প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নেপাল-চীন সীমান্তে হিমবাহ ধসের কারণে আকস্মিক বন্যায় হাজার হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। গত বুধবারের এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রাণ হারানোর সংখ্যা ৯০০-এর বেশি। অপরদিকে, নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় পাঁচ হাজার ব্যক্তি। সময়ের সাথে সাথে এই সংখ্যা লাফিয়ে বাড়ছে।
এদিকে, বন্যায় দুর্গতদের উদ্ধার কার্যক্রম ষষ্ঠ দিনে প্রবাহিত হচ্ছে। নিখোঁজদের সন্ধানে নেপালের বন্যাদুর্গত এলাকায় ২০ হাজারের বেশি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে, যাদের মধ্যে সামরিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অন্তর্ভুক্ত। অপরদিকে, চীনের অধীন তিব্বত অঞ্চলে সেনাবাহিনী ও পুলিশসহ বিভিন্ন সংস্থার দুই হাজারের বেশি উদ্ধারকর্মী কাজ করছেন।
গতকাল সোমবার নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি প্রশমন ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের বিবৃতিতে জানানো হয়, বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯০৩ জনে দাঁড়িয়েছে। নিখোঁজের সংখ্যা বেড়ে ৪২৪৭ জন হয়েছে, যার মধ্যে ৫৯২ জন বিদেশি নাগরিক। এছাড়া, বন্যায় দুর্গত ১০ হাজার ৪৫১ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
অন্যদিকে, গত রোববার চীনের পক্ষ থেকে প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্যে জানানো হয়, বন্যায় দেশটিতে ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ হয়েছেন ৫৪৬ জন, যাদের মধ্যে ২৬১ জন বিদেশি নাগরিক।
নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহ রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টে এই আকস্মিক দুর্যোগকে ‘অকল্পনীয় ও হৃদয়বিদারক’ হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, ‘রাসুয়ায় ভোটকোশি নদীতে ব্যাপক আকারের বন্যা মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানতে এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে। তবে বিরূপ আবহাওয়া, দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থা ও ক্রমাগত ঝুঁকির প্রতিকূল পরিবেশ অতিক্রম করে নাগরিকদের জীবন রক্ষায় আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।’
পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, নেপালের সামরিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ বিভিন্ন সংস্থার ২১ হাজারের বেশি কর্মী উদ্ধার অভিযানে যুক্ত রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী জানান, বন্যায় আহত ২৬৭ ব্যক্তিকে উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১৫৬ জন ইতোমধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন। এছাড়া, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের আর্থিক সহযোগিতাও প্রধানমন্ত্রীর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা তহবিল থেকে দেওয়া হচ্ছে।
বালেন শাহ বলেন, বন্যায় দুর্গতদের আশ্রয়ের জন্য রাসুয়া ও নুয়াকোটের বিভিন্ন স্থানে ২৬টি আশ্রয়শিবির স্থাপিত হয়েছে। রবিবার পর্যন্ত সেখানে তিন হাজার ৪৫৪ জন আশ্রয় নিয়েছেন।
বন্যায় মৃতের সংখ্যা বাড়তে থাকায় নেপালের মর্গগুলোতে লাশ ধারণক্ষমতা পূর্ণ হয়ে গেছে। এই কারণে কর্তৃপক্ষ ডিএনএ নমুনা রেখে কিছু লাশ দাফন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সোমবার কিরগিজস্তান সফররত চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সাংবাদিকদের জানান, বন্যায় নিখোঁজ চীনা ও বিদেশি নাগরিকদের সন্ধানে বেইজিং জোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া, বন্যায় দুর্গতদের পুনর্বাসন ও আহতদের চিকিৎসার জন্য সরকার কাজ করছে।
এদিকে, নেপালের ত্রিশূলী নদীতে হাইড্রোপাওয়ার প্রকল্পের টানেলে আটকেপড়া ৯০০-এর বেশি কর্মীকে উদ্ধারের জন্য উদ্ধারকর্মীরা জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে তিনশর বেশি কর্মীকে উদ্ধার করা হয়েছে। টানেলে আটকেপড়া কর্মীদের সহায়তায় ড্রিল মেশিন দিয়ে গর্ত খুঁড়ে ওই পথ দিয়ে বাতাস ও খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে।
তবে বিরূপ আবহাওয়ার কারণে শুক্রবার থেকে নেপালে কয়েক দফায় উদ্ধার অভিযান বন্ধ রাখতে হয়েছে। গত রোববার রাতভর বৃষ্টি ও নদীর পানি বেড়ে যাওয়ার কারণে উদ্ধার অভিযান স্থগিত করা হয়েছিল। পরে পানির মাত্রা কমে গেলে উদ্ধার অভিযান আবার শুরু হয়, জানায় সেনাবাহিনী।
এছাড়া, নেপালে উদ্ধার অভিযানে সহায়তার জন্য বিশেষ দল পাঠিয়েছে চীন ও ভারত। জাতিসংঘ, রেডক্রস, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া ও আমেরিকা থেকেও ত্রাণ সহায়তা পাঠানো হয়েছে দেশটিতে।
এর আগে বুধবার নেপাল ও চীনের তিব্বত সীমান্ত সংলগ্ন অঞ্চলে হিমবাহ ধসের ঘটনা ঘটে। বিজ্ঞানীদের ধারণা, দুই দেশের সীমান্তে হিমালয় পর্বতের দুর্গম ল্যাঙ্গট্যাঙ্গ লিরেঙ্গ শৃঙ্গের হিমবাহ ধস হয়েছিল। বিশাল আকৃতির এই হিমবাহ সীমান্তের লেন্দে নদীতে পড়ে পানি প্রবাহ বন্ধ করে দেয়। কিছু সময় পর জমে যাওয়া পানি প্রচণ্ড শক্তি নিয়ে তা অতিক্রম করলে পুরো অঞ্চলে আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন