষিত স্থান শনাক্ত করে মাটি পরিশোধন এবং ভোগ্যপণ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিনি সরকার, শিল্পখাত ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত পদক্ষেপের আহ্বান জানান।
এদিকে, সিসামুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সরকার ২০২৬–২০৩৫ মেয়াদের একটি জাতীয় কৌশল ও বহুবছরভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা অনুমোদন করেছে। এই পরিকল্পনায় ২০৩০ সালের মধ্যে ৫০ শতাংশ এবং ২০৩৫ সালের মধ্যে ৯৫ শতাংশ শিশুর রক্তে সীসার মাত্রা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্ধারিত সীমার নিচে নামিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
মানববন্ধন শেষে অংশগ্রহণকারীরা র্যালিতে অংশ নেন এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সীসা দূষণের ক্ষতিকর প্রভাব ও প্রতিরোধের উপায় তুলে ধরে লিফলেট বিতরণ করেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন