প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
একজন ক্রেতা ছেঁড়া ১০ রুপির নোট প্রদান করছিলেন। তবে ডেলিভারি কর্মী সেই নোট গ্রহণ করতে অস্বীকার করেন। এই কারণে তাকে মারধর করা হয়। অপমান সহ্য করতে না পেরে তিনি বাড়ি ফিরে বিষপান করে আত্মহত্যা করেন।
আত্মহত্যার পূর্বে সামির একটি ভিডিও রেকর্ড করেন, যেখানে তিনি ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দেন। গত মঙ্গলবার হাসপাতালে তার মৃত্যু ঘটে।
দিল্লির ২৩ বছর বয়সী সামির হোসেন একটি জনপ্রিয় অনলাইন বিপণি সংস্থায় ডেলিভারি এজেন্ট হিসেবে কাজ করতেন। ২১ অক্টোবর তার ২৪ বছরে পদার্পণের কথা ছিল। কিন্তু তার মৃত্যু ঘটেছে তার জন্মদিনের আগের দিনেই।
সামিরের ভিডিওতে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘গরিব হওয়া কি অপরাধ?’ তিনি তার সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোর ব্যাখ্যা দেন এবং সেই ক্রেতা ও তার নাতির শাস্তি দাবি করেন।
ভিডিওতে সামির বলেন, গত ৪ অক্টোবর রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ বিনোদ নগর এলাকায় রামপাল সিংহের বাড়িতে তিনি একটি অর্ডার পৌঁছে দিতে যান। সেখানে তাকে একটি ছেঁড়া ১০ রুপি নোট দেওয়া হয়, যা তিনি নিতে অস্বীকার করেন এবং নোটটি বদলে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন।
তবে রামপাল তার কথায় বিরক্তি প্রকাশ করেন বলে অভিযোগ করেন সামির। রামপাল বলেন, ‘আমার কাছে এটাই আছে। নিতে হলে নাও, না হলে চলে যাও।’ এরপর তিনি সামিরকে তিনবার থাপ্পড় দেন এবং গালিগালাজ করেন। তিনি সামিরের আর্থিক অবস্থার উপরে ব্যঙ্গ করেন।
ভিডিওতে সামির জানান, ওই ক্রেতা যথেষ্ট প্রভাবশালী ও ধনী। তিনি মনে করেন, পুলিশ তার অভিযোগ গ্রহণ করবে না। ভারতে ডেলিভারি এজেন্টদের নিরাপত্তার জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা বা সুযোগসুবিধা নেই বলেও তিনি দাবি করেন। সামির বলেন, ‘আমার আত্মমর্যাদাকে সকলের সামনে নষ্ট করা হয়েছে। আমি পরিশ্রম করে রোজগার করছিলাম। বাবার থেকে কোনো দিন এক পয়সাও চাইনি। আমার মৃত্যুর জন্য ওরাই দায়ী।’
সামিরের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা দায়ের করেছে।
সূত্র: আনন্দবাজার অনলাইন
আরএ
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন