প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চারপাশে ধ্বংসের হুঙ্কার আর বারুদের উৎকট গন্ধ ধীরে ধীরে চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ছে। মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে-বাতাসে যেন একটি শব্দই প্রতিধ্বনিত হচ্ছে, সেটি হল যুদ্ধ। এমন উত্তাল পরিস্থিতিতে ইয়েমেনের হুথিরা একটি অভাবনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, যা পুরো আরব উপদ্বীপকে নতুন করে ভয়ানক সংঘাতের মুখে ঠেলে দিয়েছে। লোহিত সাগরের কৌশলগত জলপথ বাবেল মান্দেব এখন চরম হুমকির মুখে রয়েছে, এবং এই উত্তেজনার কেন্দ্রে সৌদি আরব অবস্থিত।
ঘটনাটি শুরু হয়েছিল যখন রিয়াদ ইয়েমেনের সানার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বোমা হামলা চালিয়েছিল। মূলত, সানার ওই বিমানবন্দরটি সরাসরি ইরানি ফ্লাইটের পুনরায় চালুর প্রস্তুতির জন্য ছিল, যা সৌদি আরব এবং তাদের মিত্রদের জন্য ছিল একটি রেডলাইন। কিন্তু হুথিরা প্রতিশোধের আগুনে জ্বলে ওঠে এবং সরাসরি সৌদি আরবের গভীরে মিসাইল নিক্ষেপ করে। এই আকস্মিক সংঘাতে মুহূর্তের মধ্যে দীর্ঘদিনের ঠাণ্ডা লড়াইয়ের পরিস্থিতি ভেঙে পড়ে।
অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালি ইতিমধ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বন্দ্বে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায়, সৌদি আরব তাদের মোট তেল রপ্তানির প্রায় সত্তর শতাংশকে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরের দিকে ঘুরিয়ে দিয়েছিল। তবে হুথিদের নতুন নৌ-অবরোধের হুমকি সৌদি আরবের এই বিকল্প তেল রুটকেও নিরাপত্তাহীনতার মুখে ফেলেছে। এটি একটি গভীর কূটকৌশল, যেখানে হরমুজের পর এবার দ্বিতীয় প্রধান তেল রুটও চরম বিপদের মুখে রয়েছে।
বিশ্লেষকরা মন্তব্য করছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী যুদ্ধের সম্প্রসারণ এবং সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির চুক্তি ভঙ্গের পর এই নাটকীয় পটপরিবর্তন ঘটেছে। হরমুজ প্রণালি যখন উত্তাল, তখন বাবেল মান্দেব প্রণালির নিয়ন্ত্রণ হুথির কাছ থেকে ব্যবহার করে ওয়াশিংটন ও রিয়াদ উভয়ের ওপর তারা অভাবনীয় মনস্তাত্ত্বিক ও অর্থনৈতিক চাপ তৈরির চেষ্টা করছে। তারা বিশ্ববাজারে অর্থনৈতিক সংকটের খাঁড়া ঝুলিয়ে দিয়ে নিজেদের ক্ষমতা প্রদর্শন করছে।
সৌদি আরব এখনও পরিস্থিতি সামাল দিতে চেষ্টা করছে এবং রক্তক্ষয়ী সংঘাত থেকে বিরত থাকতে চাচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, সৌদি সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার প্রশ্ন উঠলে রিয়াদ নিশ্চুপ হয়ে থাকবে না, কারণ তাদের শক্তিশালী সামরিক সক্ষমতা রয়েছে। সব মিলিয়ে, মধ্যপ্রাচ্যের এই নতুন যুদ্ধক্ষেত্রে তেলের পাইপলাইন ও জলপথের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে খেলা শুরু হয়ে গেছে, যা পুরো অঞ্চলকে একটি অনিশ্চিত ও ভয়াবহ ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন