প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বিএনপি নেতা নাসির উদ্দিন আহমেদ পিন্টুর মৃত্যুর ঘটনায় করা হত্যা মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তিনজন কারা কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল থেকে রাজশাহীর পিবিআই কার্যালয়ে এই জিজ্ঞাসাবাদ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় মামলার আসামি হিসেবে রাজশাহী বিভাগের তৎকালীন ডিআইজি প্রিজন বজলুর রশীদ এবং রাজশাহী কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার শফিকুল ইসলাম মুখোমুখি হয়েছেন।
এছাড়াও, মামলার সাক্ষী হালিমা খাতুনকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তিনি নারায়ণগঞ্জ কারাগারের সাবেক এবং কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের বর্তমান সিনিয়র জেল সুপার।
পিবিআই জানিয়েছে, তদন্তকারী কর্মকর্তা তাদের কাছে পিন্টুর মৃত্যুর ঘটনায় ভূমিকা সম্পর্কে প্রশ্ন করেছেন এবং প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথি সংগ্রহ করেছেন।
এ বিষয়ে রাজশাহী বিভাগের সাবেক ডিআইজি প্রিজন বজলুর রশীদ মন্তব্য করেছেন, "আমরা চাই সত্য বের হয়ে আসুক।" তিনি তদন্তে সব ধরনের সহযোগিতা প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
রাজশাহী কারাগারের সাবেক সিনিয়র জেল সুপার শফিকুল ইসলাম বলেছেন, ‘কারাবিধি মেনেই পিন্টুকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছিল।’
বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবদুল মালেক রানা জানান, পিন্টুর মৃত্যুর প্রায় ৯ বছর ৯ মাস পর, ২০২৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি রাজশাহীর আদালতে হত্যা মামলার আবেদন করেন তার ভাই নাসিম আহমেদ রিন্টু। আদালত পিবিআইকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দিয়েছে।
মামলায় শেখ হাসিনা, শেখ ফজলে নূর তাপস, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আসাদুজ্জামান খান ও আনিসুল হকসহ ২৭ জনকে আসামি করা হয়েছে। আসামিদের মধ্যে তৎকালীন আইজিপি, কারা কর্মকর্তা ও কারা চিকিৎসকও অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে যে, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে পিন্টুকে হত্যা করেছেন।
অতিরিক্ত অভিযোগ করা হয়েছে যে, নিরাপত্তার কারণে পিন্টুর জন্য কারাগারেই চিকিৎসক ডাকা হয়েছিল, কিন্তু তাকে হাসপাতালে নেয়া হয়নি। তবে তখনকার কারাগারের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
২০০১ সালে ছাত্রদলের সভাপতি থাকাকালীন পিন্টু সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরে তিনি বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পিলখানা হত্যা মামলায় তার যাবজ্জীবন এবং অস্ত্র লুটের মামলায় ১০ বছরের কারাদণ্ড হয়েছিল।
২০১৫ সালের ২০ এপ্রিল তাকে নারায়ণগঞ্জ থেকে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তর করা হয়। অসুস্থ হলে ২৬ এপ্রিল হাসপাতালে পাঠানো হয়, পরে আবার কারাগারে ফিরিয়ে আনা হয়। ৩ মে দুপুরে কারাগারে অসুস্থ হলে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
২০১৩ সালের নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনের ৭(১) ধারায় মামলাটি দায়ের করা হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন