প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ অপরাধমুক্ত ও নিরাপদ সমাজ এবং রাষ্ট্র গঠনে ক্রাইম রিপোর্টারদের দায়িত্বশীল ও বস্তুনিষ্ঠ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন। বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ক্র্যাব) ৪৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
মন্ত্রী বলেন, অপরাধ অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা তথা ক্রাইম রিপোর্টিং অপরাধমুক্ত ও নিরাপদ সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। অপরাধের ধরন সময়ের সঙ্গে বদলাচ্ছে এবং এখন এটি আধুনিক প্রযুক্তি ও ডিজিটাল ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল হয়ে উঠেছে। এই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে অপরাধ দমন ও প্রতিরোধে আধুনিক আইনি কাঠামোর পাশাপাশি গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের দায়িত্বশীল এবং বস্তুনিষ্ঠ ভূমিকা জরুরি।
তিনি আরও বলেন, অপরাধ, অপরাধী, অপরাধবিজ্ঞান, পুলিশ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পরস্পরের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় তথ্য ও পরামর্শ দেওয়ার ক্ষেত্রে ক্র্যাবের মতো ঐতিহ্যবাহী সংগঠনের প্রয়োজন রয়েছে। ৩১৮ জন পেশাদার সদস্য নিয়ে ৪৩ বছরের যাত্রায় ক্র্যাব অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় একটি মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেছে।
অনুসন্ধানী সাংবাদিকতাকে জ্ঞানভিত্তিক একটি উচ্চমানের শাখা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এ ধরনের সাংবাদিকতায় গভীর পড়াশোনা ও তথ্য বিশ্লেষণের প্রয়োজন হয়। অপরাধের মূল কারণ উদ্ঘাটনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, অপরাধ শুধু একটি বাহ্যিক উপসর্গ। এর মূল কারণ অনুসন্ধান করে অপরাধের গোড়ায় আঘাত করতে হবে।
সমাজে সংঘটিত বিভিন্ন ঘৃণ্য ও চাঞ্চল্যকর অপরাধ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে মাদক ও জুয়া অপরাধের অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে বলে মন্তব্য করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর মতে, অপরাধীকে শাস্তি দেওয়ার পাশাপাশি কেন অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে, তা নিয়ে সমাজকে গভীরভাবে বিশ্লেষণ করতে হবে। অপরাধের উৎসে সমাধান করা গেলে সমাজে অপরাধের হার কার্যকরভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব।
মন্ত্রী বলেন, ক্রাইম রিপোর্টাররা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিনিয়ত বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করেন। পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত বা আহত সাংবাদিকদের সহযোগিতার বিষয়টি করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার তহবিলসহ অন্যান্য উপায়ে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।
পেশাগত শ্রেষ্ঠত্ব ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার স্বীকৃতি হিসেবে সাংবাদিকদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা পুলিশের পক্ষ থেকে সনদ দেওয়া যায় কি না, সে বিষয়েও আইনগত দিক পর্যালোচনা করে পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
গণমাধ্যমকে সমাজের দর্পণ আখ্যা দিয়ে মন্ত্রী বলেন, সাংবাদিকরা সমাজের প্রতি তাঁদের দায়বদ্ধতা সঠিকভাবে পালন করলে সমাজ ও রাষ্ট্রে অপরাধ অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব। রাষ্ট্র যা চায় এবং সমাজ যা প্রত্যাশা করে, তা বাস্তবায়নে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সাংবাদিকদের সক্রিয় ভূমিকা অপরিহার্য।
অ্যাসিড নিক্ষেপের ঘটনা নিয়ন্ত্রণে অতীতের সফলতার উদাহরণ তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সরকারের সময়ে অ্যাসিড নিক্ষেপ রোধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। কঠোর আইন, গণমাধ্যমের বলিষ্ঠ ভূমিকা ও ব্যাপক সামাজিক সচেতনতার সম্মিলিত প্রয়াসে দেশে অ্যাসিড-সংক্রান্ত অপরাধ প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে।
একইভাবে মাদক, অনলাইন জুয়াসহ অন্যান্য অপরাধ নির্মূলেও সাংবাদিক, রাষ্ট্র ও সমাজের সম্মিলিত প্রয়াস প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
অনলাইন জুয়া ও মাদক নির্মূলে আইনি কাঠামো সংস্কারের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সময়ের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পুরোনো আইন আধুনিকায়ন করা প্রয়োজন। ১৮৬৭ সালের পুরোনো জুয়া আইন পরিবর্তন করে ডিজিটাল মাধ্যমে অনলাইন জুয়া, খেলা পাতানো ও সংঘবদ্ধ অপরাধচক্র মোকাবিলায় ‘জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে। এ ছাড়া ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) আইন, ২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, দুর্বল আইনের ফাঁক গলে যাতে অপরাধীরা পার পেয়ে যেতে না পারে, সে জন্য প্রয়োজনীয় আইনি সংস্কার ও নতুন আইন প্রণয়নে সরকার কাজ করছে।
ক্র্যাব সভাপতি মির্জা মেহেদী তমালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ, ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ক্র্যাবের সাধারণ সম্পাদক এম এম বাদশাহ।
বক্তারা ক্র্যাবের ৪৩ বছরের অবদানের প্রশংসা করেন এবং বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার ধারা অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কেক কাটার মাধ্যমে ক্র্যাবের ৪৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন