প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
আধুনিক প্রজন্মের প্রেমের গল্পে নব্বই দশকের ভালোবাসা, অপেক্ষা এবং আন্তরিকতার একটি বিশেষ আবহ তৈরি হয়েছে। কমেডি, রোমান্স ও পারিবারিক নাটকের মিশ্রণে নির্মিত ওয়েব ফিল্ম ‘মিশন ডিডিএলজে’ সম্প্রতি প্রিমিয়ার অনুষ্ঠিত হয়েছে। ছবিটি পরিচালনা করেছেন আসিফ জাহাঙ্গীর অর্ক এবং এটি বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর বসুন্ধরা সিটির স্টার সিনেপ্লেক্সে প্রদর্শিত হয়।
প্রিমিয়ার অনুষ্ঠানে ছবির কলাকুশলীদের পাশাপাশি শোবিজের অনেক তারকা উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন আশনা হাবিব ভাবনা, মন্দিরা চক্রবর্তী, আজিজুল হাকিম, নাজমি জান্নাত, ইমতিয়াজ বর্ষণ এবং এসআরকে ইউনিভার্স বাংলাদেশ ফ্যান ক্লাবের সদস্যরা।
‘মিশন ডিডিএলজে’-এর প্রধান দুই চরিত্রে অভিনয় করেছেন সাদ নাওভী এবং লাবণ্য চৌধুরী। অন্যান্য চরিত্রে রয়েছেন আরমান বিন মাহমুদ, সাদিয়া ইসলাম জুই, শওকত শোভন, মাসুদ মহিউদ্দিন, শেখ স্বপ্না, শারমিন সুলতানা শর্মী, নিয়ন আহসান এবং নির্মাতা আসিফ জাহাঙ্গীর অর্ক।
ছবির কাহিনী ধ্রুব ও দিয়ার প্রেমকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়েছে। বর্তমান সময়ের এই জুটি নব্বই দশকের একটি প্রেমকাহিনির মূল্যবোধ ও আবেগ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে নিজেদের ভালোবাসার গল্প তৈরি করতে চায়। তাদের যাত্রায় নানা বাধা-বিপত্তি, সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং প্রেমের বিচিত্র অনুভূতি উঠে এসেছে। গল্পের প্রতিটি পরতে রয়েছে নানা বাঁক, যা প্রেম, হাস্যরস, বন্ধুত্ব এবং পারিবারিক সম্পর্কের মাধ্যমে একটি স্বস্তিদায়ক রোমান্টিক-কমেডির আবহ তৈরি করেছে।
প্রিমিয়ার শেষে অতিথি ও তারকারা ছবিটি নিয়ে নিজেদের অভিজ্ঞতা এবং ভালো লাগার কথা জানান। ধ্রুব চরিত্রে অভিনয় করা সাদ নাওভী বলেন, "কমেডি, রোম্যান্স ও ফ্যামিলি ড্রামার একটি দারুণ কম্বিনেশন ‘মিশন ডিডিএলজে’। এটি একটি ফিল-গুড গল্প। ক্লাসিক ধাঁচের একটি চরিত্রকে নিজের মতো করে আয়ত্ত করতে পারাটা তার জন্য দারুণ এক অনুভূতি। চরিত্রটির সঙ্গে নিজেকে মিশিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা বিশেষ ভালো লাগা দিয়েছে।"
দিয়া চরিত্রে অভিনয় করা লাবণ্য জানান, কাজটির অভিজ্ঞতা তার জন্য দারুণ ছিল। তিনি বলেন, "৯০ দশকের প্রেমের গল্প আমার ব্যক্তিগতভাবেই খুব পছন্দ। তাই চরিত্রটি ধারণ করতে খুব বেশি প্রস্তুতির প্রয়োজন হয়নি। তবে কিছু রিহার্সাল করতে হয়েছে। নাওভির সঙ্গে প্রথমবার জুটি গড়ে কাজের অভিজ্ঞতা দারুণ ছিল। আমি বিশ্বাস করি, বর্তমান প্রজন্মও গল্পটি উপভোগ করবে এবং নিজেদের প্রেমে সেই আবেগের ছায়া খুঁজে পাবে।"
নির্মাতা আসিফ জাহাঙ্গীর অর্ক জানান, নব্বই দশকের রোমান্টিক ছবির আবেগ ও মূল্যবোধকে বর্তমান প্রজন্মের কাছে নতুনভাবে তুলে ধরার ভাবনা থেকেই ‘মিশন ডিডিএলজে’ নির্মাণ করেছেন তিনি।
অর্ক বলেন, "আমি যেহেতু ৮০ দশকে জন্ম এবং ৯০ দশকের রোমান্টিক গল্পগুলো দেখে বড় হওয়া, আমার চেষ্টা ছিল ৯০ দশকের ক্লাসিক লাভ স্টোরির মূল্যবোধ ও অনুভূতিকে বর্তমান প্রজন্মের কাছে নতুনভাবে তুলে ধরা। গল্প ও চরিত্রগুলো আধুনিক, কিন্তু তারা ৯০ দশকের প্রেমের গল্প থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে নিজেদের ভালোবাসার গল্প গড়ে তুলতে চায়। তাই এটি একদিকে আধুনিক, অন্যদিকে নস্টালজিক।"
ছবিটির নামের পেছনের গল্প জানিয়ে নির্মাতা আরও বলেন, "দর্শক এখানে ক্লাসিক অনেক জনপ্রিয় রোমান্টিক চলচ্চিত্রের আবহ খুঁজে পাবেন। D D L J এর পূর্ণ রূপ ‘Dhrubo-Diya’s Love Journey’। অবশ্যই এর একটি লুকানো অর্থ আছে, তবে সবকিছু আগে বলে দিলে রহস্য নষ্ট হয়ে যাবে। আমি শুধু এটুকু বলতে পারি, বর্তমান জেনারেশন থেকে শুরু করে আমাদের মা-বাবা, দাদি-নানি র জেনারেশন পর্যন্ত সবাই গল্পটি পছন্দ করবে। কারণ তারা এই গল্পে তাদের পুরান মূল্যবোধ খুঁজে পাবে। দর্শক ওয়েব ফিল্মটি দেখে আশাহত হবেন না। পরিবারের সবাই একসঙ্গে বসে উপভোগ করতে পারবেন।"
ওয়েব ফিল্মটির নির্বাহী প্রযোজক আশেক হোসেন তন্ময় বলেন, "এই প্রজেক্টে কাজ করতে গিয়ে আমরা সবাই যেন একটি পরিবারের মতো হয়ে গিয়েছিলাম। টিমের প্রত্যেকের কাজে ছিল আন্তরিকতা, সহযোগিতা ও পারস্পরিক বোঝাপড়া। সেই বন্ধনই পুরো টিমকে একসঙ্গে কাজ করার শক্তি জুগিয়েছে।"
‘মিশন ডিডিএলজে’র মতো বড় একটি প্রকল্পের দায়িত্ব ও আস্থা দেওয়ার জন্য ইমপ্রেস টেলিফিল্ম এবং চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগরের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন নির্মাতা অর্ক ও নির্বাহী প্রযোজক আশেক হোসেন তন্ময়।
২৪ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত ১২টা থেকে আইস্ক্রিনে দেখা যাচ্ছে ওয়েব ফিল্মটি। এটি দেখতে খরচ হবে ১৫ টাকা অথবা থাকতে হবে আইস্ক্রিনের সাবস্ক্রিপশন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন