প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
শিক্ষার মান উন্নয়ন এবং শ্রেণিকক্ষের শিক্ষার কার্যক্রম সচল রাখার উদ্দেশ্যে ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, বেসরকারি শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণ রোধ করতে একটি ‘রেগুলেশন’ বা আইনি নিষেধাজ্ঞা থাকা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষকরা শিক্ষকতার পেশায় থাকবেন, কিন্তু নির্বাচনে গেলে তারা রাজনীতির পেশায় চলে যাবেন- দুইটি বিষয় একসাথে চললে শিক্ষার মানের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে।’
আজ বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এই মন্তব্য করেন।
এর আগে বাংলাদেশে ‘জিপিই সিস্টেম ট্রান্সফরমেশন গ্রান্ট (এসটিজি) এবং মাল্টিপ্লায়ার গ্রান্টের’ আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়। গ্লোবাল পার্টনারশিপ ফর এডুকেশন (জিপিই), ইউনেস্কো, ইউনিসেফ, এডিবি, এবং শিক্ষা ও প্রাথমিক গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
শিক্ষকদের নির্বাচনমুখী হওয়ার বিষয়ে নিজ অভিজ্ঞতা তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী উল্লেখ করেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ৪ হাজারের বেশি চেয়ারম্যান পদে এবং ৪৯৩টি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে大量 শিক্ষক অংশগ্রহণ করেন। এতে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার মারাত্মক ক্ষতি হয়। নির্বাচন কমিশনের একটি মুক্ত রেগুলেশন বা নিষেধাজ্ঞা থাকা উচিত যাতে শিক্ষকরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে না পারেন। যদি যেতে হয়, তবে তাদের চাকরি ছেড়ে যেতে হবে। রাষ্ট্র যে বিনিয়োগ ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করছে, তা দেশ গঠনে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে হবে।’
আজ থেকে শুরু হওয়া এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার প্রেক্ষিতে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আজ সকাল ১০টা থেকে আমাদের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা শুরু হয়েছে। আমাদের ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা ও মনিটরিং সেল রয়েছে। ফলে কেন্দ্রে গিয়ে প্রত্যক্ষ পাহারা দিতে হচ্ছে না। শিক্ষকরা সজাগ আছেন, অভিভাবকরা সতর্ক এবং পুলিশ বিভাগ বডি ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করছে। শিক্ষার্থীরাও সচেতন এবং তারা আর কোনো ‘আনফেয়ার’ (অসদুপায়) অনুসরণ করবে না বলে আমাদের বিশ্বাস।’
এইচএসসি পরীক্ষায় নিয়মিত শিক্ষার্থীদের একটি অংশের ঝরে পড়ার (ড্রপ আউট) হার বাড়ার বিষয়টি উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘অতীতে এসএসসি বা এইচএসসির পর মেয়েদের বিয়ে হয়ে যাওয়া বা ছেলেদের কাজে চলে যাওয়ার একটি স্বাভাবিক প্রবণতা ছিল। আমরা এই ড্রপ আউটের বিষয়টি খুব গুরুত্বের সাথে নিয়েছি। আগামীতে ক্লাসরুমের শিক্ষা এবং শিক্ষকদের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি করা হবে এবং সিলেবাস আরও সুন্দরভাবে সাজানো হবে।’
প্রাথমিকের সাড়ে ৩২ হাজার শিক্ষকের মামলার বিষয়ে ড. মিলন বলেন, ‘বিষয়টি আদালতের আপিল বিভাগের নজরে এসেছে এবং তারাও সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে কোর্টের আদেশটি এখনও আমাদের কাছে আসেনি। এর সম্পর্কে আমরা আজ বিস্তারিত জানাব।’
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের জিপিই সিস্টেম ট্রান্সফরমেশন গ্রান্ট (এসটিজি) এবং মাল্টিপ্লায়ার মিলে মোট ৯৮.৮৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার গ্রান্টের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাখাওয়াৎ হোসেন।
এছাড়া আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের পক্ষে ইউনিসেফ বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত প্রতিনিধি ইমানুয়েল আব্রিউ, ইউনেস্কো বাংলাদেশের প্রতিনিধি ড. সুসান ভাইজ, এডিবি’র বাংলাদেশ প্রতিনিধি (অফিসার ইনচার্জ) আকিরা মাতসুনাগা এবং ব্রিটিশ হাই কমিশনের মানবসম্পদবিষয়ক টিমের নেতা গোলাম কিবরিয়া সহ বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন