প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলায় উপসাগরীয় অঞ্চলে ক্ষতিগ্রস্ত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে ইসরায়েলে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র চিন্তাভাবনা করছে।
সম্প্রতি মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের একটি প্রতিবেদনে এই দাবি করা হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখিত মতে, বাহরাইনে অবস্থিত কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন নৌঘাঁটি সংস্কারের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে ওয়াশিংটন। একই সাথে, কুয়েত ও সৌদি আরবে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি কমিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে মার্কিন প্রশাসনের দুই কর্মকর্তা জানান, ওয়াশিংটন চাইলে এই অঞ্চলের কিছু সামরিক ঘাঁটি ইসরায়েলে স্থানান্তরিত করতে পারে। বিগত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল যৌথ সামরিক অভিযানে নেমেছে। এরপর থেকে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে বাহরাইনে অবস্থিত পঞ্চম মার্কিন নৌবহরের সদর দপ্তর বারবার হামলার শিকার হয়েছে।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানাচ্ছে, এই হামলায় মার্কিন কমান্ড সদর দপ্তরসহ অন্তত ডজনখানেক স্থাপনা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে, পেন্টাগন, যা মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর, এ ব্যাপারে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির সঠিক হিসাব প্রকাশ করেনি।
এদিকে এই যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে ব্যাপক পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। সম্প্রতি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধের জন্য একটি চুক্তি সই হয়েছে। এই চুক্তি 'ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক' (এমওইউ) নামে পরিচিত। এই সমঝোতার ভিত্তিতে যুদ্ধের শর্তাবলীর আলোচনা করার জন্য ৬০ দিন যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকবে।
এ সমঝোতার পর কুইনিপিয়াক বিশ্ববিদ্যালয়ের দেশব্যাপী পরিচালিত এক জনমত জরিপ বলছে, ৬০ শতাংশ মার্কিন ভোটার মনে করেন, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক পদক্ষেপ লাভজনক হয়নি। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানে যৌথভাবে সামরিক অভিযান শুরু করে। এর মূল লক্ষ্য ছিল ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং সামরিক অবকাঠামো সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করা।
তবে, কুইনিপিয়াকের জরিপে দেখা যাচ্ছে, চলমান যুদ্ধবিরতি চুক্তির ফলে লক্ষ্য অর্জনে যুক্তরাষ্ট্রের সক্ষমতা নিয়ে জনগণের মনে সংশয় দেখা দিয়েছে। জরিপে অংশ নেওয়া ৬১ শতাংশ মানুষ বিশ্বাস করেন, এই চুক্তির পরও ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারে। এ ইস্যুতে ডেমোক্র্যাট এবং রিপাবলিকানদের মধ্যে বড় কোনো মতভেদ নেই। উভয় দলের অধিকাংশ সমর্থক মনে করেন, ইরান এখনও পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে সক্ষম।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন