প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক হামলার কারণে নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে সউদী আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর শনিবার পর্যন্ত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। হামলার পর বিমানবন্দরটির কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে। ইতোমধ্যে, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনস রিয়াদগামী এবং রিয়াদ থেকে ছেড়ে যাওয়া ফ্লাইট বাতিল করেছে।
গত শনিবার বিমানবন্দরে হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত এবং ৩০০ জনের বেশি আহত হন। রোববারের আরেক হামলায় একজন নিহত ও ১১ জন আহত হন। ধারাবাহিক এসব হামলার পর বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ রাখার সময় বাড়ানো হয়েছে। সউদী কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শনিবার পর্যন্ত বিমানবন্দরটি বন্ধ থাকতে পারে।
হুথি সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনস ও যাত্রীদের সউদী আরবের বিমানবন্দরগুলোতে ফ্লাইট পরিচালনা না করার বিষয়ে সতর্ক করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, মক্কা ও মদিনা ছাড়া দেশটির অন্যান্য বিমানবন্দরগুলো অনিরাপদ।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের জাতীয় বিমান সংস্থা ইতিহাদ এয়ারওয়েজ রিয়াদে যাওয়া-আসার ফ্লাইট বাতিল করেছে। একই সঙ্গে দাম্মাম ও জেদ্দাগামী ফ্লাইটও স্থগিত করেছে সংস্থাটি। বাহরাইনের বিমান সংস্থা গালফ এয়ারও শনিবার পর্যন্ত রিয়াদগামী সব ফ্লাইট বাতিল করেছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ডেল্টা এয়ারলাইনস ২৩ অক্টোবর আটলান্টা থেকে রিয়াদে সরাসরি ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা পিছিয়ে দিয়েছে। হামলার পর আঞ্চলিক বিমান চলাচলে বিঘ্ন বাড়ায় বিভিন্ন আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনস তাদের ফ্লাইটের সময়সূচি পুনর্বিবেচনা করছে।
এদিকে, রিয়াদ বিমানবন্দরে ধারাবাহিক হামলা ঠেকাতে সউদী আরবের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা কেন ব্যর্থ হয়েছে, তা তদন্ত করছে কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে অবগত দুই আঞ্চলিক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, হুথিরা প্রথমে কয়েকটি ড্রোন পাঠায়। এরপর ক্রুজ ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সমন্বিত হামলা চালানো হয়, যার কয়েকটি বিমানবন্দরে আঘাত হানে।
কর্মকর্তাদের মতে, হুথিদের কাছে এমন কিছু ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে, যেগুলোর ওয়ারহেড উড্ডয়নের সময় গতিপথ পরিবর্তন করতে পারে। ফলে সউদী আরবের ব্যবহৃত প্যাট্রিয়টসহ অন্যান্য ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থার পক্ষে সেগুলো প্রতিহত করা কঠিন হয়ে পড়ে। তবে এসব তথ্য প্রাথমিক তদন্তের অংশ, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়।
হামলার আগে কেন আগাম সতর্কতা দেওয়া হয়নি, সেটিও তদন্তের আওতায় রয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনগুলো এক হাজার কিলোমিটারের বেশি পথ পাড়ি দিয়ে রিয়াদে পৌঁছেছিল।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন