প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
শিল্পী মণি মাঝির একক শিল্পকর্ম প্রদর্শনী ‘নন-ডুয়ালিটি (অদ্বৈত)’ শুরু হয়েছে আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দ্য ঢাকার লা গ্যালারিতে। প্রদর্শনীটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ৩০ অক্টোবর, শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টায় অনুষ্ঠিত হয়। দর্শকদের জন্য প্রদর্শনীটি আগামী ১০ নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত উন্মুক্ত থাকবে।
এই প্রদর্শনীটি সুন্দরবনের নদীবিধৌত ভূপ্রকৃতি, লোকসংস্কৃতি এবং মানুষ ও প্রকৃতির মধ্যকার গভীর পারস্পরিক নির্ভরশীলতার উপর ভিত্তি করে সাজানো হয়েছে। শিল্পী প্রকৃতি ও জীবনের অবিচ্ছেদ্য রূপ তুলে ধরেছেন সুন্দরবনের নদী, বন, জোয়ার-ভাটা, মাটির লবণাক্ততা, প্রাণী এবং ঐতিহ্যবাহী পৌরাণিক আখ্যানের মাধ্যমে।
অদ্বৈত ধারণার আলোকে প্রদর্শনীতে দেখানো হয়েছে কীভাবে সুন্দরবন অঞ্চলে ধর্মীয় সীমানা অতিক্রম করে এক অভিন্ন সাংস্কৃতিক দর্শন গড়ে উঠেছে। বনদুর্গা ও বনবিবিকে একই মায়ের রূপ হিসেবে দেখা হয়, পবন ঠাকুর ও পবন পিরও একই লোকবিশ্বাসের পরিমণ্ডলে স্থান পেয়েছেন। আতিথেয়তার প্রতীক হিসেবে নিচু কাঠের ‘পিঁড়ি’ এবং ঝড়-বৃষ্টির সময় পবনকে শিন্নি-পায়েস নিবেদনের লোকাচারগুলোর মাধ্যমে মানুষের শ্রদ্ধা ও নির্ভরতার চিত্র উঠে এসেছে।
তবে জলবায়ু সংকট, ক্ষমতার দ্বন্দ্ব এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের চাপে রূপসী সুন্দরবনের পরিবেশগত ও সাংস্কৃতিক বাস্তুতন্ত্র আজ বিপন্ন। নদী গতিপথ হারাচ্ছে, লবণাক্ততা বাড়ছে এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠী তাদের স্মৃতি ও পরিচয় ক্ষয়ের মুখোমুখি হচ্ছে।
এই বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে শিল্পী মণি মাঝি প্রদর্শনীতে এক নতুন বার্তা নিয়ে এসেছেন—আজ আমরা সবাই যেন ‘সবুজের শরণার্থী’। নদী, বীজ, বৃক্ষ ও বন্যপ্রাণী সকলেই আজ তাদের নিজ বাসভূম থেকে বাস্তুচ্যুত। মানুষের সঙ্গে প্রকৃতির সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলে কী হারিয়ে যায় এবং কীভাবে তা পুনরুদ্ধার সম্ভব—এই গভীর প্রশ্নই শিল্পকর্মগুলোর মাধ্যমে উত্থাপন করা হয়েছে।
শিল্পী মণি মাঝির ‘নন-ডুয়ালিটি’ প্রদর্শনীটি দর্শকদের মানুষ, প্রকৃতি ও জীবজগতের পারস্পরিক সম্পর্ককে সমকালীন সংকট ও ভাবনার আলোকেও নতুন করে অনুধাবন করার আহ্বান জানায়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন